জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতলো বাংলাদেশ
দুই ম্যাচ হাতে রেখে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। আজ সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ ৯ রানে হারিয়েছে সফরকারী জিম্বাবুয়েকে। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ যথাক্রমে- ৮ ও ৬ উইকেটে জিতেছিলো বাংলাদেশ।
তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৫ রান করে বাংলাদেশ। তাওহিদ হৃদয় ৩৮ বলে সংক্ষিপ্ত ভার্সনে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি তুলে ৫৭ এবং জাকের আলী ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন। জবাবে ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৬ রান করে জিম্বাবুয়ে।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নামে বাংলাদেশ। প্রথম ৩ ওভারে ২২ রান তোলেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও লিটন দাস।
চতুর্থ ওভারে দলীয় ২২ রানে বিচ্ছিন্ন তানজিদ-লিটন। ওভারে জিম্বাবুয়ের পেসার পেসার ব্লেসিং মুজারাবানির দ্বিতীয় ও তৃতীয় ডেলিভারিতে স্কুপ শট খেলতে গিয়ে বল ব্যাটে লাগাতে পারেননি লিটন। কিন্তু চতুর্থ বল ব্যাটে লাগিয়ে বোল্ড হন ১৫ বলে ২টি চারে ১২ রান করা লিটন।
লিটন আউট হওয়ার পর ক্রিজে এসে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। পঞ্চম ওভারে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার আর্ম বলে বোল্ড হন নাজমুল(৪)। লিটন-নাজমুলকে হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪২ রান তুলে বাংলাদেশ।
তৃতীয় উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেও ৩১ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি তানজিদ ও হৃদয়। নবম ওভারের শেষ বলে ছক্কা মারার চেষ্টায় ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ আউট হন তানজিদ। ১টি করে চার-ছক্কায় ২২ বলে ২১ রান করেন তিনি।
তানজিদ ফেরার পর হৃদয়ের সাথে জুটি বাঁধেন জাকের। দু’জনের সাবধানী ব্যাটিংয়ে ১২ ওভার শেষে ৩ উইকেটে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ৭৫।
১৩তম ওভার থেকে জিম্বাবুয়ের বোলারদের উপর চড়াও হন হৃদয় ও জাকের। ১৩ থেকে ১৮তম ওভারে ৬৭ রান যোগ করেন তারা। এরমধ্যে ১৮তম ওভারের প্রথম বলে ১৭ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে প্রথম হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পান হৃদয়। এজন্য ৩৪ বল খেলেছেন হৃদয়।
১৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মুজারাবানির বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৮ বলে ৫৭ রান করেন হৃদয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চতুর্থ উইকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৮৭ রানের জুটি গড়েন হৃদয়-জাকের। আগেরটি ছিলো মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের। ২০১৯ সালে এই ভেন্যুতেই চতুর্থ উইকেট জুটিতে ৭৮ রান যোগ করেছিলেন মুশফিক ও মাহমুদুল্লাহ।
হৃদয় ফেরার এক বল পর জাকেরকেও বোল্ড করেন মুজারাবানি। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন তিনি।
এরপর ইনিংসের শেষ ৭ বলে অবিচ্ছিন্ন ১৭ রান তোলেন মাহমুদুল্লাহ ও রিশাদ হোসেন। এতে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৬৫ রানের সংগ্রহ পায় বাংলাদেশ। শেষ ৭ ওভারে ৯০ রান তুলেছে টাইগাররা। মাহমুদুল্লাহ ২টি চারে ৯ এবং রিশাদ ১টি বাউন্ডারিতে ৬ রানে অপরাজিত থাকেন। জিম্বাবুয়ের মুজারাবানি ক্যারিয়ার সেরা ১৪ রানে ৩ উইকেট নেন।
১৬৬ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে তৃতীয় ওভারে উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। নিজের প্রথম ওভারেই জিম্বাবুয়ে ওপেনার জয়লর্ড গাম্বিকে ৯ রানে আউট করেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।
পঞ্চম ওভারে উইকেট শিকারে মাতেন তানজিম হাসান। নিজের বলে নিজে ক্যাচ নিয়ে ব্রায়ান বেনেটকে ৫ রানে আউট করেন তানজিদ। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ৭ রান করা ক্রেইগ আরভিনের উইকেট উপড়ে ফেলেন সাইফুদ্দিন। এতে পাওয়ার প্লেতে ৩৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
অষ্টম ওভারে দলীয় ৪৮ রানে জিম্বাবুয়ের চতুর্থ উইকেট তুলে নেন স্পিনার রিশাদ। সিকান্দার রাজাকে ১ রানে থামান তিনি।
পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ক্লাইভ মাদান্দে। তাদের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান ২১ মাস পর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বোলিংয়ে আসা মাহমুদুল্লাহ। ৩১ রান করা মারুমানিকে শিকার করেন মাহমুদুল্লাহ।
কিছুক্ষণ বাদে মাদান্দেকে ১১ রানে আউট করেন তাসকিন। ৭৩ রানে ষষ্ঠ উইকেট পতনের পর বাংলাদেশ বোলারদের উপর চড়াও হন জোনাথন ক্যাম্পেবেল। ২টি করে চার-ছক্কায় ১০ বলে ২১ রান তুলে স্পিনার তানভীরের শিকার হন তিনি।
জঙ্গিকে ২ রানে আউট করে জিম্বাবুয়েকে হারের মুখে ঠেলে দেন রিশাদ। ৯১ রানে ৮ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তবে নবম উইকেটে ৩০ বলে ৫৪ রান তুলে জিম্বাবুয়েকে লড়াইয়ে ফেরান মাসাকাদজা ও ফারাজ। শেষ ওভারে ২১ রানের প্রয়োজন পূরণ করতে না পারলে ম্যাচ হারে জিম্বাবুয়ে। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৫৬ রান করে জিম্বাবুয়ে।
মাসাকাদজা ১৩, ফারাজ ২টি করে চার-ছক্কায় ১৯ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন । বাংলাদেশের সাইফুদ্দিন ৪২ রানে ৩ ও রিশাদ ৩৮ রানে ২ উইকেট নেন।
আগামী ১০ মে মিরপুরে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশ ব্যাটিং :
লিটন ব মুজারাবানি ১২
তানজিদ ক মাদান্দে ব ফারাজ ২১
নাজমুল ব সিকান্দার ৬
