বিশ্বজুড়ে নানা আয়োজনে খ্রিষ্টীয় নববর্ষ বরণ
পুরনো বছরকে পেছনে ফেলে আনন্দ-উল্লাস, আতশবাজি আর উৎসবের মধ্য দিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্ববাসী। কালপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়মেই মহাকালের গর্ভে বিলীন হলো আরও একটি বছর।
প্রশান্ত মহাসাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্রগুলো থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার ব্যস্ত শহর- সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন সময়ে ঘড়ির কাঁটা ১২টা ছুঁয়েছে, কিন্তু সবখানেই ছিল উৎসবের রঙ।
আন্তর্জাতিক তারিখ রেখা অনুযায়ী, নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড এবং কিরিবাতি দ্বীপপুঞ্জে প্রথম বেজে ওঠে ইংরেজি নববর্ষের ঘণ্টা।
স্কাই টাওয়ারের ওপর বর্ণিল আতশবাজির ঝলকানিতে শুরু হয় ২০২৬ সালের যাত্রা।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনি হারবার ব্রিজে আয়োজিত পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ আতশবাজি প্রদর্শনী দেখতে জড়ো হয়েছিল লাখো পর্যটক।
প্রায় একই সময়ে নতুন বছরে প্রবেশ করে ভানুয়াতু , সলোমন দ্বীপপুঞ্জ এবং পাপুয়া নিউ গিনির একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল বোগেনভিলের পাশাপাশি রাশিয়ার কিছু অংশ।
নানা আয়োজনে উৎসবের আমেজ আগেভাগেই শুরু হলেও সময়ের ব্যবধানে ইউরোপের দেশগুলোতে নতুন বছরের উদযাপন শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ভোর থেকে।
যুক্তরাজ্য জুড়ে নানা আয়োজনে মানুষ ২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে শুরু করেছে।
লন্ডন আই-এর কাছে আতশবাজি প্রদর্শন দেখতে টেমস নদীর ধারে আনুমানিক এক লাখ মানুষ জড়ো হয়েছিল।
নতুন বছর উদযাপনের জন্য লন্ডনের আকাশে ১২ হাজার আতশবাজি আলোকিত হয়েছে, যার কোরিওগ্রাফি করতে কয়েক মাস সময় লেগেছিল।
যুক্তরাজ্যে ২০২৬ সালের সূচনা উপলক্ষে দেশটির ঐতিহ্যবাহী বিগ বেনের আইকনিক শব্দ বাজানো হয়েছে।
টেমস নদীর উপর সম্পূর্ণ আতশবাজি প্রদর্শনীর পাশাপাশি দেশজুড়ে নানা আয়োজনে উৎসবে মেতেছে সাধারণ মানুষ।
স্কটল্যান্ডের রাজধানী এডিনবার্গের হগম্যানয়ের ঐতিহ্যবাহী প্রতিচ্ছবি এডিনবার্গ দুর্গের উপরে মধ্যরাতের দর্শনীয় আতশবাজির আয়োজন দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন।
গত বছর খারাপ আবহাওয়ার কারণে এই আয়োজন বাতিল হওয়ার পর এবার আবারও শুরু হলো।
২০২৬ সালের সূচনা উদযাপনে হাজার হাজার মানুষের অংশগ্রহণে লাইভ মিউজিক, ডিজে এবং স্ট্রিট থিয়েটারের মাধ্যমে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য একটি স্ট্রিট পার্টিতে রূপ নিয়েছে গোটা শহর।
নানা আয়োজন আর মানুষের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে শহরটি।
নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, ইতালি, পোল্যান্ড, স্পেনের বেশিরভাগ অংশ, সুইডেন, ডেনমার্ক, জিব্রাল্টার, ভ্যাটিকান সিটি স্টেট এবং মোনাকো সহ আরও অনেক দেশ ২০২৬ সালের আগমন উদযাপন করছে।
তাদের সাথে যোগ দিয়েছে নাইজেরিয়া, নাইজার, চাদ, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, ক্যামেরুন, মরক্কো এবং অ্যাঙ্গোলাসহ আফ্রিকান অনেক দেশ।
২০২৬ সালকে স্বাগত জানাতে ব্রাজিলের রিও ডি জেনেইরো শহরের কোপাকাবানা সমুদ্র সৈকতে একটি বিশাল সঙ্গীত এবং আতশবাজি পার্টির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, তাদের এই আয়োজন ২০২৪ সালের গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বড় নববর্ষ উদযাপনের নতুন রেকর্ড তৈরি করছে এবার।
জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং উত্তর কোরিয়াও স্বাগত জানিয়েছে ইংরেজি নতুন বছরকে।
যদিও, নিরাপত্তার কারণে টোকিওতে শহরের প্রধান ট্রেন স্টেশন শিবুয়া ওয়ার্ডে একটি কাউন্টডাউন ইভেন্ট টানা ষষ্ঠ বছরের মতো বাতিল করা হয়েছে।
১১টি বিশাল সময় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত বৃহৎ দেশ রাশিয়া। রাশিয়ার অর্ধেকেরও বেশি ২০২৫ সালকে বিদায় জানায় বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতেই। অনেক অংশেরই মিল থাকে ইউরোপের দেশগুলোর সঙ্গেও।
চীন, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার কিছু অংশের সাথে প্রায় একই সময়ে নতুন বছরের উদযাপন শুরু করে মঙ্গোলিয়া, তাইওয়ান, ব্রুনাই, রাশিয়ার ইরকুটস্ক, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার পার্থ, হংকং, সিঙ্গাপুর, ম্যাকাও এবং অ্যান্টার্কটিকার কিছু অঞ্চল।
নববর্ষের উপলক্ষ্যে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজন করা হয়েছিল এক অসাধারণ আলোকসজ্জার। ড্রোন ব্যবহার করে বিভিন্ন রঙের ছবি তৈরি করা হয়েছিল। এছাড়া বর্ণিল আতশবাজির প্রদর্শনী তো ছিলই।
ঘড়ির কাঁটায় ১২টা বাজতেই ২০২৬ সালকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। পরবর্তী আধ ঘন্টার মধ্যে, নেপাল, ভারত এবং শ্রীলঙ্কাও নতুন বছরে প্রবেশ করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, আর্মেনিয়া, জর্জিয়ার বেশিরভাগ অংশ, মরিশাস এবং সেশেলস এর বাসিন্দারাও নতুন বছর উপলক্ষ্যে নানা আয়োজন করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন থেকে আতশবাজির আলোক প্রদর্শনী দেখার জন্য বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় করে।
মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএফকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা রাশিয়ার
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনকে (এইচআরএফ) ‘অবাঞ্ছিত’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে রাশিয়া। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারপারসন ইউলিয়া নাভালনায়া, যিনি ২০২৪ সালে কারাগারে মারা যাওয়া রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ায় এইচআরএফের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি কোনো রুশ নাগরিক সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা করলে বা তাদের প্রকাশিত তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর অভিযোগ করে, এইচআরএফ তাদের ‘টায়রানি ট্র্যাকার’ প্রকল্পে রাশিয়াকে ‘পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া সংস্থাটি রুশ সেনাবাহিনীকে ‘অপমানিত’ করছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং আগে থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনকে সমর্থন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে রুশ কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগের জবাবে এইচআরএফের প্রধান আইন ও নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা হাভিয়ের এল-হাজে বলেন, ক্রেমলিনের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে রাশিয়াকে ‘পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী’ রাষ্ট্র হিসেবে সংস্থাটির মূল্যায়ন সঠিক ছিল। তার ভাষায়, একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার জন্য কোনো সংস্থাকে অপরাধী ঘোষণা করা এবং তাদের সহযোগীদের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া সেই মূল্যায়নকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্যারি কাসপারভের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এইচআরএফের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন ইউলিয়া নাভালনায়া। স্বামী আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর পর থেকেই তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। একই বছর রাশিয়ার একটি আদালত তার বিরুদ্ধেও ‘চরমপন্থি সংগঠনে অংশগ্রহণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
২০১৫ সালে ‘অবাঞ্ছিত সংগঠন’ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাশিয়া শত শত বিদেশি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এই তালিকায় রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বিভিন্ন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই আইন ব্যবহার করে ক্রেমলিন ভিন্নমত, স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ওপর দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেছে।
সম্প্রতি একই ধরনের অভিযোগে নিহত বিরোধী নেতা বরিস নেমৎসভের মেয়ে ঝান্না নেমৎসভার বিরুদ্ধেও অনুপস্থিত অবস্থায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মস্কোর একটি আদালত। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, রুশ কর্তৃপক্ষ শুধু দেশের ভেতরের বিরোধীদের নয়, বিদেশে অবস্থানরত সরকারবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও ক্রমেই আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত
পেরুতে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩
ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত, ৮ নিখোঁজ
পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের দুই কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের জেরে ৩৪ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৮ জন শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটেছে।
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ নামের এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সেই খনিটির মালিক কুরবান জোগেজাই জানান, খনির ভিতরে থাকা মিথেন গ্যাস এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। বিস্ফোরণের সময় মোট ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জোগেজাই আরও জানিয়েছেন, এই শ্রমিকদের সবাই পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার শাংলা জেলা থেকে এসেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিধ্বস্ত খনিটিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) উদ্ধারকারী বাহিনী। শুক্রবার উদ্ধারকারী বাহিনীর এক সদস্য জানিয়েছেন, সবার দেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তারা তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে পুলিশসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার একই দিন বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার একটি কয়লা খনিতে একটি বড় পাথরের চাঁই ধসে নিহত হয়েছেন এক শ্রমিক।
পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং সিন্ধে কয়েকটি কয়লা খনি রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এসব খনিতে দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ব্যাপার।
চলতি জুলাই মাসের শুরুর দকে সিন্ধের থাট্টা জেলার কোহিস্তানে মেটিং রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি কয়ালা খনিতে ধস নেমেছিল। এতে নিহত হন ৪ জন এবং গুরুতর আহত হন ৫ জন।
