মোদিজি শেখ হাসিনাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠান: আসাদউদ্দিন ওয়াইসি
বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমান হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলোর চাপে এ বছর আইপিএলে খেলতে পারবেন না। নিলামে কিনেও তাকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
প্রতিবেশী দেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে চলমান সহিংসতার অভিযোগ তুলে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) গত সপ্তাহে বলিউড তারকা শাহরুখ খানের মালিকানাধীন কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মুস্তাফিজুরকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
যদিও কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর সহ আরো কিছু নেতা খেলাধুলা এবং রাজনীতি মিশ্রিত করার বিরোধিতা করেছিলেন।
এবার, অল ইন্ডিয়া মসলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন নেতা আসাদউদ্দিন ওয়াইসি প্রশ্ন তুলেছেন, যদি বাংলাদেশি পেসারকে ফেরত পাঠানো যায়, তাহলে কেন ভারত হাসিনার সঙ্গে একই আচরণ করছে না, যিনি বিক্ষোভের মধ্যে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে ভারতে বসবাস করছেন? এনডিটিভি এবং এএনআইয়ের খবর।
রবিবার (৪ জানুয়ারি) এক অনুষ্ঠানে এই নেতা বলেন, ‘মুস্তাফিজকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলছে। আমি বলব দিল্লিতে মোদির বোন সেজে যে শেখ হাসিনা বসে আছেন তাকেও বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।’
তিনি বলেন, ‘তারা (হিন্দুত্ববাদীরা) মহারাষ্ট্র ও মুম্বাইয়ের মানুষকে বলছে ‘দেখো আমরা এক বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়েছি। আরে, আরেকজনকে ফেরত পাঠান যে দিল্লিতে মোদির বোন সেজে বসে আছে। আপনারা কি চান তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হোক? তাহলে স্লোগান তুলুন, নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার।’
তিনি বলেন, ‘মোদিজি শুনুন, আওয়াজ আসছে, তাকে ধরুন, বের করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠান।’
জালগাঁওয়ে এক মুসলিমকে হত্যার কথা তুলে ধরেন ওয়াইসি। তিনি বলেন, ‘জলগাঁওয়ের যে সন্তানকে হত্যা করা হয়েছে তাকে নিয়ে কেন আপনারা ক্ষুব্ধ হন না, মোদিজি, ফাদনাভিসজি?’
এরপর ওয়াইসি বলেন, ‘২০১৪ সালে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম যে দাবিটি উঠেছিল, তা ছিল পুনেতে মোহসিন শেখের হত্যাকাণ্ডের বিচার। আবার জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে তার নিজের বন্ধুরাই পিটিয়ে হত্যা করে শহীদ করে দিল।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘বাংলাদেশে যদি কোনো হিন্দু মারা যায়, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা মানুষ হত্যা করে, আমরা তাদের ‘জালিম’ বলি। জলগাঁওয়ে যারা সুলেমান পাঠানকে মেরেছে, তারাও জালিম। তাদেরও সমানভাবে নিন্দা করা উচিত। বাংলাদেশ হোক বা ভারত—মানুষের জীবন তো জীবনই। একজন হিন্দুর জীবনের যেমন মূল্য আছে, একজন মুসলমানের জীবনেরও তেমনি মূল্য আছে। অথচ আজ সব বিজেপি নেতারা টিভিতে গলা ফাটাচ্ছেন যে—'আমরা একজন (বাংলাদেশি) খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।' আরে শুনুন, আপনারা কি সবাইকে বোকা বানাতে চান? স্রেফ একজন ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আর তাতেই বিজেপি বলছে এটা নাকি ইতিহাসের এক বিশাল সাফল্য!’
তারপর তিনি বলেন, ‘এখন শুনুন, ভারতের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভারত ও মহারাষ্ট্রের আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা—আপনারা একজন ক্রিকেটারের চুক্ত বাতিল হওয়ায় মিষ্টি বিলি করছেন? তাহলে নরেন্দ্র মোদিকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন, এই বছর মোদি বাংলাদেশকে ১২০ কোটি টাকা দিয়েছেন কি দেননি? আমাকে বলুন। ১২০ কোটি টাকা অনুদান ও সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে বাংলাদেশে যাচ্ছে। আর শুনুন আমার হিন্দু ভাই-বোনেরা, গত ১০ বছরে মোদি বাংলাদেশকে কত টাকার ‘লেটার অফ ক্রেডিট’ দিয়েছেন? ৮ বিলিয়ন! ৮ বিলিয়ন ডলার! আর আপনারা গালি দেন আসাদউদ্দিন ওয়াইসিকে?’
এরপর এই নেতা মন্তব্য করেন, ‘শুনুন, আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই এবং ইনশাআল্লাহ কখনো হবও না। কিন্তু মজলুমের জন্য ইনসাফ চাওয়া যদি অপরাধ হয়, মোহসিন শেখের খুনিদের শাস্তি দাবি করা যদি অপরাধ হয়, জলগাঁওয়ে সুলেমান পাঠানকে যারা মারল তাদের বিচারের আওতায় আনা যদি অপরাধ হয়—তবে খোদার কসম, আমি যতদিন বেঁচে থাকব এই ‘অপরাধ’ করে যাব। ওই ক্রিকেটারের ব্যাপারে আরও শুনুন—তাকে কোনো একটা দল ১০ কোটি টাকায় কিনেছিল। অথচ আপনারা ২০২৫ সালে বাংলাদেশকে সাহায্য আর অনুদান বাবদ দিয়েছেন ১২০ কোটি টাকা। ভারত থেকে ১ হাজার ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে যাচ্ছে। গত ১০ বছরে মোদি সরকার বাংলাদেশকে ৮ বিলিয়ন ডলারের এলওসি দিয়েছে। ৮ বিলিয়ন! আর আপনারা ঘৃণা করেন মুসলিমদের? ’
এরপর তিনি নিজের আগে বলা কিছু কথার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘আমি পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলাম যে, বাংলাদেশে আমাদের হিন্দু ভাই-বোনদের মন্দিরগুলো রক্ষা করা উচিত। আপনারা সেখানে টাকা দিচ্ছেন, আর এদিকে মহারাষ্ট্রের নির্বাচনের জন্য মুম্বাই আর মহারাষ্ট্রের মানুষকে বলছেন—দেখো, আমরা একজন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছি।’ সূত্র: এনডিটিভি
আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানালেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রতিবছর দেশে ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
ডিএমপির বিশেষ অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৫০৪
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির দুই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ
কর্নেল অলিকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঘোষণা করল ১১ দল
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।
এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর