নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ায় প্রতিবাদ জানালো বাংলাদেশ

Shahinur Rahman Uzzol
Shahinur Rahman Uzzol Shahinur Rahman Uzzol
প্রকাশিত: ৬:৫৮ অপরাহ্ন, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১২:১১ পূর্বাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৬
ভারতের নয়াদিল্লিতে হত্যা মামলার পলাতক আসামি শেখ হাসিনাকে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। 

রবিবার (২৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত পলাতক শেখ হাসিনাকে গত ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক। ওই বক্তব্যে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশ সরকারকে অপসারণের আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ব্যাহত করতে তার দলের অনুগত ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উসকানি দেন।

বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, ভারত দ্বি-পাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে বরং তাকে ভারতের নিজস্ব মাটি থেকে এ ধরনের উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করে তোলে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে ঘৃণ্য বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের স্বীকৃত নীতিমালার পরিপন্থী। সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সু-প্রতিবেশীসুলভ আচরণের নীতি। এটি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা।

বাংলাদেশ মনে করে, এ ধরনের পদক্ষেপ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচিত সরকারগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গঠনের প্রক্রিয়াকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের এই নির্লজ্জ উস্কানি আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটিত হলে তার দায় আওয়ামী লীগকেই নিতে হবে। একই সঙ্গে এই দুষ্ট ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে বাংলাদেশ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।