গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭১ জন নিহত
গাজা ভূখণ্ডে ইসরায়েলি হামলা আরও বাড়িয়েছে। এতে অন্তত ৭১ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ২৫১ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গাজা সিটিতেই ৩৭ জন নিহত হয়েছেন।
আল জাজিরার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার শেখ রাদওয়ানের একটি স্কুলের ওপর বোমা ফেললে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এই স্কুলটিতে অনেক ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছিলেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় শুক্রবার হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এ ছাড়া, সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ইসরায়েলি কোয়াডকপ্টার শেখ রাদওয়ানের একটি স্কুল ভবনের উপর উড়ছে, যেখানে আশপাশের বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে দেখছেন। এর পর কোয়াডকপ্টারটি লক্ষ্যবস্তুতে একটি বিস্ফোরক ফেললে অন্তত ১২ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। ওই স্কুলে অনেক ফিলিস্তিনি তাদের অস্থায়ী তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিল।
আল-আহলি হাসপাতালের একটি চিকিৎসা সূত্র আল জাজিরাকে জানিয়েছে, গাজা সিটির তুফাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আরও একজন নিহত হয়েছেন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনাহারে ও অপুষ্টিতে নতুন করে দুজন মারা গেছেন, যার মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এর ফলে দুর্ভিক্ষ-সম্পর্কিত মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ২৭৩ হয়েছে, যার মধ্যে ১১২ জন শিশু। মন্ত্রণালয় বলেছে, অনেকেই এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে বা রাস্তায় আটকা পড়ে আছেন। তারা আরও উল্লেখ করেছে, ইসরায়েলি বোমা হামলা ও সরঞ্জামের অভাবে উদ্ধারকারী দলগুলো তাদের কাছে পৌঁছাতে পারছে না।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ১৮ মার্চ থেকে ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ও বন্দী বিনিময় চুক্তি ভেঙে তাদের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার পর থেকে ১০ হাজার ৭১৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৪৫ হাজার ৩২৪ জন আহত হয়েছেন।
এদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী মানবিক সহায়তা নিতে আসা বেসামরিক নাগরিকদের ওপরও হামলা অব্যাহত রেখেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এমন হামলায় ২৪ জন নিহত এবং ১৩৩ জন আহত হয়েছেন। মন্ত্রণালয়ের মতে, ২৭ মে থেকে মানবিক সহায়তা নিতে গিয়ে ২ হাজার ৬০ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৫ হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন।
এর আগে, ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হামাস যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরায়েলের শর্তে সম্মত না হলে গাজার বৃহত্তম শহরটি ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লিখেছেন, গাজায় হামাসের খুনি ও ধর্ষকদের মাথার ওপর খুব শিগগিরই নরকের দরজা খুলবে, যতক্ষণ না তারা যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইসরায়েলের শর্তে রাজি হচ্ছে।
কাটজ ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি শর্তগুলো পুনরায় উল্লেখ করেন, যার মধ্যে সমস্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়া এবং হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত। হামাস জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধ শেষ করার বিনিময়ে বন্দিদের মুক্তি দিতে প্রস্তুত, তবে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন না হলে নিরস্ত্রীকরণে রাজি নয়।
গত মার্চের শুরু থেকে ইসরায়েলের পূর্ণ অবরোধ গাজার ২৪ লাখ বাসিন্দার জন্য বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যার ফলে দুর্ভিক্ষ, ব্যাপক রোগ এবং জরুরি পরিষেবাগুলোর বিপর্যয় ঘটেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের 'গণহত্যা'য় এখন পর্যন্ত অন্তত ৬২ হাজার ২৬৩ জন নিহত এবং ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়েছিল।
শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত
পেরুতে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩
ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প
ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র
বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত, ৮ নিখোঁজ
পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের দুই কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের জেরে ৩৪ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৮ জন শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটেছে।
বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ নামের এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সেই খনিটির মালিক কুরবান জোগেজাই জানান, খনির ভিতরে থাকা মিথেন গ্যাস এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। বিস্ফোরণের সময় মোট ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জোগেজাই আরও জানিয়েছেন, এই শ্রমিকদের সবাই পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার শাংলা জেলা থেকে এসেছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিধ্বস্ত খনিটিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) উদ্ধারকারী বাহিনী। শুক্রবার উদ্ধারকারী বাহিনীর এক সদস্য জানিয়েছেন, সবার দেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তারা তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এদিকে পুলিশসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার একই দিন বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার একটি কয়লা খনিতে একটি বড় পাথরের চাঁই ধসে নিহত হয়েছেন এক শ্রমিক।
পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং সিন্ধে কয়েকটি কয়লা খনি রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এসব খনিতে দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ব্যাপার।
চলতি জুলাই মাসের শুরুর দকে সিন্ধের থাট্টা জেলার কোহিস্তানে মেটিং রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি কয়ালা খনিতে ধস নেমেছিল। এতে নিহত হন ৪ জন এবং গুরুতর আহত হন ৫ জন।
সূত্র : রয়টার্স
ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, দেখা যাক কী হয়: ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সঙ্গে মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হবে।
রয়টর্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, কিছু একটা ঘটার ভালো সম্ভাবনা আছে, আর যদি তা হয়, আমরা দুদিন আগে যা করছিলাম, সেখানেই ফিরে যাব। তবে দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। এই মুহূর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে এবং ইরান কূটনীতি ত্যাগ করেনি, তবে আলোচনার অনুরোধ করার খবরটি “ভিত্তিহীন”।’
ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে জুলাই মাসের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযাত শাখা আইআরজিসি। তারপর থেকে ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে টানা বিমান অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।
এদিকে সেন্টকমের বিমান অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।
টানা ১৩ রাত ধরে অভিযান-পাল্টা অভিযানের পর গত ২৫ জুলাই শনিবার অভিযানে বিরতি দেয় সেন্টকম। সেই বিরতি এখনও চলছে। সেন্টকম বিরতি দেওয়ার পর থেকে পাল্টা হামলা স্থগিত করেছে ইরানও।
অতি সম্প্রতি ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।”
রয়টার্সে এই সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান স্থগিতের কারণ জানালেন ট্রাম্প।
তবে দু’দিন আগে গত ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো ‘পরিকল্পনা’ ইরানের নেই।
টাইফয়েডে আক্রান্ত সিজেপির অভিজিৎ, বললেন ‘আন্দোলন থামবে না’
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে অসুস্থতা তাদের আন্দোলনের গতি কমাতে পারবে না বলে জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দিপকে বলেন, গত কয়েক দিন ধরে তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অসুস্থতার মধ্যেও দেশ জুড়ে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য সিজেপির সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে বলেন, এই আন্দোলন শেষ পর্যন্ত তার লক্ষ্য অর্জন করবে।
দিপকে বলেন, “আপনারা জানেন, গত কয়েক দিন ধরে আমি অসুস্থ। পরীক্ষার রিপোর্ট এসেছে এবং তাতে আমার টাইফয়েড ধরা পড়েছে।”
তিনি জানান, বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে এবং প্রতিদিন শিরায় (আইভি) ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমার চিকিৎসা চলছে। প্রতিদিন আইভি ড্রিপ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমি দেশ জুড়ে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সব ‘ককরোচ’কে ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করার জন্য সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়ে দিপকে বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকলে তাদের মূল দাবি— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করা সম্ভব হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
তিনি বলেন, “এই আন্দোলনকে এত বড় সফলতায় পরিণত করার জন্য আপনাদের সবাইকে অভিনন্দন। আমি নিশ্চিত, আমরা যদি এভাবেই আন্দোলন চালিয়ে যাই, তাহলে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ আদায় করতে পারব।”
প্রতিযোগিতামূলক বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সিজেপির নেতৃত্বে এই আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীরা পরীক্ষা ব্যবস্থায় জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় সংস্কার আনা এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি জানিয়ে আসছেন।
এই আন্দোলনে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি সমর্থন জানিয়েছেন। ওয়াংচুক গত ২৮ জুন আন্দোলনে যোগ দেন এবং অনশন শুরু করেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তিনি ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন। সরকারের পক্ষ থেকে তার গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি অনশন ভাঙেন।
কেন্দ্রীয় সরকার তাকে লিখিতভাবে আশ্বাস দেয় যে, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করা হবে না, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার ও জবাবদিহির বিষয়টি আলোচনা হবে এবং নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হবে।
তবে সোনম ওয়াংচুক অনশন শেষ করলেও সিজেপি জানিয়েছে, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের অবস্থান কর্মসূচি ও আন্দোলন অব্যাহত থাকবে
স্পেনে দাবানলে নাসার গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত
ইউরোপজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে অবস্থিত তাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘গভীর মহাকাশ যোগাযোগ কেন্দ্র’ (ডিএসএন) থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা।
শুক্রবারের এই ঘটনায় দূরবর্তী মহাকাশযানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, রাজধানী মাদ্রিদ থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার পশ্চিমে রব্লেদো এলাকায় অবস্থিত 'মাদ্রিদ ডিপ স্পেস কমিউনিকেশনস কমপ্লেক্স' (এমডিএসসিসি)।
নাসার এক মুখপাত্র বিবৃতিতে জানান, “দাবানল এমডিএসসিসি কেন্দ্রের সীমানার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। কেন্দ্রের সব কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি নিরাপদ হলে সেখানকার সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।”
উল্লেখযোগ্য যে, এমডিএসসিসি কেন্দ্রটি নাসার বিখ্যাত ‘ডিপ স্পেস নেটওয়ার্ক’ (ডিএসএন)-এর তিনটি মূল ঘাঁটির একটি। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই গভীর মহাকাশে পাঠানো বিভিন্ন গবেষণাতরী ও মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। অন্য দুটি কেন্দ্র অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গোল্ডস্টোনে অবস্থিত।
নাসা স্পষ্ট করেছে যে, স্পেন কেন্দ্রটির কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ থাকলেও অন্য দুটি কেন্দ্রের সহায়তায় মহাকাশ মিশনগুলোর মূল কাজ বিঘ্নহীনভাবে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
কর্মীদের প্রতি জোর দিয়ে নাসা জানায়, আমাদের কর্মীদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পাশাপাশি, এই ভয়াবহ দাবানলে যেসব পরিবার ও স্থানীয় অধিবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর সহমর্মিতা রয়েছে। বাসস।
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিতে পারেন মমতা
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ও শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান ছাত্র আন্দোলনে আজ সংহতি জানাতে যোগ দিতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
তৃণমূল কংগ্রেসের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ নেতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আন্দোলনের সংহতি জানাতে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি বিক্ষোভস্থলে যাবেন।
বর্তমানে দিল্লিতে চলমান এই বিক্ষোভ সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ছাত্র আন্দোলনে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সমর্থন জানানোর পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের সক্রিয় অবস্থানের বার্তাও স্পষ্ট করবে।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, “শুরু থেকেই আমি শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছি। তাদের এই লড়াই শুধু নিট কেলেঙ্কারিতে ন্যায়বিচারের জন্য নয়, বরং দেশের প্রতিটি তরুণের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই। গোটা বিরোধী শিবির এবং দেশের মানুষ আমাদের তরুণদের পাশে রয়েছে।”