ধামইরহাটে আন্তঃউপজেলা ফুটবল টূর্নামেন্টের ফাইনালে চিরি পাড়ের যুব সমাজ ফুটবল টিম

মো. আবু মুছা স্বপন, নওগাঁ প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ২৫ অক্টোবর ২০২১

নওগাঁর ধামইরহাটে আন্তঃউপজেলা ফুটবল টূর্নামেন্টের সেমিফাইনাল খেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। রামনারায়নপুর একতা ক্লাবের উদ্যোগে ২৫ অক্টোবর বিকেল ৪ রামনারায়নপুর ফুটবল মাঠে সেমিফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন রাম নারায়নপুর একতা ক্লাবের সভাপতি প্রধান শিক্ষক আবু সালেহ ও পৌরসভার প্যানেল মেয়র মেহেদী হাসান। কানায় কানায় পরিপূর্ণ দর্শকদের মন মাতানো খেলা উপহার দেন ধামইরহাট পৌরসভা বনাম চিরিপাড়ের যুব সমাজ একাদ্বশ। খেলায় ট্রাইবেকারে ৪-৫ গোলে চিরিপাড়ের যুব সমাজ একাদ্বশ ফাইনালে উঠেন। খুবই শ্রীঘ্রই জাকজমক পূর্ণভাবে অনুষ্ঠিতব্য ফাইনাল খেলায় সাহাপার বরেন্দ্র ক্লাবের সাথে চুড়ান্ত প্রতিযোগিতায় লড়বেন চিড়িপাড়ের যুব সমাজ ফুটবল টিম। ধামইরহাট পৌরসভার প্যানেল মেয়র মুক্তাদিরুল হক মুক্তা, পত্নীতলা উপজেলার পাটিচরা ইউপি চেয়ারম্যান রায়হানুল আলম, ধামইরহাট উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সম্পাদক ও সরকারি এম এম কলেজের প্রভাষক মিনহাজুল হক সরকার শিবলী, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি আবু মুছা স্বপন, সাংবাদিক সুফল রায়, উপজেলা ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি নাসির মাহমুদ, ক্রীড়াপ্রেমী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফারুক হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
চিরিপাড়ের যুব সমাজ সংগঠনের সভাপতি মো. আবাবিল জানান, তরুন সমাজকে মাদক থেকে দুরে রাখতে আমাদের এই আয়োজনে অংশগ্রহণ, আশা করি চুড়ান্ত বিজয় আমরা অর্জন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
উল্লেখ্য গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫ টায় এ খেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান আজাহার আলী ও ইউএনও গনপতি রায়।

 

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপে চমক দেখানো কেপ ভার্দের কোচ বুবিস্তার পদত্যাগ

| প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপে কেপ ভার্দের ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্য কারিগর পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো (বুবিস্তা) জাতীয় দলের প্রধান কোচের পদ ছাড়তে যাচ্ছেন। বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার এক মাসের মধ্যেই তাঁর বিদায়ের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলো। আগামী মৌসুমে মরক্কোর শীর্ষ ক্লাব ‘রেনেসা বেরকানে’র ডাগআউটে দেখা যাবে এই অভিজ্ঞ কোচকে।

চলতি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছিল মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ মানুষের দেশ কেপ ভার্দে। তবে অভিষেকেই শুধু অংশগ্রহণে সীমাবদ্ধ থাকেনি দলটি; বুবিস্তার কৌশলী পরিকল্পনা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলে ভর করে গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেয় আফ্রিকার দেশটি। নকআউট পর্বে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুললেও শেষ পর্যন্ত বিদায় নিতে হয় তাদের। তবে প্রথম বিশ্বকাপেই কেপ ভার্দের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বিশ্বমঞ্চে এই সাফল্যের পরই পেশাদার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায়ে পা রাখছেন ৫৬ বছর বয়সি বুবিস্তা। মরক্কোর ক্লাব ‘রেনেসা বেরকানে’ ইতোমধ্যে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন তিনি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কেপ ভার্দে ফুটবল ফেডারেশনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেবেন এই কোচ।

তবে ক্লাব ফুটবলে বুবিস্তার নতুন এই যাত্রা বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে। রেনেসা বেরকানে ২০২৫ মৌসুমে মরোক্কান লিগের শিরোপা জিতেছিল এবং সর্বশেষ মৌসুমে রানার্সআপ হয়। এছাড়া দলটি আফ্রিকান চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালেও খেলেছে। জাতীয় দলকে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ানোর পর এবার ক্লাবের হয়ে সাফল্যের ধারা ধরে রাখতে পারেন কি না, সেটিই হবে বুবিস্তার সামনের বড় পরীক্ষা।

পরবর্তী খবর

খুব শিগগিরই দেশে ফিরতে পারব’— আশাবাদী সাকিব আল হাসান

| প্রকাশিত: ১:৪৬ অপরাহ্ন, ২৯ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশে ফেরার অনিশ্চয়তা এখনও কাটেনি সাকিব আল হাসানের। জাতীয় দল কিংবা দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে দেখা না মিললেও বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে নিয়মিত খেলছেন তিনি। তবে সব জটিলতার মধ্যেও শিগগিরই দেশে ফিরতে পারবেন বলে আশাবাদী এই অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার।

