প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে হামলায় গ্রেপ্তার ৯

newsdesk
newsdesk newsdesk
প্রকাশিত: ১১:২২ পূর্বাহ্ন, ২২ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১:৫৮ পূর্বাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

দুই জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার এবং দুই সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ও উদীচীর কার্যালয়ে হামলায় জড়িত সন্দেহে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসব হামলায় জড়িত হিসেবে এখন পর্যন্ত মোট ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর ‘ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে’র অংশ হিসেবে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুরের পর আগুন দেওয়া হয়। একই রাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় ছায়ানট ভবন। পরে শুক্রবার উদীচীর ঢাকা কার্যালয়ে আগুন দেওয়া হয়।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সোমবার সকাল পর্যন্ত এসব হামলায় জড়িত হিসেবে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার সাতজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। তারা হলেন— মো. কাশেম ফারুক, মো. সাইদুর রহমান, রাকিব হোসেন, মো. নাইম, ফয়সাল আহমেদ প্রান্ত, মো. সোহেল রানা ও মো. শফিকুল ইসলাম।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সাতজনের বাইরে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা পুলিশ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তাদের পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিশেষ বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৩১ জনকে প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করা হয়েছে।

শেরপুর জেলার বাসিন্দা গ্রেপ্তার রাকিব হোসেন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হয়েছেন। তার আইডি থেকে ধ্বংসস্তূপের ছবি পোস্ট করা হয়। তিনি ফেসবুকে তার আইডি থেকে উসকানিমূলক পোস্টও করেন।

ঢাকার তেজগাঁওয়ের কুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. নাইমকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এ ঘটনায় লুট হওয়া ৫০ হাজার টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, তিনি মোট এক লাখ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছেন। সে টাকা দিয়ে সে মোহাম্মদপুর থেকে একটি টিভি ও একটি ফ্রিজ কিনেছিলেন, যা এরই মধ্যে জব্দ করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকার কারওয়ান বাজার রেললাইন এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. সোহেল রানার বিরুদ্ধে মাদকসহ অন্যান্য আইনে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ১৩টি মামলা রয়েছে। একই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুটি মামলা রয়েছে।

গ্রেপ্তার বাকিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ চলছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বরাত দিয়ে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।