নির্বাচনের ৩ দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক চুক্তি করতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

বাংলাদেশের ওপর আরোপ করা ২০ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার নিয়ে এর আগে গত আগস্ট মাসে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হলেও তখন চুক্তি সই হয়নি। এবার ওয়াশিংটন ডিসিতে সেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করতে আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান ঢাকা ছাড়বেন। তাঁরা প্রথমে জাপান যাবেন। ৬ ফেব্রুয়ারি জাপানের রাজধানী টোকিওতে বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (বিজেইপিএ) সই হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর সেখান থেকেই তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন।

রোববার সচিবালয়ে বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরের তারিখ পেয়েছি। চুক্তির খসড়া এবং নির্ধারিত তারিখে সই করার অনুমোদন চেয়ে সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়েছে।’

পাল্টা শুল্কের হার কত হতে পারে—এ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘বর্তমানে ২০ শতাংশ শুল্ক রয়েছে। কিছু দেশের ক্ষেত্রে এই হার একই, আবার কিছু দেশের ক্ষেত্রে আরও বেশি। আমরা আশা করছি হার কিছুটা কমবে, তবে ৯ ফেব্রুয়ারির আগে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।’ এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

জাপানের সঙ্গে ইপিএ চুক্তি প্রসঙ্গে গত ২২ ডিসেম্বর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, চুক্তি স্বাক্ষরের পর প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশের ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে। অপরদিকে জাপানের ১ হাজার ৩৯টি পণ্য তাৎক্ষণিকভাবে বাংলাদেশের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে।

ভারত–ইইউ চুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নেই


ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের সাম্প্রতিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না—এ প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যসচিব বলেন, ‘উদ্বেগের কিছু নেই। তৈরি পোশাক খাতে সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে আমরা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছি। অন্যদিকে ভারত বস্ত্র খাতে শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং বৈশ্বিক বাজারে তাদের ভালো উপস্থিতি আছে। এ ছাড়া আমাদের কাঁচামালের একটি বড় অংশও আমরা ভারত থেকে আমদানি করি।’