বর্তমানে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে (এলপিএল) খেলছেন সাকিব। টুর্নামেন্ট শেষে নেপাল প্রিমিয়ার লিগে অংশ নেওয়ারও কথা রয়েছে তাঁর। ইতোমধ্যে সেই আসরের একটি দলেও নাম লিখিয়েছেন তিনি।

বিদেশি লিগে ব্যস্ত থাকলেও নানা কারণে দেশে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না সাকিবের। ফলে জাতীয় দলে ফেরার পাশাপাশি দেশের কোনো ঘরোয়া প্রতিযোগিতাতেও অংশ নিতে পারছেন না তিনি।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তাঁর দীর্ঘদিনের সতীর্থ তামিম ইকবাল। এতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, সাকিবের দেশে ফেরার পথ সহজ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর তামিমের সঙ্গে তাঁর একবার কথা হয়েছে। তবে সেই আলোচনা ছিল মূলত ‘ক্যাপ্টেন কার্ড’ ইস্যু নিয়ে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রেভ স্পোর্টসকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাকিব বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই। আমরা সবাই বাংলাদেশকে মিস করি। দেশে ফেরার ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী যে খুব শিগগিরই এটা সম্ভব হবে।”

এ সময় তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, দেশের ক্রিকেটে এত অবদান রাখার পরও ফিরতে না পারাটা অন্যায় বলে মনে করেন কি না। জবাবে সাকিব বলেন, “আমি কী ভাবছি সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো সাধারণ মানুষ কী ভাবছে। তারা যদি মনে করে আমার সঙ্গে অন্যায় করা হয়েছে, তাহলে হয়তো তাই।”


পরবর্তী খবর

ফিফার ওপর ক্ষুব্ধ উয়েফা সভাপতি সেফরিন, দেখতে যাননি ফাইনাল ম্যাচ

| প্রকাশিত: ৪:৩৩ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনাল থেকে দূরে থেকেছেন উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্দার সেফেরিন। ফিফার সাম্প্রতিক কয়েকটি সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনাল ম্যাচে উপস্থিত হননি বলে ইউরোপীয় ফুটবল মহলে আলোচনা চলছে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ উপলক্ষে তিনি মেক্সিকো সিটিতে গিয়েছিলেন। তবে রোববারের ফাইনালের আগে যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও ভেন্যুতে যাননি।

সবচেয়ে বড় বিতর্ক তৈরি হয় যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগানকে ঘিরে। শেষ ষোলোতে লাল কার্ড দেখার পর তার নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে ফিফা। এই সিদ্ধান্তের পর উয়েফা প্রকাশ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়।

তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত প্রতিযোগিতার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে। ইউরোপীয় ফুটবল কর্তৃপক্ষের মতে, নিয়মের প্রয়োগে অসঙ্গতি গ্রহণযোগ্য নয়।


ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নতুন কিছু উদ্যোগ নিয়েও সেফেরিনের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ ফাইনালে হাফ টাইম শো আয়োজনের ধারণার বিরোধিতা করছেন তিনি।

এবারের ফাইনালে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক তারকার পরিবেশনার কারণে বিরতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অনেক দীর্ঘ হয়। সেফেরিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে এমন আয়োজনের পরিকল্পনা নেই।

দুই সংস্থার মতপার্থক্য শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও উয়েফা সমর্থন করছে না। পাশাপাশি ভিএআর ব্যবহারের কিছু নতুন প্রোটোকল নিয়েও তাদের অবস্থান আলাদা।

বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়েও ফিফার সমালোচনা করেছে উয়েফা। সংস্থাটি দাবি করেছে, ২০২৮ ইউরোতে দর্শকদের জন্য টিকিটের দাম তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রাখা হবে।

সব মিলিয়ে ইনফান্তিনোর ফিফা ও সেফেরিনের উয়েফার মধ্যে নীতিগত দূরত্ব এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

পরবর্তী খবর

সব ভুলে যাও’— মেসির বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা

| প্রকাশিত: ৪:৩১ অপরাহ্ন, ২১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা ড্রেসিংরুমের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে লিওনেল মেসির কিছু কথা নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, ড্রেসিংরুম থেকে বের হওয়ার সময় সতীর্থদের উদ্দেশে কথা বলছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের দাবি, তিনি বলেন, ‘সবাই শান্ত হও। আমাদের শান্ত থাকতে হবে।’ এরপর যোগ করেন, ‘এসো সবকিছু ভুলে যাই। আমরা শুধু খেলি। চলো শুধু খেলায় মন দিই।’

মেসির এই বক্তব্যের শেষ অংশই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। ভিডিওতে সতীর্থদের উত্তেজিত মনে না হলেও প্রশ্ন উঠেছে, তিনি ঠিক কোন বিষয় ‘ভুলে যেতে’ বলেছিলেন।


