প্রধান উপদেষ্টাকে পাঠানো ছয় মানবাধিকার সংগঠনের চিঠিতে যা আছে
বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি ও করণীয় বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে যৌথ চিঠি লিখেছে ছয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা; যেগুলোর মধ্যে রয়েছে সিভিকাস, কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস, ফোরটিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, রবার্ট এফ কেনেডি হিউম্যান রাইটস ও টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউট।
গত ১৯ অক্টোবর হিউম্যান রাইটস ওয়াচের (এইচআরডব্লিউ) ওয়েবসাইটে ওই চিঠিটি প্রকাশ করা হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় সাইডলাইনে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠি পাঠানো হয়, যার মধ্যে সরকারের জন্য অস্বস্তিকর কিছু বিষয় রয়েছে।
রাজনীতি ডটকমের পাঠকদের জন্য চিঠিটির অনুবাদ—
প্রিয় প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস,
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব এবং শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আপনার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মৌলিক স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার, আইন সংস্কার শুরু করা এবং গুমসহ অন্যান্য গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে।
২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে সীমিত সময়ের এই পরিসরে আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি মানবাধিকার সুরক্ষাকে আরও প্রসারিত করতে এবং এমন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, যা স্বাধীন ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক অধোগতি রোধ করবে।
আমরা উদ্বিগ্ন যে নিরাপত্তা খাত এখনও মূলত সংস্কারবিহীন রয়ে গেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্য এখনও দায়মুক্তি ভোগ করছে ও জবাবদিহির প্রচেষ্টায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে না। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সংঘটিত গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারে সরকারকে আরও পদক্ষেপ নিতে হবে, তবে একইসঙ্গে এখনও চলমান নির্বিচার গ্রেফতার ও আটক কার্যক্রম—বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রমাণবিহীন মামলা—অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে আপনি বলেছেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র সমাধান, এবং “তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে” নতুন আগত শরণার্থীদের “প্রত্যাবাসনের সুযোগ দিতে হবে।” রোহিঙ্গারা সবসময় তাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে আগত ১ লাখ ৫০ হাজারসহ সব রোহিঙ্গার জন্য মিয়ানমারের কোনো অংশই এখনও নিরাপদ নয়, যা স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনকে অসম্ভব করে তুলেছে।
আমরা আপনাকে অনুরোধ করছি নিচের পদক্ষেপগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে, যাতে বাংলাদেশের সবার অধিকার ও স্বাধীনতা সুরক্ষিত হয়:
গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করুন
জুলাই বিপ্লব ও গত পনেরো বছরে সংঘটিত গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনুন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ইতোমধ্যে র্যাব ও ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্স (ডিজিএফআই)-এর বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে অভিযোগ ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে— যা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। সামরিক বাহিনীকে এসব বিচার কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আইসিটির এখতিয়ার মেনে চলতে হবে।
আমরা অনুরোধ করছি, আইসিটি যেন আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে এবং সব রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনা নির্বিশেষে ন্যায্য বিচার সম্পন্ন করতে পারে। আইসিটির অধীন থাকা মামলাসহ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে সরকারকে অবিলম্বে স্থগিতাদেশ ঘোষণা করা উচিত।
নিরাপত্তা খাত সংস্কার করুন
্যাব বিলুপ্ত করা এবং ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা সীমিত করা অপরিহার্য। র্যাবের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ইতিহাস প্রতিষ্ঠানটিকে সংস্কারের বাইরে নিয়ে গেছে। সামরিক সদস্যদের বেসামরিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা থেকে সরিয়ে নিন। ডিজিএফআই-এর ক্ষমতা ও ভূমিকা শুধুমাত্র সামরিক গোয়েন্দা কার্যক্রমে সীমিত করতে হবে এবং একটি স্পষ্ট আইনগত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।
গুম অপরাধ হিসেবে দণ্ডনীয় করুন এবং অনুসন্ধান কমিশনের কার্যক্রম নিশ্চিত করুন
আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী “গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ”-এর খসড়া অবিলম্বে অনুমোদন করুন, তবে মৃত্যুদণ্ড সংক্রান্ত ধারা বাদ দেওয়া উচিত। “কমিশন অব ইনকোয়ারি অন এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্সেস” গঠন করতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর পূর্ণ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে হবে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার করুন
