নর্দায় খুঁটিতে বেঁধে নারীকে নির্যাতন, আটক ৫

Tajuddin Ahmed
Tajuddin Ahmed Tajuddin Ahmed
প্রকাশিত: ১:২৩ পূর্বাহ্ন, ০৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ২:০৭ পূর্বাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

রাজধানী ঢাকার গুলশানের নর্দা এলাকায় এক নারীকে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তবে ভুক্তভোগী ওই নারী বর্তমানে কোথায় আছেন, সেটি নিশ্চিত করে পুলিশ বলতে পারেনি।

রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ পাঁচজনকে আটকের তথ্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, এই পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নর্দা এলাকার মারকাজুত তা’লীম আল ইসলামী মাদরাসার সামনে ঘটনাটি ঘটে। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে গায়ে পানি ঢেলে নির্যাতন করেন।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) ওই নারীকে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। ওসি রাকিবুল হাসান জানান, ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তারা ঘটনাস্থল শনাক্ত করে সেখানকার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজ দেখেন। সেখান থেকেই পাঁচজনকে শনাক্ত করে আটক করেন।

ওসি বলেন, ফুটেজ দেখে তাদের আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে। ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলে আটকদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, খুব সকালে ওই নারী মাদরাসায় ঢোকেন। তিনি ভেতরে ঢুকে ছাত্রদের পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিলে তাকে ছাত্ররা তাকে চোর বলে সন্দেহ করেন। এ সময় তারা চিৎকার করলে স্থানীয়রা কয়েকজন সেখানে হাজির হন। কিছু শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা ওই নারীকে তখন আটক করেন।

পুলিশের হাতে আটক ব্যক্তিদের দাবি, ওই নারীকে আটক করার পর তিনি জিজ্ঞাসাবাদে ভিন্ন ভিন্ন ধরনের তথ্য দিয়েছেন। তিনি মেয়েকে ওই মাদরাসায় ভর্তি করানোর কথা বলেছিলেন, যদিও মাদরাসাটিতে কেবলই ছেলেদের ভর্তি করা হয়ে থাকে। এ কথা জানার পর ওই নারী বলেন, তিনি তার ছেলেকে ভর্তি করাতে চান। পরে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে ফেলা হয়। এ সময় চুরির অভিযোগ তুলে তার গায়ে পানি ঢেলে দেওয়া হয়।

সহকারী পুলিশ কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদ বলেন, আটকদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ওই নারীকেও খুঁজে বের করতে কাজ করছে পুলিশ। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।