ফাইনালের আগে আর্জেন্টিনা নানা সমালোচনার মুখে ছিল। বিশেষ করে স্পেনের পক্ষ থেকে রেফারিংয়ে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

স্প্যানিশ ডিফেন্ডার এমেরিক লাপোর্ত তখন বলেছিলেন, সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে কিছু রেফারিং সিদ্ধান্ত তাকে বিস্মিত করেছে এবং কয়েকটি ঘটনায় শাস্তি না হওয়ায় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

নিউ জার্সির ফাইনালে শেষ পর্যন্ত স্পেন ১-০ ব্যবধানে জিতে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপ শিরোপা ঘরে তোলে। ম্যাচ চলাকালে বড় কোনো রেফারিং বিতর্ক না থাকলেও শেষ বাঁশির পর দুই দলের খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

এই ঘটনার পর ফিফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। মেসির ভাইরাল ভিডিওর সঙ্গে সেই উত্তেজনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।


পরবর্তী খবর

চ্যাম্পিয়ন স্পেন পেল ৬১৫ কোটি টাকা, বাকিরা কে পেল কত

| প্রকাশিত: ৩:২১ অপরাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের নতুন চ্যাম্পিয়ন হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি স্পেন। বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের পাশাপাশি তাদের জন্য বরাদ্দ টাকার অঙ্কও নেহায়েত কম নয়। বরং এবারের বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ছাড়িয়ে গেছে আগের যেকোনো আসরকে। চ্যাম্পিয়ন দল স্পেনই যেমন এবার পেয়েছে ৫ কোটি ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২৩ টাকা হিসাবে) যার পরিমাণ প্রায় ৬১৫ কোটি টাকা! এমনকি গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়া দলগুলোও প্রাইজমানি হিসেবে পেয়েছে ১১০ কোটি টাকা।

রানার-আপ আর্জেন্টিনার জন্যও প্রাপ্তি কম নয়, ৩ কোটি ৩০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে থাকা ইংল্যান্ড পেয়েছে ৩৫৬ কোটি টাকা (২ কোটি ৯০ লাখ ডলার), আর চতুর্থ স্থানে থাকা ফ্রান্স পেয়েছে ৩৩২ কোটি টাকা (২ কোটি ৭০ লাখ ডলার)।

প্রাইজমানিতে বড় উল্লম্ফনটা ঘটেছে চ্যাম্পিয়ন টিমের জন্যই। গত বিশ্বকাপে তারা পেয়েছিল ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এবার ৮০ লাখ ডলার বেশি পেয়েছে চ্যাম্পিয়ন টিম। রানার-আপ টিম গত বিশ্বকাপের তুলনায় বেশি পেয়েছে ৩০ লাখ ডলার। এ ছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে দলগুলো ২০ লাখ ডলার করে বেশি পেয়েছে আগের বিশ্বকাপ থেকে।


এদিকে কোয়ার্টার ফাইনালে বাদ পড়া চার দল নরওয়ে, বেলজিয়াম, মরক্কো ও সুইজারল্যান্ড পেয়েছে ১ কোটি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ২৩৩ কোটি টাকা।

এর আগে শেষ ষোলো থেকে বাদ পড়েছে আট দল— মেক্সিকো, কলম্বিয়া, ব্রাজিল, যুক্তরাষ্ট্র, পর্তুগাল, কানাডা, মিশর, প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপ থেকে তাদের প্রাপ্তি ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ১৮৪ কোটি টাকা।

শেষ ৩২ থেকে যে ১৬টি বাদ পড়েছিল তারা প্রত্যেকে পেয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা। দলগুলো হলো— নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, আইভরি কোস্ট, ক্রোয়েশিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ডিআর কঙ্গো, ঘানা, ইকুয়েডর, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলজেরিয়া, সেনেগাল এবং কেপ ভার্দে।


সবশেষে থাকছে গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার ১৬ দল— ইরান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, স্কটল্যান্ড, উরুগুয়ে, সৌদি আরব, চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র), নিউজিল্যান্ড, কাতার, কুরাসাও, পানামা, জর্ডান, হাইতি, উজবেকিস্তান, তিউনিসিয়া ও ইরাক। তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্তি ৯০ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১১০ কোটি টাকা।

এর বাইরেও প্রতিটি দলকে প্রস্তুতিমূলক খরচ বাবদ ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ১৮৪ কোটি টাকা করে দিয়েছিল ফিফা।

এবারের বিশ্বকাপের এই বিপুল পরিমাণ ও রেকর্ড প্রাইজমানির কথা ফিফা আগেই বলেছিল। কাতারের দোহায় ফিফা কাউন্সিলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে এবার ৭২ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার বিতরণ করা হবে। এ অর্থ কাতার গত বিশ্বকাপের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।


পরবর্তী খবর

পাঁচ বছরে ১৬টি শিরোপা, কেন স্পেন এখন ফুটবলের সবচেয়ে অদম্য শক্তি

| প্রকাশিত: ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, ২০ জুলাই ২০২৬

দুই বছর আগে বার্লিনে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর, এবার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলো লা রোহা।