প্যারিস নীতিমালা অনুযায়ী কমিশনের স্বাধীনতা, অর্থায়ন এবং সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া সংস্কার করতে হবে। কমিশনকে নিরাপত্তা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপকারী আইনসমূহ বাতিল বা সংশোধন করুন
সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫, সন্ত্রাসবিরোধী আইন, বিশেষ ক্ষমতা আইন, অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট এবং মানহানির ফৌজদারি বিধানসমূহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডে সংশোধন করতে হবে। ২০২৩ সালের আইন বাতিলের পর প্রণীত সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ ২০২৫ এখনো অস্পষ্ট ও ব্যাপক ক্ষমতা দেয়— যা অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।
তথ্য সুরক্ষা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার আইন সংশোধন করুন
“ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশ” ও “জাতীয় তথ্য ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ” খসড়ায় রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত ছাড় বা ক্ষমতা সীমিত করতে হবে। এসব খসড়াকে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী সংশোধন এবং নাগরিক সমাজের পরামর্শে চূড়ান্ত করতে হবে।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করুন
রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের গ্রেফতার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ প্রমাণবিহীন বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থি, সেগুলো বাতিল করতে হবে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের আন্তর্জাতিক মানসম্মত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।
নির্বিচার গ্রেফতার ও রাজনৈতিক মামলা বাতিল করুন
আগস্ট ২০২৪-এর আগে ও পরে দায়েরকৃত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা—যে দল বা মতেরই হোক—বাতিল করতে হবে। বিশেষত আওয়ামী লীগ সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রমাণবিহীন অভিযোগ দ্রুত খারিজ করতে হবে।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করুন
সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে আরোপিত দলীয় নিষেধাজ্ঞা মতপ্রকাশ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতা লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘের ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, সরকার যেন “গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এমন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ থেকে বিরত থাকে।”
নাগরিক সমাজ ও এনজিওদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রত্যাহার করুন
এনজিও অ্যাফেয়ার্স ব্যুরো এবং বিদেশি অনুদান (স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম) নিয়ন্ত্রণ আইন সংস্কার করতে হবে। নাগরিক সমাজের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ, আন্তর্জাতিক তহবিলে প্রবেশাধিকার, ও প্রশাসনিক বাধা কমাতে হবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন থেকে রক্ষা করুন
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের পূর্বে কোনো জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন করা যাবে না। ক্যাম্পে চলাচল, জীবিকা ও শিক্ষার সুযোগে আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করতে হবে। সাহায্য হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এসব সুযোগ রোহিঙ্গাদের স্বনির্ভরতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ।
আইসিসি’র তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করুন
বাংলাদেশ-মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে আইসিসির চলমান তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে এবং আদালতের চাহিদা অনুযায়ী অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও হস্তান্তর নিশ্চিত করতে হবে।
ভারত থেকে আসছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৯টি নতুন কোচ
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ভারতের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরি (আরসিএফ) তৈরি করেছে ১৯টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেক।
বুধবার (১২ আগস্ট) এই রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোল আউট করার কথা রয়েছে।
ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রথম রেকে রয়েছে তিনটি এসি স্লিপার কোচ, তিনটি এসি চেয়ার কোচ, ১১টি নন-এসি চেয়ার কোচ এবং দুটি পাওয়ার কার। বাংলাদেশ রেলওয়ের যাত্রী ও পরিচালনাগত প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে বিশেষভাবে এসব কোচের নকশা ও বিভিন্ন সুবিধা সংযোজন করা হয়েছে।
কোচগুলোতে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য বিশেষভাবে তৈরি রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্ট রয়েছে। পাশাপাশি এসি কোচে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, যাত্রীদের জন্য অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা, শিশু পরিচর্যা কক্ষ এবং নামাজের কক্ষ রাখা হয়েছে। বাংলাদেশের বিশেষ পরিচালন পরিস্থিতি বিবেচনায় কোচের ছাদও শক্তিশালী করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দিক থেকেও কোচগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে ইউরোপীয় মানদণ্ড ইএন ১৫২২৭ অনুসরণ করে সংঘর্ষে তুলনামূলক বেশি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো নকশা রাখা হয়েছে। এ জন্য কোচের বডি শেলের নকশায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এছাড়া ভারতীয় রেলের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কোচে ৪১৫ ভোল্টের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
পিআইবি জানিয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরির সহযোগিতার ইতিহাসও রয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। এরপর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ রেলওয়ে সাত ধরনের ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরির নতুন অর্ডার দেয়। এবারের ১৯ কোচের রেক সেই অর্ডারেরই প্রথম চালান।
কোকোর জন্মদিন, বনানী কবরস্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর ৫৭তম জন্মদিন পালিত হচ্ছে আজ বুধবার (১২ আগস্ট)। দিবসটি উপলক্ষে সকালে বনানী কবরস্থানে তার কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন ও কবর জিয়ারত করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা।
এ ছাড়া নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার স্মরণে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
সেই সঙ্গে বিকেল সাড়ে ৫টায় মিরপুরের শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের (এসবিএনসিএস) মিডিয়া সেন্টারে তার জন্য দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো। তিনি ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মালয়েশিয়ায় মারা যান।
তিনি স্ত্রী শর্মিলা রহমান এবং দুই কন্যা জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমানকে রেখে গেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সুইডিশ রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস লিনাস রাগনার উইকস। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কারিগরি শিক্ষার প্রসার ও কারিগরি সহায়তা বৃদ্ধি এবং রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুইডেনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়নের মাধ্যমে দক্ষ ও বিশ্বমানের মানবসম্পদ তৈরিতে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের পরিকল্পনা ও প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, সুইডেনসহ ইউরোপের বাজারে কেয়ারগিভারসহ দক্ষ জনশক্তির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন, প্রশিক্ষণ জোরদার এবং দক্ষ মানবসম্পদ রপ্তানির ক্ষেত্রে সুইডেন সরকারের নিবিড় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আলোচনায় সুইডিশ রাষ্ট্রদূত জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র বাংলাদেশের সঙ্গেই সুইডেনের ‘দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা কৌশল’ (Bilateral Cooperation Strategy) রয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সুইডেনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই গভীর হচ্ছে বলেও জানান তিনি। রেডিমেড গার্মেন্টস, স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে সুইডিশ বিনিয়োগ বাড়ছে।
রাষ্ট্রদূত জানান, বর্তমানে সুইডেনে প্রায় ১০ হাজার বাংলাদেশি অবস্থান করছেন, যাদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী।
সুইডেনে অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, অসাধু মানবপাচারকারী চক্রের প্রলোভনে পড়ে কিছু নিরপরাধ মানুষ অনিয়মিত অভিবাসনের শিকার হচ্ছেন।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। উন্নত জীবনের প্রত্যাশা এবং পাচারকারীদের প্রলোভনই অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কারণ। এ সমস্যা দূর করতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সঙ্গে সমন্বয় করে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
রোহিঙ্গা সংকটকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেন রোহিঙ্গা ডোনার গ্রুপের কো-চেয়ার হওয়ায় বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজরে রাখতে দেশটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
সুইডিশ রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের শিক্ষা ও সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে কাজ করার সুইডিশ আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের সম্মানজনক ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনই এ সংকটের একমাত্র সমাধান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশে অবস্থিত সুইডিশ দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এনার্জি সেক্টরে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ অত্যন্ত জরুরি: জ্বালানিমন্ত্রী
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং হুইপ আলহাজ্ব মো. জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান) অংশ নেন।
