সাংবাদিকতা থেকে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আতিকুর রহমান রুমন

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ৩:১৪ পূর্বাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঢাকা: সাংবাদিকতা পেশা থেকে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছেন সাংবাদিক ও লেখক আতিকুর রহমান রুমন। বর্তমানে তিনি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চুক্তিভিত্তিক এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরকারি ওয়েবসাইটেও তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা আতিকুর রহমান রুমনের পেশাগত পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের দায়িত্বে আসার আগে তিনি গণমাধ্যমে সাংবাদিক, লেখক ও সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দৈনিক দিনকালের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বও গ্রহণ করেন বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

একজন সাংবাদিকের রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের দায়িত্বে আসার ফলে গণমাধ্যম ও সরকারের মধ্যকার যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর পেশাগত অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংবাদ তৈরির প্রক্রিয়া, তথ্য যাচাই, সাংবাদিকদের মাঠপর্যায়ের কাজ এবং গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের দায়িত্ব পালনে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটিতেও দায়িত্ব

রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের পাশাপাশি গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও যুক্ত হয়েছেন আতিকুর রহমান রুমন। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তাঁকে সদস্য করে প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ অনুযায়ী, ‘প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা-২০২৫’-এর আলোকে ১১ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্যতম দায়িত্ব হলো প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড প্রদান, এ-সংক্রান্ত অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নীতিমালা পর্যালোচনা।

কমিটিতে আতিকুর রহমান রুমনের পাশাপাশি সাংবাদিক প্রতিনিধি হিসেবে আরও কয়েকজন সাংবাদিককে সদস্য করা হয়েছে। ফলে সাংবাদিকদের পেশাগত পরিচয় ও অ্যাক্রিডিটেশন-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

গণমাধ্যমে সঠিক তথ্যের ওপর গুরুত্ব

সাম্প্রতিক বিভিন্ন বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন সাংবাদিকতায় তথ্যের যথার্থতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। জুলাই মাসে তিনি অপসাংবাদিকতা ও অপপ্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি কিছু সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোড়াতালি দিয়ে খবর ও ভিডিও তৈরির অভিযোগ করেন এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা বলেন।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তার এবং তথ্যের তাৎক্ষণিক প্রচারের ফলে সংবাদ যাচাইয়ের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এ বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য গণমাধ্যমের সঙ্গে নিয়মিত ও তথ্যভিত্তিক যোগাযোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সুযোগ

বাংলাদেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশন করেন। যোগাযোগব্যবস্থা, তথ্যের প্রাপ্যতা, পেশাগত নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের চাপের মধ্যেও তাঁরা কাজ করেন।

সাংবাদিকতা থেকে উঠে আসা একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের দায়িত্বে থাকায় মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রাজধানীর বাইরে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, মাঠপর্যায়ের সংবাদকে গুরুত্ব দেওয়া এবং সাংবাদিকদের পেশাগত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মহলে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে।

রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমের মধ্যে যোগাযোগ

একটি রাষ্ট্রে সরকার ও গণমাধ্যমের সম্পর্ক জনস্বার্থের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার তার সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জনগণকে জানাতে চায়, অন্যদিকে গণমাধ্যম জনগণের প্রশ্ন, প্রত্যাশা ও বিভিন্ন বাস্তবতার বিষয়গুলো সামনে নিয়ে আসে।

এই দুই পক্ষের যোগাযোগ যত বেশি তথ্যনির্ভর ও পেশাদার হয়, ততই সরকারি তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছানোর পাশাপাশি সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব হিসেবে আতিকুর রহমান রুমনের দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও গণমাধ্যমের মধ্যে যোগাযোগে ভূমিকা রাখা।

সাংবাদিকতা থেকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে নতুন অধ্যায়

আতিকুর রহমান রুমনের পেশাগত যাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দায়িত্ব একটি নতুন অধ্যায়। দীর্ঘ সাংবাদিকতা-অভিজ্ঞতার পর রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পাওয়ায় গণমাধ্যম ও সরকারি যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা তাঁর বর্তমান ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

এখন তাঁর দায়িত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সরকারি কর্মকাণ্ড ও সিদ্ধান্ত সম্পর্কে গণমাধ্যমকে তথ্য দেওয়া এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা পেশার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখাও তাঁর দায়িত্বের অংশ।

গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দায়িত্বে তাঁর সম্পৃক্ততা ইতোমধ্যে আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবের দায়িত্বের পাশাপাশি প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে সাংবাদিকতা ও রাষ্ট্রীয় যোগাযোগ—দুই ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।

সাংবাদিকতা থেকে রাষ্ট্রীয় যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসা আতিকুর রহমান রুমনের সামনে এখন বড় দায়িত্ব হলো তথ্যনির্ভর, পেশাদার ও কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা বজায় রাখা। তাঁর দীর্ঘ সাংবাদিকতা-অভিজ্ঞতা এ দায়িত্ব পালনে কীভাবে ব্যবহৃত হয়, সেটিই আগামী দিনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।