এর আগে ২০০৮ সালে ইউরো জয়ের দুই বছর পর ২০১০ সালেও তারা বিশ্বকাপ জিতে একই কীর্তি গড়েছিল।

স্পেনের এই সর্বশেষ সাফল্য পুরুষ ও নারী—উভয় ফুটবলে তাদের অসাধারণ আধিপত্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো দেশ একই সময়ে পুরুষ ও নারী- দুই বিভাগেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেনের নারীরা ২০২৩ সালে সিডনিতে অনুষ্ঠিত নারী বিশ্বকাপ জিতেছিল।

এটাই শেষ নয়। পুরুষ দল ২০২৩ সালে নেশনস লিগ এবং ২০২৪ সালে অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জিতেছে। অন্যদিকে নারীরা ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার নেশনস লিগের শিরোপা জিতেছে।

প্রকৃতপক্ষে গত পাঁচ বছরে অনূর্ধ্ব-১৭ থেকে সিনিয়র পর্যায় পর্যন্ত স্পেন মোট ১৬টি বিশ্ব ও ইউরোপীয় শিরোপা জিতেছে।

স্প্যানিশ ফুটবল বিশেষজ্ঞ গিয়েম বালাগে বিবিসি স্পোর্টকে বলেছেন, "এটি একটি আধিপত্য"।

"এটা যেন সবকিছু একসঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলে যাওয়া। আমাদের সংস্কৃতিগতভাবে একটি নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে এবং সবাই সেটিতে বিশ্বাস করে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা থেমে থাকি না," বলেছেন তিনি।

"এটি আরেকটি এভারেস্ট জয়ের মতো, কারণ ২০১০ সালে পুরুষ দল ইউরো জয়ের দুই বছর পর বিশ্বকাপ জিতেছিল। এবারও আমরা একই কাজ করলাম"।

স্পেনের জয়ের মেশিন

নারী ফুটবল (২০২২-২০২৬: মোট ১১টি শিরোপা)

সিনিয়র দল-

১টি বিশ্বকাপ (২০২৩)

২টি নেশনস লিগ (২০২৪, ২০২৫)

অনূর্ধ্ব-২০: ১টি বিশ্বকাপ (২০২২)

অনূর্ধ্ব-১৯: ৫টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২২, ২০২৩, ২০২৪, ২০২৫, ২০২৬)

অনূর্ধ্ব-১৭: ১টি বিশ্বকাপ (২০২২) ও ১টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪)

পুরুষ ফুটবল (২০২২-২০২৬: মোট ৫টি শিরোপা)

সিনিয়র দল- ১টি বিশ্বকাপ (২০২৬) , ১টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪) ও ১টি নেশনস লিগ (২০২৩)

অনূর্ধ্ব-২৩: ১টি অলিম্পিক স্বর্ণপদক (২০২৪)

অনূর্ধ্ব-১৯: ১টি ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৬)

দে লা ফুয়েন্তেকে নিয়োগ দেওয়া ছিল ঝুঁকিপূর্ণ

লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে যখন স্পেন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়, তখন খুব কম মানুষই ধারণা করেছিলেন যে এত অল্প সময়ে তিনি নেশনস লিগ (২০২৩), ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ (২০২৪) এবং বিশ্বকাপ (২০২৬) জয় করাবেন।


কাতার বিশ্বকাপে মরক্কোর কাছে শেষ ষোলোতে বিদায় নেওয়ার পর লুইস এনরিকে দায়িত্ব ছেড়ে দেন, ফলে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনকে নতুন কোচ খুঁজতে হয়েছিল।

বালাগে বলছেন, "তারা এমন একজনকে বেছে নিয়েছিল, যিনি স্পেনের খেলার ধরণ এবং পুরো ব্যবস্থাটি খুব ভালোভাবে বুঝতেন। এটি ছিল খুবই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত। আমার মনে হয় না কেউ ভাবতে পেরেছিল তিনি এতটা সফল হবেন"।

এই সিদ্ধান্তকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ার কারণ ছিল, দে লা ফুয়েন্তে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার আগে কখনো কোনো বড় ক্লাব পরিচালনা করেননি।

১৯৯৪ সালে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর তিনি বিভিন্ন ক্লাবে প্রায় ১৫ বছর ধরে নানা দায়িত্ব পালন করেন। নিচের ধাপের লিগের কোচিং, যুব দলের দায়িত্ব এবং সহকারী কোচ হিসেবে কাজ করার পর তিনি স্পেনের যুব দলগুলোর কোচ হন।

স্পেনের সাবেক মিডফিল্ডার হুয়ান মাতা বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, "দে লা ফুয়েন্তে একাডেমি থেকেই এই খেলোয়াড়দের অধিকাংশকে চিনতেন এবং তারা দল হিসেবে একসঙ্গে বেড়ে উঠেছে। এটি শুধু বর্তমানের দল নয়, ভবিষ্যতের জন্যও একটি অসাধারণ দল"।

অনূর্ধ্ব-১৯, অনূর্ধ্ব-২১ এবং অলিম্পিক দলের দায়িত্ব পালনের পর সিনিয়র দলের কোচ হওয়া দে লা ফুয়েন্তে প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান, ধৈর্য এবং শান্ত থাকার সংস্কৃতি গড়ে তুলেছেন।

শুক্রবার নিউইয়র্কে ফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে ৬৫ বছর বয়সী এই কোচ বলেন, "তোমাদের বেশিরভাগই আমার চেয়ে ছোট, তাই অভিজ্ঞতাকে সম্মান করতে শিখতে হবে।

ম্যাচ শেষ হওয়ার পর কয়েকজন ফুটবলার আমাকে বলেছিল, কোচ, এখন আর জেতার কী বাকি আছে? আমরা তো সব বয়সভিত্তিক পর্যায়েই সবকিছু জিতে ফেলেছি। তখন আমরা সিদ্ধান্তে পৌঁছাই যে এখন আমাদের লক্ষ্য শুধু সেপ্টেম্বরের পরবর্তী ম্যাচ, কারণ এই দল কখনো থামে না"।

জাতীয় দলের এই সাফল্যের প্রভাব ক্লাব ফুটবলেও পড়েছে।

পেপ গার্দিওলা ম্যানচেস্টার সিটিতে ট্রফিভরা ১০ বছর কাটিয়ে ক্লাব ছেড়ে দিলেও, ২০২৬-২৭ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে দায়িত্ব নেওয়া কোচদের অন্তত এক-চতুর্থাংশই স্প্যানিশ।

বর্তমানে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে স্পেন টানা ৩৮ ম্যাচ অপরাজিত, যা ইউরোপ বা দক্ষিণ আমেরিকার কোনো দলের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ অপরাজিত থাকার রেকর্ড।

'আমরা সবকিছুই জিতছি'

এদিকে গত এক দশকে স্পেনে নারী ফুটবলের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং এখন তারাও বড় মঞ্চের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করছে।

তিন বছর আগে নারী বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে স্পেন যে শিরোপা জিতেছিল, সেটি ছিল এই টুর্নামেন্টে তাদের মাত্র তৃতীয় অংশগ্রহণ। তারা প্রথমবারের মতো নারী বিশ্বকাপে খেলেছিল ২০১৫ সালে।

এরপর স্পেনের নারী দল ২০২৪ ও ২০২৫ সালে টানা দুইবার নেশনস লিগ জিতে সেই সাফল্যের ধারা বজায় রাখে।

স্পেনের সাবেক ফুটবলার এবং বর্তমানে সাংবাদিক মারিয়া গারিদো ২০২৪ সালে বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, "স্পেনে নারী ফুটবলের পরিবর্তন সত্যিই অসাধারণ। দশ বছর আগে, যখন আমি এফসি বার্সেলোনার হয়ে খেলতাম, তখন মেয়েদের জন্য লা মাসিয়া (বার্সেলোনার বিখ্যাত ফুটবল একাডেমি) ছিল না। আমাদের যাতায়াতের খরচ নিজেদেরই বহন করতে হতো, বাবা-মায়েরা আমাদের অনুশীলনে নিয়ে যেতেন, আর আমরা কোনো পারিশ্রমিকই পেতাম না"।

"কিন্তু গত পাঁচ বছরে পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে বদলে গেছে। নারী ফুটবলের উন্নয়নে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও বেশি বয়সভিত্তিক দল গঠন, উন্নত সুযোগ-সুবিধা ও প্রশিক্ষণ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং মেয়েদের জন্য আলাদা ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠা। এই পরিবর্তন শুধু নারী ফুটবলে বিপ্লবই ঘটায়নি, বরং স্পেনে নারী ফুটবলের প্রতি মানুষের সম্মানও অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে," বলেছেন তিনি।

পুরুষ ও নারী—উভয় জাতীয় দলের এই সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল গত এক দশকে বিভিন্ন বয়সভিত্তিক পর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে অসংখ্য শিরোপা জয়ের মাধ্যমে।


জয় আরও জয়ের জন্ম দেয়'

স্পেনের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল বলে মনে করা হচ্ছে। অনেকের বিশ্বাস, দেশটির এই আধিপত্য আরও লম্বা সময় ধরে অব্যাহত থাকবে।

পুরুষ দলে লামিনে ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি- এই দুই অসাধারণ তরুণ প্রতিভা মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপজয়ী পদক জিতেছে।

একই বয়সে স্পেনের নারী দলের খেলোয়াড় ভিকি লোপেজ বার্সেলোনার হয়ে তিনবার উয়েফা নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন।

এছাড়া ফরোয়ার্ড সালমা পারাইয়ুয়েলো ২৩ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই স্পেন জাতীয় দলের হয়ে ৫০টিরও বেশি ম্যাচ খেলেছেন।

ইয়ামাল বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলা ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন। তার আগে রয়েছেন ব্রাজিলের পেলে (১৯৫৮ সালে ১৭ বছর ২৪৯ দিন বয়সে) এবং ইতালির জিউসেপ্পে বার্গোমি (১৯৮২ সালে ১৮ বছর ২০১ দিন বয়সে)।

অন্যদিকে ১৯ বছর ১৭৮ দিন বয়সে কুবারসিও রবিবারের ফাইনালে শুরুর একাদশে ছিলেন। ফলে স্পেনই বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম দল যারা এক ম্যাচে দুইজন কিশোর (টিনএজার) খেলোয়াড়কে মাঠে নামিয়েছে।

আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের পর ইংল্যান্ডের সাবেক গোলরক্ষক জো হার্ট বিবিসি স্পোর্টকে বলেন, "স্পেনের খেলার ধরন এমন, যার কাছাকাছিও পৃথিবীর আর কোনো দল পৌঁছাতে পারেনি। এই বিশ্বকাপে কেউই তাদের চাপে ফেলতে পারেনি। পুরো টুর্নামেন্টে তাদের পোস্ট লক্ষ্য করে মাত্র ১০টি শট হয়েছে"।

এদিকে, ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি ফক্স স্পোর্টসকে বলেন, স্পেনের সামনে আরও বহু বছর বিশ্ব ফুটবলে আধিপত্য বিস্তারের সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি বলেন, "আমি তাদের পুরো ফুটবল কাঠামো এবং যে ব্যবস্থা তারা গড়ে তুলেছে, তার কৃতিত্ব দিতে চাই। কারণ আগে স্পেন এভাবে জিতত না। কিন্তু এখন তারা প্রতিটি স্তরেই শিরোপা জিতছে"।


পরবর্তী খবর

ইংল্যান্ডকে বিদায় করে ফাইনালে আর্জেন্টিনা

| প্রকাশিত: ১১:৩৬ পূর্বাহ্ন, ১৬ জুলাই ২০২৬

পিছিয়ে থেকেও লটারো মার্টিনেজের ৯২ মিনিটের গোলে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে। যেখানে তাদের জন্য অপেক্ষায় আছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন। 

১৯৬৬ সালের পর প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার পথে বেশ ভালভাবেই এগিয়ে যাচ্ছিল ইংল্যান্ড। এন্থনি গর্ডনের ৫৫ মিনিটের গোলে আটালান্টার ৬৮ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে ইংল্যান্ড শিবির উল্লাসে ফেটে পড়ে।

এই দুই দেশের ঐতিহাসিক প্রতিদ্বন্দ্বীতা বিশ্বকাপের মঞ্চে বেশ কিছু স্মরণীয় ম্যাচ উপহার দিয়েছে। আর এবারও সেই তালিকায় যুক্ত হলো আরেকটি অবিস্মরণীয় লড়াই। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে আর্জেন্টিনার দুটি বিধ্বংসী আঘাতে স্বপ্নভঙ্গ হলো ইংল্যান্ডের।

ম্যাচের ৮৫তম মিনিটে লিওনেল মেসির পাস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ সমতা ফেরান। এরপর যখন ম্যাচ অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর অপেক্ষায়, তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে বদলি খেলোয়াড় লটারো মার্টিনেজ হেডে জয়সূচক গোলটি করেন।

১৯৮৬ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দিয়েগো ম্যারাডোনার অসাধারণ পারফরম্যান্সের সঙ্গে হয়তো এই ম্যাচের তুলনা চলে না, কিন্তু এবারও আর্জেন্টিনা যেন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে এলো এবং টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখল।

১৯৬২ সালে ব্রাজিলের পর আর কোনো দল বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি। মেসি ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার কৃতিত্ব অর্জন করলেন।

আগামী রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। ৪৮ দলের এই প্রথম বিশ্বকাপের শেষ লড়াইয়ো মুখোমুখি হবে ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

৩৯ বছর বয়সে এসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন মেসি। এবার প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে প্রথমবারের মতো তার প্রতিপক্ষ হবে স্পেন।

২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা উপহার দেবার পর অনেকের কাছেই মনে হয়েছিল মেসির ক্যারিয়ার শেষের পথে। কিন্তু তিনি যে এখনও শেষ হযয় যাননি, সেটিই আবারও প্রমাণ করলেন।

অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো। শনিবার মিয়ামিতে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। বিশ্বকাপে এটি এমন একটি ম্যাচ, যা কোনো দলই খেলতে চায় না।

৬০ বছর আগে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর প্রথমবারের মতো আবারও ফাইনালে ওঠার হাতছানি ছিল ইংল্যান্ডের সামনে। তারা খুব কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু অ্যান্থনি গর্ডনের গোলের পর অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ার মূল্য চুকাতে হলো।

এই টুর্নামেন্টে থমাস টাচেলের দলের ভরসা ছিলেন জুড বেলিংহাম ও অধিনায়ক হ্যারি কেন। কিন্তু এই ম্যাচে দুজনের কেউই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় মাঠে লুটিয়ে পড়েন ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা।

দুই দেশের দীর্ঘদিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বীতার কারণে শুরু থেকেই এই ম্যাচে উত্তেজনার আবহ ছিল। মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সেই চাপা টানটান উত্তেজনা স্পষ্ট অনুভূত হচ্ছিল।

বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার দৃঢ় সংকল্পের পাশাপাশি এই ম্যাচের ঐতিহাসিক গুরুত্বও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের প্রবলভাবে উজ্জীবিত করেছিল। ফলে প্রথমার্ধ জুড়ে দুই দলই বেশ কিছু ফাউল করেছে। এমনই এক মুহূর্তে লিওনেল মেসিকে কঠোর ট্যাকলে ফেলে দেওয়ায় এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন। প্রথমার্ধে উল্লেখ করার মতো তেমন কোনো গোলের সুযোগ তৈরি হয়নি। 

দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে। তারই ধারাবাহিকতায় ৫৫তম মিনিটে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। আক্রমণ গড়ে তোলার শুরুতে হ্যারি কেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ডান প্রান্ত থেকে মর্গান রজার্সের নিচু ক্রসে পোস্টের সামনে নাহুয়েল মোলিনাকে ফাঁকি দিয়ে অ্যান্থনি গর্ডন বল জালে পাঠান। 

এই একই স্টেডিয়ামে শেষ ষোলোতে মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তে দুর্দান্ত এক জয় নিশ্চিত করেছিল আর্জেন্টিনা। এবারও তারা হাল ছাড়েনি।

সমতা ফেরাতে সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। নিকো গঞ্জালেসের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর ৭৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এনজো ফার্নান্দেজের দুরপাল্লার শটও রুখে দেন পিকফোর্ড। কিন্তু অল্পক্ষণ পরই তিনি আর কিছু করতে পারেননি। বক্সের প্রান্তে মেসির পাস থেকে দুর্দান্ত শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে সমতা ফেরান ফার্নান্দেজ।

ম্যাচে ফিরে উজ্জীবিত আর্জেন্টিনা আরও বেশী আক্রমনাত্মক হয়ে উঠে। ম্যাক অ্যালিস্টারের আরেকটি প্রচেষ্টা আবারও পোস্টে লাগে। এরপর ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগ বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে মেসির অসাধারণ ক্রস থেকে লটারো মার্টিনেজ হেডে দলের জয় নিশ্চিত করেন। 

পরবর্তী খবর

ইয়ামাল আমাদের অসম্মান করেনি: কুন্দে

| প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে স্পেন-ফ্রান্স মহারণের আগে লামিনে ইয়ামালের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য নিয়ে যখন তুমুল আলোচনা, তখন সেই বিতর্কে পানি ঢেলে দিলেন ফ্রান্সের ডিফেন্ডার জুল কুন্দে। বার্সেলোনায় ইয়ামালের সতীর্থ কুন্দে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ফরাসি দল লামিনের কথাকে কোনোভাবেই অসম্মান হিসেবে নেয়নি।

স্পেনের ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড লামিন ইয়ামাল সম্প্রতি বলেছিলেন, ‘যদি কোনো দলকে ভয় পেতে হয়, তাহলে ফ্রান্সের স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সকে স্পেনের চেয়ে ভালো দল বলা যায় না, কারণ সাম্প্রতিক বড় আসরগুলোতে স্পেনই জয় পেয়েছে। এই মন্তব্য নিয়েই শুরু হয় আলোচনা।’



তবে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কুন্দে বলেন, ‘কোনো মুহূর্তেই আমরা লামিনের পক্ষ থেকে অসম্মান অনুভব করিনি। আমি ওকে খুব ভালোভাবে চিনি। এটা ওর নিজের এবং দলের প্রতি আত্মবিশ্বাসের প্রকাশ।’

বার্সেলোনা ডিফেন্ডার আরও বলেন, ‘বার্সেলোনাতেও সে এমনই। সে যা বিশ্বাস করে, সেটাই বলে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

সেমিফাইনাল নিয়ে কুন্দে বলেন, ‘স্পেন ও ফ্রান্স দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে ভালোবাসে। তাই ম্যাচে বলের দখল বড় ভূমিকা রাখবে। স্পেন দীর্ঘ সময় বল দখলে রাখতে পারলে তারা খুবই বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। তাই আমাদেরও বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হবে।’



স্পেনের বিপক্ষে সাম্প্রতিক ব্যর্থতার প্রসঙ্গও উঠে আসে কুন্দের কথায়। তবে তিনি জানান, অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চান না। তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোর ফল অবশ্যই আমাদের পক্ষে ছিল না। আমরা সেটা জানি। কিন্তু সেটা নিয়ে আমি আচ্ছন্ন নই বা কষ্ট পাচ্ছি না।’

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হওয়ার আগে দুই ইউরোপিয়ান পরাশক্তির লড়াই তাই শুধু মাঠেই নয়, কথার লড়াইয়েও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। তবে কুন্দের বক্তব্যে পরিষ্কার, ফরাসি শিবির ইয়ামালের মন্তব্যকে উসকানি নয়, বরং একজন তরুণ তারকার আত্মবিশ্বাস হিসেবেই দেখছে।