সূত্র : রয়টার্স
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, দেখা যাক কী হয়: ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সঙ্গে মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হবে।
রয়টর্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, কিছু একটা ঘটার ভালো সম্ভাবনা আছে, আর যদি তা হয়, আমরা দুদিন আগে যা করছিলাম, সেখানেই ফিরে যাব। তবে দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। এই মুহূর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে এবং ইরান কূটনীতি ত্যাগ করেনি, তবে আলোচনার অনুরোধ করার খবরটি “ভিত্তিহীন”।’
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে জুলাই মাসের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযাত শাখা আইআরজিসি। তারপর থেকে ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে টানা বিমান অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এদিকে সেন্টকমের বিমান অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।
টানা ১৩ রাত ধরে অভিযান-পাল্টা অভিযানের পর গত ২৫ জুলাই শনিবার অভিযানে বিরতি দেয় সেন্টকম। সেই বিরতি এখনও চলছে। সেন্টকম বিরতি দেওয়ার পর থেকে পাল্টা হামলা স্থগিত করেছে ইরানও।
অতি সম্প্রতি ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।”
রয়টার্সে এই সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান স্থগিতের কারণ জানালেন ট্রাম্প।
তবে দু’দিন আগে গত ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো ‘পরিকল্পনা’ ইরানের নেই।
টাইফয়েডে আক্রান্ত সিজেপির অভিজিৎ, বললেন ‘আন্দোলন থামবে না’
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে অসুস্থতা তাদের আন্দোলনের গতি কমাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অসুস্থতার মধ্যেও দেশ জুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিজেপির সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
দিপকে বলেন, “আপনারা জানেন, গত কয়েক দিন ধরে আমি অসুস্থ। পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে এবং তাতে আমার টাইফয়েড ধরা পড়েছে।”
তিনি জানান, বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং প্রতিদিন শিরায় (আইভি) ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমার চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন আইভি ড্রিপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি দেশ জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সব ‘ককরোচ’কে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে দিপকে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকলে তাদের মূল দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনকে এত বড় সফলতায় পরিণত করার জন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত, আমরা যদি এভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাই, তাহলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করতে পারব।”
প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় সংস্কার আনা এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াংচুক গত ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেন এবং অনশন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙেন।
কেন্দ্রীয় সরকার তাকে লিখিতভাবে আশ্বাস দেয় যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি আলোচনা হবে এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
স্পেনে দাবানলে নাসার গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে অবস্থিত তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘গভীর মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র’ (ডিএসএন) থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
শুক্রবারের এই ঘটনায় দূরবর্তী মহাকাশযানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রব্লেদো এলাকায় অবস্থিত 'মাদ্রিদ ডিপ স্পেস কমিউনিকেশনস কমপ্লেক্স' (এমডিএসসিসি)।
নাসার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, “দাবানল এমডিএসসিসি কেন্দ্রের সীমানার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রের সব কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে সেখানকার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।”
উল্লেখযোগ্য যে, এমডিএসসিসি কেন্দ্রটি নাসার বিখ্যাত ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ (ডিএসএন)-এর তিনটি মূল ঘাঁটির একটি। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই গভীর মহাকাশে পাঠানো বিভিন্ন গবেষণাতরী ও মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। অন্য দুটি কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডস্টোনে অবস্থিত।
নাসা স্পষ্ট করেছে যে, স্পেন কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অন্য দুটি কেন্দ্রের সহায়তায় মহাকাশ মিশনগুলোর মূল কাজ বিঘ্নহীনভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কর্মীদের প্রতি জোর দিয়ে নাসা জানায়, আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, এই ভয়াবহ দাবানলে যেসব পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সহমর্মিতা রয়েছে। বাসস।