মালয়েশিয়ায় বাবুর ৫০০ কোটি টাকা, আছে বাড়ি প্লট কোম্পানি

newsdesk | প্রকাশিত: ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, ২৫ অগাস্ট ২০২৪

সাবেক হুইপ ও নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা পাচারের তথ্য পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে তার ডুপ্লেক্স বাড়ি, বাণিজ্যিক প্লট এবং কোম্পানি আছে। দুদকের গোয়েন্দা ইউনিট নজরুল ইসলাম বাবুর টাকা পাচারের তথ্য-উপাত্ত ২০২০ সালেই মালয়েশিয়া থেকে সংগ্রহ করে। কিন্তু পরবর্তীতে আর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সংস্থাটির অনুসন্ধান কর্মকর্তারা জানতে পারেন যে, কয়েক বছর আগে বাবুর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সম্পত্তি দখলের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্ত করলেও ২০১৮ সালের মার্চে তাকে দায়মুক্তি দেয় দুদক। দুদকই আবার ২০১৯ সালের শেষের দিকে বাবু ও তার পরিবারের সদস্যদের দুর্নীতির অনুসন্ধান নতুন করে শুরু করে। দুদকের বিশেষ তদন্ত শাখা-২ এ অনুসন্ধান চালায়। অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মশিউর রহমান। বাবু সম্পর্কে তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে তথ্য চায় দুদক।

বিএফআইউর তথ্যানুুযায়ী, নজরুল ইসলাম বাবু ও তার পরিবারের সদস্যরা চারটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- মেসার্স সূচনা ডায়িং অ্যান্ড প্রিন্টিং, মেসার্স স্টার ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স বাবু এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স সূচনা ডায়িং প্রিন্টিং ওয়েবিং ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। দুদক সূত্র জানায়, বাবুর দুই ভাই, দুই ভগ্নিপতি, ভাগ্নে রাজীব, শাশুড়ি এবং দুই বন্ধুর কাছেও আছে তার বিপুল পরিমাণ সম্পদ। এক ভাই ও এক বন্ধুর নামে পরিচালিত ব্যবসার নেপথ্যেও আছেন তিনি। কেমিক্যাল পণ্য আমদানিকারক ও সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত তারা। আর মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের ৯৭ পার্সিয়ারাও দোতা, দোতা নুসানতারা শ্রী হাউতোমাস এলাকায় একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি কিনেছেন বাবু। ৫ লাখ ৫ হাজার ৩১৩ ?মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার ৩৩৩ টাকায় বাড়িটি কেনা হয়েছে। কুয়ালালামপুরের পেরিনডাসট্রেইন, নিলাই-২, সেরেমবানে নজরুল ইসলাম বাবু ও তার স্ত্রী সায়মা আফরোজ ইভার নামে আছে একটি বাণিজ্যিক প্লট। ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৫৬ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ কোটি ২ লাখ ৬৫ হাজার ৩৩০ টাকায় প্লটটি কেনা হয়। এ ছাড়া কুয়ালালামপুরের জালান ডি আইএমবিআই ঠিকানায় মাজু মুহিব্বাহ নামে নজরুল ইসলাম বাবুর একটি কোম্পানি আছে। কোম্পানির নিবন্ধন নম্বর ৮৮৮৫৬-এইচ। মালয়েশিয়ার আমপাং প্রদেশেও আছে বাবু ও তার স্ত্রীর সম্পদ। এ ছাড়া প্রবাসী এক আত্মীয়ের নামে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন বাবু। জানা যায়, বাবুর দেশে যত সম্পদ আছে, এর মধ্যে ঢাকার গুলশান-১ এ ১৫ নম্বর সড়ক, প্লট নম্বর-১ এ র‌্যাংগস ওয়াটার ফ্রন্টে ৪ হাজার ২০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ফ্ল্যাট নম্বর-২সি। ৮৮ শান্তিনগরে ইস্টার্ন পিয়ারে আছে ১টি ফ্ল্যাট। রমনা থানার সিদ্ধেশ্বরীর ৬৭, হাফিজ এস্টেটে আছে ২ হাজার ১৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পূর্বাচল উপশহরে বাবুর আছে ১০ কাঠার প্লট। ৬১ বিজয়নগরে ইস্টার্ন আরজু নামে একটি ভবনের মালিক বাবু। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে গুলিস্তান শপিং কমপ্লেক্স-২ এ বাবুর আছে ৪টি দোকান (৮/১২, ৮/৪, ৮/৩৪ ও ৮/৩৯)। এই শপিং কমপ্লেক্সের আন্ডারগ্রাউন্ডে অবস্থিত ৪টি গোডাউনের মালিকও তিনি। শান্তিনগরেও আছে একটি ভবন। বাড়ি নম্বর ৯০/৯১। শেরেবাংলা নগরের ১৬৩ পূর্ব রাজাবাজারে বাবুর আছে আরও একটি ফ্ল্যাট। সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ২৫ শতাংশ মালিকানা বাবু ও তার স্ত্রীর নামে।

দুদকের নথি থেকে জানা যায়, শেয়ারবাজারেও বিনিয়োগ আছে নজরুল ইসলাম বাবুর। তালিকাভুক্ত কোম্পানি বে লিজিং, গ্রামীণ-২ মিউচুয়াল ফান্ড, ইস্টার্ন হাউজিং এবং এসআইবিএলের উল্লেখসংখ্যক শেয়ার তার হাতে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের হলফনামায় ২০০৮ সালে পৈতৃকভাবে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ জমি পাওয়ার কথা উল্লেখ করেন বাবু। ২০০৮ সালে তার নামে অকৃষি জমি না থাকলেও পরে ৩৭০ দশমিক ২৯ শতাংশ জমি কিনেছেন তিনি। বাজবী গ্রামে ছোট ভাইয়ের নামে ৫৪০ শতাংশ জমি কিনে পরে তা নিজের নামে লিখে নিয়েছেন। ২০০৮ সালে জমি বা অন্য কোনো সম্পত্তি না থাকলেও ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৫৫ শতাংশ জমি কিনেছেন বাবুর স্ত্রী। গুলশান পোস্ট অফিসে বাবুর স্ত্রীর নামে রয়েছে ১৬ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র। মধুমতি ব্যাংকে ২০ কোটি ও ১৫ কোটি টাকার দুটি এফডিআর। ঢাকা ব্যাংকের আড়াইহাজার কালিরবাড়ী শাখায় বাবুর বড় ভাইয়ের নামে আছে ৩০ কোটি টাকার এফডিআর। রূপগঞ্জের রূপসী মেইন রোডে ইনস্টিটিউট অব মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বাবু ও তার স্ত্রী। বাবুর শাশুড়ির নামে নরসিংদীতে আছে ২৭৭ বিঘা জমি। সিলেটের একটি ফাইভ স্টার হোটেলের ১০ শতাংশ শেয়ারের মালিক বাবু। গাজীপুরের হোতাপাড়ায় ১৪ বিঘা জমি আছে তার। জানা যায়, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এমপি নজরুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। প্রথম অনুসন্ধান কর্মকর্তা ছিলেন দুদকের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০১৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর নতুন অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান দুদক উপপরিচালক ওয়াকিল আহমেদ। অনুসন্ধান শেষে অব্যাহতির সুপারিশ করে প্রতিবেদন দেন তিনি। এই প্রতিবেদন কমিশনে গৃহীত হয়। ২০১৮ সালের ৫ মার্চ নজরুল ইসলাম বাবুকে দায়মুক্তি দেওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের মধ্য দিয়ে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ১১৮ জনের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। বিস্তারিত তথ্য জানতে বিএফআইইউর সহযোগিতা চাওয়া হয়। সহযোগিতা চেয়ে চিঠি পাঠান দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন। ১১৮ জনের ওই তালিকায় এমপি বাবু ও তার স্ত্রীর নাম আছে। 


সুত্র বাংলাদেশ প্রতিদিন

পরবর্তী খবর

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৪:১৩ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।

এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।

ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।

পরবর্তী খবর

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

| প্রকাশিত: ৪:১২ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতে জাতীয় অর্থনীতির মোট দেশজ উৎপাদনের অন্তত ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে নেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গড়ার কাজ যখন এগিয়ে চলছে, তখন একটি নির্দিষ্ট চক্রান্তকারী মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এসব দেশবিরোধী অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশের সচেতন নাগরিক ও পেশাজীবীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ যখনই অগ্রগতির দিকে এগিয়ে যায়, তখনই দেশি-বিদেশি চক্রান্তকারীরা নানা ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করে। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত জরুরি।

এর আগে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি জানান, বর্তমান সরকার এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে। দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পাশাপাশি উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও নিজস্ব মতাদর্শ থাকা অস্বাভাবিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজ নিজ পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি না করে, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রচলিত রাজনৈতিক চর্চার বাইরে গিয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক ও গুণগত পরিবর্তন আনা এখন সময়ের বড় দাবি।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তী খবর

মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

| প্রকাশিত: ১:৪৪ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হয় আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।

তিনি বলেন, আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পরে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।

আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী খবর

চিকিৎসা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল

| প্রকাশিত: ১:৪২ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।

আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এসব কথা জানান তিনি।


মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনের কাজ করছেন, সেই সময় একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানান তিনি।

যখনই দেশ ওপরে উঠতে থাকে তখনই একটি মহল দেশিয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে পেছনে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।’


এর আগে, সকালে এ চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।


পরবর্তী খবর

অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার

| প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক অভিযানে ২০০-এর বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। লিবিয়া উপকূল থেকে নৌকায় করে আসা এসব অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি, সুদানি ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। 

দুই দিনেরও কম সময়ে মোট ২০২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।  গ্রিক সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেটিয়ার বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইয়েরাপেত্রা এলাকায় ৪০ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকার সন্ধান পায় ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।

পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে আনা হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথম নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।

অন্য নৌকাটিতেও ৫৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও ৪০ জনকে যুক্ত করলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।

উদ্ধার করা ব্যক্তিদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় তাদের সাময়িক আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও বাড়ছে।

লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য ক্রিট গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। ফলে দ্বীপটির উপকূলে নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে।
পরবর্তী খবর

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১:৩৬ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তী খবর

সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে রোম বিমানবন্দরে আটকা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট

| প্রকাশিত: ১:২২ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

ইতালির রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমানটির ২৫৯ জন যাত্রী।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি রোম বিমানবন্দরে জ্বালানি ও ক্যাটারিং (খাবার) সংগ্রহের পর লন্ডনের উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়নের কথা ছিল। তবে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। সাড়ে ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিমানটি রোম বিমানবন্দর ছাড়তে পারেনি। এ সময় যাত্রীরা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন।

পরবর্তী খবর

বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?

| প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।

গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।


পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।

বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

পরবর্তী খবর

দেশ ছাড়ার পর হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এখন কোথায়?

| প্রকাশিত: ৭:২০ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ও পরে তার পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের প্রায় সবাই দেশ ছেড়েছেন। জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।

শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন।

পরিবারের বাইরে শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের বড় অংশও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে গেছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।

শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।জানা গেছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে কেবল আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন পরিচিত ছিলেন না।

আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ। তবে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।

 

নিউজ সূত্র: যুগান্তর

পরবর্তী খবর

দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী

| প্রকাশিত: ৬:৫৯ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির সমাধান শেষে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আজ বিকেল থেকে গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে। এর ফলে আগামী দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।  

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।

এফএসআরইউ মেরামত বিকেলের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, বিকেল থেকে গ্যাস সঞ্চালন আবার শুরু হবে। সঞ্চালন শুরু হয়ে গেলে আস্তে আস্তে আমাদের যেখানে প্রেসার কমে গেছে, প্রেসারটা উন্নত হবে এবং মোটামুটি যে সমস্যার মধ্যে পড়েছি, সে সমস্যা উৎরে করতে পারবো।  

গ্যাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কত দিন লাগবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।

লোডশেডিং নিয়ে মন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিকভাবে গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার স্টেশনও পাবে না। এখন আমার যে পাওয়ার স্টেশন বন্ধ হয়ে গেছে, ওগুলা আবার চালু করবো।