পরবর্তী খবর

ইতিহাসে প্রথমবার র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষ ৪ চার দল সেমিফাইনালে

| প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, ১২ জুলাই ২০২৬

কোয়ার্টার ফাইনালের খেলা শেষ। নিশ্চিত হয়েছে সেমিফাইনালের লাইনআপ। প্রথম সেমিতে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে স্পেনের। মাত্রই শেষ হওয়া ম্যাচ জিতে যাওয়ায় আরেক সেমিতে আর্জেন্টিনা মুখোমুখি ইংল্যান্ডের। আর এর মাধ্যমেই ঘটেছে এমন একটি ঘটনা, যা প্রায় শত বছর পূর্ণ হতে যাওয়া ফুটবল বিশ্বকাপে এই প্রথম।

হ্যাঁ, এবার যে চারটি দল বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে, সেই চারটি দলই রয়েছে ফিফা ফুটবল র‍্যাংকিংয়ের প্রথম চারটি স্থানে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর কখনো র‍্যাংকিংয়ের প্রথম চার দল সেমিফাইনাল খেলার সুযোগ পায়নি।


ফিফার সবশেষ আপডেট অনুযায়ী, পুরুষ ফুটবল দলগুলোর মধ্যে র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থানে রয়েছে কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স। দ্বিতীয় স্থান লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার। অন্যদিকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লামিনা ইয়ামালের স্পেন। আর হ্যারি কেইনের ইংল্যান্ড রয়েছে চতুর্থ স্থানে। সে হিসাবে র‍্যাংকিংয়ের প্রথম ও তৃতীয় দল মুখোমুখি হবে এক সেমিফাইনালে, আরেক সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দ্বিতীয় ও চতুর্থ দল।

বিশ্বকাপের ড্রয়ের আগেই ফিফা ‘প্রটেক্টেড ব্র্যাকেট’ তৈরি করে, যেখানে র‍্যাংকিংয়ের প্রথম চারটি দলের বিশ্বকাপ গ্রুপ এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়, যেন তারা নিজেদের সব ম্যাচ জিতলে সেমিফাইনালের আগে মুখোমুখি না হয়।

অন্যান্য বছরের ক্ষেত্রেও একই কৌশল নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মাঠের খেলায় কখনোই শীর্ষ চার দল একসঙ্গে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে পারেনি। কোনো না কোনো দল শীর্ষ চার দলের এক বা একাধিক দলকে ছিটকে দিয়েছে। এবার আর সেটি হয়নি।



কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্স হারিয়েছে মরক্কোকে। বেলজিয়ামকে হারিয়েছে স্পেন। ইংল্যান্ড হারিয়েছে নরওয়েকে। ওই ম্যাচের পরই শীর্ষ তিন দলের সেমি নিশ্চিত হয়। বাকি ছিল আর্জেন্টিনা। সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে তারাও স্থান করে নিয়েছে সেমিফাইনালের চতুর্থ দল হিসেবে।

তাতেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আকর্ষণীয় ও শক্তিশালী সেমিফাইনাল লাইনআপ এবার বাস্তবে রূপ নিয়েছে। দেখার বিষয়, শীর্ষ চার দলের মধ্যে কোন দুই দল মুখোমুখি হয় ফাইনালে।


পরবর্তী খবর

মিশর-আর্জেন্টিনা ম্যাচ: ক্ষুব্ধ মরিনহো বললেন— ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’

| প্রকাশিত: ৩:০৪ অপরাহ্ন, ০৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে মিশরের বিতর্কিত হারের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হোসে মরিনহো। বিশেষ করে ভিএআরের মাধ্যমে মিশরের একটি গোল বাতিলের সিদ্ধান্তকে তিনি ‘দিনের আলোয় ডাকাতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

পর্তুগিজ এই কোচের মতে, কোনো ফাউল হয়ে থাকলে সেটি খেলা চলাকালীনই নির্ধারণ করা উচিত ছিল। গোল হওয়ার পর ভিডিও প্রযুক্তির সাহায্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে তা বাতিল করা ফুটবলের স্বাভাবিক ধারার সঙ্গে যায় না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মরিনহো বলেন, ‘এটা দিনের আলোয় ডাকাতি। যদি সত্যিই ফাউল হয়ে থাকে, তাহলে রেফারির তখনই খেলা থামানো উচিত ছিল। গোল হওয়ার অপেক্ষা করে পরে সেটি বাতিল করা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, এমন সিদ্ধান্ত একটি দলের কঠোর পরিশ্রম ও লড়াইকে মুহূর্তের মধ্যে ব্যর্থ করে দিতে পারে। বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে এ ধরনের বিতর্ক ফুটবলের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ম্যাচে শুরুটা দুর্দান্ত করেছিল মিশর। একপর্যায়ে ২-০ গোলে এগিয়ে থাকা দলটি শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেয়।

তবে ম্যাচ শেষে মিশর শিবিরে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ দেখা যায়। ভিএআরে গোল বাতিলের পাশাপাশি সম্ভাব্য পেনাল্টি না দেওয়া ও কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মরিনহোও মনে করেন, এসব সিদ্ধান্ত ম্যাচের গতিপথ বদলে দিয়েছে।