বার বার মুখ শুকিয়ে গেলে যে বিপদ হতে পারে!
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের তারতম্যের কারণে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। থাইরয়েড হরমোন বেশি হওয়ার কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম অর্থাৎ মুখে জ্বালাপোড়া হতে পারে। যাদের থাইরয়েড হরমোনের পরিমাণ কম থাকে তাদের ক্ষত বা আলসার দেরিতে শুকায়।
হাইপোথাইরয়ডিজমে রোগীরা জিহ্বার মেটালিক স্বাদ পেতে পারে। মাঝে মাঝে হাইপোথাইরয়ডিজমে জগ্রেন্স সিনড্রোম দেখা দিয়ে থাকে, যার কারণে শুষ্ক মুখের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
মুখ শুকিয়ে থাকার কারণ ও প্রতিকার নিয়ে যুগান্তরকে পরামর্শ দিয়েছেন মুখ ও দন্তরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. ফারুক হোসেন।
শুষ্ক মুখের প্রভাবে দন্তক্ষয়ের পরিমাণ বেড়ে যায়। হাইপোথাইরয়ডিজমে প্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ম্যাক্রোগ্লসিয়া বা জিহ্বা বড় হতে পারে। ঠোঁট বড় হয়ে যেতে পারে। এটি হতে পারে পানি এবং প্রোটিন জমা হওয়ার কারণে। ম্যান্ডিবল আন্ডার ডেভেলপড্ বা সঠিকভাবে গঠন হয় না অথবা পুরোপুরি গঠন হয় না। তাছাড়া পেরিওডন্টাল রোগের ঝুঁকি থাকে।
থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে পেরিওডন্টাল রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হাইপারথাইরয়ডিজমে পেরিওডন্টাল রোগ, ম্যাক্সিলারি বা ম্যান্ডিবুলার অস্টিওপরোসিস এবং দাঁত তাড়াতাড়ি ওঠে।
হাইপোথাইরয়ডিজমের রোগীদের ঘা বা ক্ষত যেহেতু দেরিতে শুকায় সে কারণে অস্ত্রোপচারের পর সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই দাঁত তোলা অথবা সার্জারির সময় সতর্ক থাকতে হবে। বয়ঃসন্ধিকালে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে। দাঁতে পাথর থাকলে স্কেলিং করিয়ে নিতে হবে। জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মনে রাখতে হবে কিছু ওষুধের কারণেও জিনজাইভাল হাইপারপ্লাসিয়া হতে পারে। মাসিকের সময় প্রজেসটেরন হরমোন বেশি হওয়ার কারণে মাড়িতে আলসারসহ বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে এসব ক্ষেত্রে তেমন কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নাই।
গর্ভাবস্থায় প্রথম তিন মাস ইস্ট্রোজেন লেভেল দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বমি বমি ভাব হতে পারে। এ সময় গর্ভবতীর মুখের অধিকতর যত্ন নিতে হবে। শুধু ইস্ট্রোজেন নয় বরং প্রজেসটেরন লেভেলও বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। দুটি হরমোন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মাড়িতে রক্ত সঞ্চালনও বেশি হয়। সে কারণে মাড়ি অধিকতর সংবেদনশীল হয়ে থাকে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। এ সময় জেল জাতীয় টুথপেস্ট ব্যবহার করবেন না।
গর্ভাবস্থায় তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে মুখ ও দাঁতের চিকিৎসা করে নিতে হবে। জরুরি চিকিৎসা যে কোনো সময় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী করবেন। মেনোপজ অর্থাৎ মাসিক যখন বন্ধ হয়ে যায় তখন হরমোনের তারতম্যের কারণে বার্নিং মাউথ সিনড্রোম বা মুখের জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।
হরমোনের তারতম্যের কারণে অনেক সময় মেয়েদের মেজাজ খিটখিটে থাকে। তাই মুখের কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবশ্যই মুখের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। মেনোপজের সময় বা মেনোপজ পরবর্তীকালে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হলে মুখে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে। তাই এসব বিষয়ে অবশ্যই সচেতন হতে হবে।
মেনোপজ পরবর্তীকালে নারীর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। মেনোপজের সময় হরমোনের তারতম্যের কারণে শুষ্ক মুখ হতে পারে। শুষ্ক মুখের কারণে মুখে তেতো স্বাদ হতে পারে। জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করলে শুষ্ক মুখ হতে পারে। মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে।
মনে রাখতে হবে অন্যান্য অনেক কারণে একই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়। ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেসটেরন হরমোন মাড়িতে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি করে। মাড়ি ফুলে যেতে পারে। মাড়ি থেকে রক্তপাত হতে পারে। মাড়ি রোগসহ মাড়ি এবং দাঁত অধিক সংবেদনশীল হতে পারে। এ বিষয়গুলো অবশ্যই চিকিৎসার সময় গুরুত্ব দিতে হবে। মেয়েদের মধ্যে যারা নিয়মিত জন্ম নিরোধক ওষুধ বা পিল সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাড়ি রোগ দেখা দিতে পারে।
দাঁত তোলার পর ড্রাই সকেট বা অ্যালভিওলার অস্টাইটিস দেখা দিতে পারে। যারা নিয়মিত জন্ম নিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবন করেন তাদের ক্ষেত্রে মাসিকের শেষ সপ্তাহে ২৩-২৮ দিনের মধ্যে দাঁত তোলা ভালো। কারণ এ সময় ইস্ট্রোজেন লেভেল কম থাকে, অথবা কার্যকর থাকে না। ইস্ট্রোজেন প্রণোদনা দেয় ফিব্রিনোলাইসিসের ক্ষেত্রে। ফলে রক্ত জমাট বাঁধা প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া ইস্ট্রোজেন ক্ষতস্থান শুকানোর প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। শরীরে স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য গ্রোথ হরমোন আবশ্যক। কিন্তু যখন কোনো কারণে মাত্রাতিরিক্ত গ্রোথ হরমোন নিঃসরিত হয় তখন মানবদেহের নিচের চোয়াল বা ম্যান্ডিবল বড় হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দাঁত ফাঁকা হয়ে যায়।
উপরের দাঁত এবং নিচের দাঁতের স্বাভাবিক রিলেশন নষ্ট হয়ে যায় বলে এ অবস্থায় দাঁতের চিকিৎসা করতে হলে আগে চোয়াল ঠিক করতে হবে। অর্থাৎ অর্থোগন্যাথিক সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। অতএব বুঝতেই পারছেন একটি হরমোন বেশি নিঃসরণ হওয়ার কারণে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
ক্রমাগত দুশ্চিন্তা করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসল নিঃসরিত হয়ে থাকে। এ ধরনের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে রোগীর ওষুধের ইতিহাসসহ পূর্ণ ইতিহাস গ্রহণ করতে হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করার পরেই রোগীর মুখের চিকিৎসা প্রয়োজন হলে করতে হবে। অক্সিটোসিন হরমোন বা লাভ হরমোন মুখের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে থাকে। অতিরিক্ত মানসিক চাপে দাঁত কামড়ানো, ক্যানকার সোর বা ক্ষত, মাড়ি রোগ এবং টেম্পেরোম্যান্ডিবুলার জয়েন্টের অচলাবস্থা দেখা দিতে পারে।
এডরেনালিন হার্ট রেট বৃদ্ধি করে, রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। দাঁতের চিকিৎসার সময় রোগী অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে চিকিৎসা শুরু করার আধা ঘণ্টা আগে ট্রাংকুলাইজার জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে রোগীর আগের ইতিহাস অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে। হরমোন শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।
আবার হরমোনের কম-বেশি হওয়ার কারণে আমাদের শরীরে এবং মুখে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই হরমোন সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।
পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।
বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সামনেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা দ্রুত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিতে চান তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে মঞ্চে এসে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান।
আখতার হোসেন মঞ্চে এসে সবাইক শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ডকুমেন্টারিতে যে অসঙ্গতি আছে তা আমরা দেখেছি, আমরা সরকারকে বিষয়টা জানাব।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহিদ পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ তথ্যচিত্রে একেবারে অনুপস্থিত। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইব।’
পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানও ডকুমেন্টারিতে অসঙ্গতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে যেসব অসঙ্গতি আছে, ৩ আগস্টের ঘটনাসহ যেসব অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব।’
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। মনে রাখবেন, এই জুলাই আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান আমার-আপনার, আমাদের সবার। তাই এই ডকুমেন্টারির যে অসঙ্গতি সেটাকে আমরা সংশোধন করব।’
শিল্পী মুজিব পরদেশী কারাগারে
স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন পেলেন অভিনেতা আলভী
স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী (মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া)। অধস্তন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।
বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। জামিন চেয়ে করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করেছিলেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে জাহের আলভীকে জামিন দেওয়া হয়।
শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী শেখ রফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে অবস্থান করছিলেন।
ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় জাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।
মামলার পর গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জাহের আলভী। সেদিন তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে আফরা ইভনাথ খান ইকরার সঙ্গে জাহের আলভীর বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।
‘গুলশানের চামেলি’তে মধুমিতার সঙ্গে থাকছেন বাঁধন
বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী শিকদার প্লাজায় বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ও জমকালো ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’। দেশের খ্যাতনামা জাদুশিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আয়োজনকে উপস্থিত দর্শক, অতিথি ও জাদুশিল্পীরা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেরা ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাজিক শোগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেন।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত জাদুশিল্পী মো. ছফির উল্লাহ শিকদার। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়মন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসকে ফাতেমা স্বপ্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাদুশিল্পী শিপুরাজ এবং প্রিমিয়াম ম্যাজিক শোতে অংশগ্রহণকারী জনপ্রিয় জাদুশিল্পীরা।
সভাপতির বক্তব্যে মো. ছফির উল্লাহ শিকদার বলেন,
“জাদু কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সৃজনশীল ও নান্দনিক শিল্প। বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের জাদুশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’ সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম এই শিল্পচর্চায় এগিয়ে আসুক এবং বাংলাদেশের জাদুশিল্প বিশ্বমঞ্চে আরও সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হোক। ভবিষ্যতেও দর্শকদের জন্য আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের ম্যাজিক শোর আয়োজন করা হবে।”
বক্তারা জাদুশিল্পের বিকাশ, নতুন শিল্পী তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ম্যাজিক পরিবেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে জাদুশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই শিল্পকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে নিয়মিত মানসম্মত আয়োজনের বিকল্প নেই।
এরপর একে একে দেশের জনপ্রিয় জাদুশিল্পীরা মনোমুগ্ধকর ও দৃষ্টিনন্দন ম্যাজিক পরিবেশন করেন। চমকপ্রদ সব পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী জাদুশিল্পী ও সম্মানিত অতিথিদের নিয়ে ফটোসেশন, নৈশভোজ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডার আয়োজন করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সবাই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের জাদুশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জাদুশিল্পের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের দিনে দেশের মঞ্চে সঞ্জয়
না ফেরার দেশে ‘সত্য মিথ্যা’ সিনেমার ক্যামেরাম্যান বাবলু
বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন
বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ায় আশার আলো দেখা দিলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।
এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।
সালমান শাহ’র মরদেহ তোলার নির্দেশ বাতিল