সভায় ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, রাষ্ট্র কাঠামোর সর্বক্ষেত্রে ফ্যাসিস্টমুক্ত করতে হবে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ একটি ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণ।
সভায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদান এবং সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ বিষয়ে সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধনসহ অনুমোদন করা হয়।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপলক্ষে প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা ও অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৩ ধারা অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
সভায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সংসদের তৃতীয় অধিবেশন বসছে ২৭ আগস্ট
‘সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী’
সাংবাদিক সুরক্ষা আইন ৩ মাসের মধ্যেই করতে হবে'
ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রী: সাংবাদিক সুরক্ষা আইন আগামী ৩ মাসের মধ্যেই প্রণয়ন করতে হবে। অনেক টালবাহানা দেখেছি, বৈষম্য দেখেছি- আর নয়। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি ঢাকা জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ কথা বলেছেন। তিনি বলেন, গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বিভিন্ন সরকারের টালবাহানা দেখেছি। আর দেখতে চাইনা, এবার আইন চাই।
তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ব্যাপারে ৮ আগস্ট কুমিল্লায় আমরা আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছি। নভেম্বর পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করবো। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে আইনটি প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলন ছাড়া গতি নেই।
তিনি বলেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা তৈরির মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ সরকারকেই নিতে হবে। পেশার অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিতে সরকারের নিকট আহবান জানান তিনি।
জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ঢাকা জেলার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত সাংবাদিকরা অংশ নেন। চলতি মাসের মধ্যে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, ঢাকা জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানানো হয়েছে।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন তারেক রহমান
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সোমবার রাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বার্তা পোস্ট করা হয়।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমি মালয়েশিয়ার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছি। আল্লাহ তাঁকে দীর্ঘস্থায়ী সুস্বাস্থ্য ও শক্তি দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশের এই বিশেষ বন্ধুর প্রতি বাংলাদেশের জনগণ ও আমার পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।’
মালয়েশিয়ায় ইমিগ্রেশন অভিযান আতঙ্কে সাগরে ঝাঁপ, ৭ ঘণ্টা পর মিললো বাংলাদেশি
মালয়েশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যম জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে তানজুং লুমপুরের একটি নির্মাণস্থলে অভিবাসন বিভাগের পরিদর্শন চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও অভিবাসন কর্মকর্তাকে দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই শ্রমিক সাগরে ঝাঁপ দেন বলে জানায় ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগ।
ঘটনার পর তাকে সাগরে ডুবে নিখোঁজ হওয়ার আশঙ্কায় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এতে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের ২০ জনের বেশি সদস্য, আন্ডারওয়াটার রেসকিউ টিমের ডুবুরি, ড্রোন ইউনিট, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স ফোর্স অংশ নেয়।
তামান তাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ হিলমি কাশফি মাত জালি জানান, সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে অভিবাসন বিভাগের কাছ থেকে এক বিদেশি নাগরিক সাগরে ঝাঁপ দিয়ে নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়।
তিনি বলেন, নিখোঁজ ব্যক্তিকে সর্বশেষ যেখানে দেখা গিয়েছিল সেখানে নৌযান ও ড্রোন দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি আন্ডারওয়াটার রেসকিউ টিম সাগরে এবং আরেকটি দল তীরবর্তী এলাকায় অনুসন্ধান চালায়।
পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নির্মাণস্থলের এক সুপারভাইজার জানান, নিখোঁজ শ্রমিকটি নিরাপদে কর্মীদের আবাসনে ফিরে এসেছেন। পুলিশ যাচাই করে তার পরিচয় নিশ্চিত করে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেয়।
উদ্ধারকর্মীদের কাছে ওই শ্রমিক জানান, অভিবাসন বিভাগের বিপুলসংখ্যক সদস্য দেখে তিনি ভয় পেয়ে সাগরে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। পরে তার সুপারভাইজার নিশ্চিত করেন, তার বৈধ ভ্রমণ ও কর্মানুমতি রয়েছে।