হৃদয় ব মুজারাবানি ৫৭
জাকের ব মুজারাবানি ৪৪
মাহমুদুল্লাহ অপরাজিত ৯
রিশাদ অপরাজিত ৬
অতিরিক্ত (লে বা-২, নো-১, ও-৭) ১০
মোট (২০ ওভার, ৫ উইকেট) ১৬৫
উইকেটের পতন: ১-২২ (লিটন), ২-২৯ (নাজমুল), ৩-৬০ (তানজিদ), ৪-১৪৭ (হৃদয়), ৫-১৪৮ (জাকের)।
জিম্বাবুয়ে বোলিং :
ফারাজ : ৪-০-৪৪-১ (ও-৫),
মুজারাবানি : ৪-০-১৪-৩,
সিকান্দার : ৪-০-৩৮-১,
মাসাকাদজা : ৩-০-৩৪-০,
জঙ্গি : ৪-০-৩৩-০ (ও-১, নো-১)।
জিম্বাবুয়ে ব্যাটিং
গাম্বি ক মাহমুদুল্লাহ ব সাইফুদ্দিন ৯
মারুমানি ক সাইফুদ্দিন ব মাহমুদুল্লাহ ৩১
বেনেট ক এন্ড ব তানজিম ৫
আরভিন ব সাইফুদ্দিন ৭
সিকান্দার ক জাকের ব রিশাদ ১
মাদান্দে ক লিটন ব তাসকিন ১১
ক্যাম্পবেল ক লিটন ব তানভীর ২১
জঙ্গি এলবিডব্লু ব ২
মাসাকাদজা ব সাইফুদ্দিন ১৩
ফারাজ অপরাজিত ৩৪
মুজারাবানি অপরাজিত ৯
অতিরিক্ত (লে বা-২, ও-১১) ১৩
মোট (২০ ওভার, ৯ উইকেট) ১৫৬
উইকেটের পতন: ১-১৬ (গাম্বি), ২-২৪ (বেনেট), ৩-৩৩ (আরভিন), ৪-৪৮ (সিকান্দার), ৫-৬৬ (মারুমানি), ৬-৭৩ (মাদান্দে), ৭-৯১ (ক্যাম্পবেল), ৮-৯১ (জঙ্গি), ৯-১৪৫ (মাসাকাদজা)।
বাংলাদেশ বোলিং :
তানভীর : ৪-০-২৬-১,
তাসকিন : ৪-০-২১-১ (ও-১),
সাইফুদ্দিন : ৪-০-৪২-৩ (ও-৩),
তানজিম : ৪-০-২৬-১ (ও-২),
রিশাদ : ৩-০-৩৮-২ (ও-১),
মাহমুদুল্লাহ : ১-০-১-১।
ফল : বাংলাদেশ ৯ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : তাওহিদ হৃদয়(বাংলাদেশ)।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচ সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ।
সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে রোম বিমানবন্দরে আটকা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট
ইতালির রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমানটির ২৫৯ জন যাত্রী।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি রোম বিমানবন্দরে জ্বালানি ও ক্যাটারিং (খাবার) সংগ্রহের পর লন্ডনের উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়নের কথা ছিল। তবে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। সাড়ে ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিমানটি রোম বিমানবন্দর ছাড়তে পারেনি। এ সময় যাত্রীরা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন।
বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।
পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।
বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
দেশ ছাড়ার পর হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এখন কোথায়?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ও পরে তার পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের প্রায় সবাই দেশ ছেড়েছেন। জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন।
পরিবারের বাইরে শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের বড় অংশও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে গেছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।জানা গেছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে কেবল আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন পরিচিত ছিলেন না।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ। তবে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
নিউজ সূত্র: যুগান্তর
দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠিয়েছে সংসদ
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভোটার তালিকা পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইসির কাছে এই তালিকা পাঠানো হয়।তালিকা পাওয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল বা তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চায় নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি ইসি সচিব ভোটার তালিকা চাওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন।
গত সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, তারা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে অনুরোধ করেছেন।
ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং শিডিউল এই জিনিসগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সেই পদেই এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন।
তাই তাদের তালিকা নিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সরকারকে ব্যর্থ করতে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে : রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে গ্যাস, হাম, ডেঙ্গুসহ সব ধরনের সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার অঙ্গীকার মোতাবেক জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি কাজ করছেন।কিন্তু সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও তাকে ব্যর্থ করতে নানা চক্রান্ত হয়েছে। এখনো তেমন চক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষা-সংক্রান্ত সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
সভা শেষে এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী এক মাসের মধ্যে এ কর্ম পরিকল্পনা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, দূষণ যেন না বাড়ে, সেজন্য প্রতিটি কারখানায় ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নদী না বাঁচলে ক্ষতির মুখে পড়বে মানুষ ও পরিবেশ। যারা এ নির্দেশনা মানবে না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
সারা দেশের নদী দূষণমুক্ত করা হবে জানিয়েছে সিটি প্রশাসক জানান, সারা দেশের জন্যই হবে। তবে এই মুহূর্তে ঢাকাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রমটি শুরু হবে।