ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়নি : পেন্টাগনের বিশ্লেষণ

Newsdesk | প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ন, ২৫ জুন ২০২৫

গত সপ্তাহান্তে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির পরমাণু কর্মসূচির মূল অংশ ধ্বংস হয়নি এবং এতে মাত্র কয়েক মাসের জন্য ইরানের পরিকল্পনা পিছিয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রাথমিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে উঠে এসেছে। এই মূল্যায়ন সম্পর্কে জানা সাতজনের সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পেন্টাগনের গোয়েন্দা শাখা ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে, যা এর আগে প্রকাশ হয়নি। সূত্রদের মধ্যে এক কর্মকর্তা বলেছেন, হামলার পর ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড যে যুদ্ধের ক্ষতি মূল্যায়ন করেছিল, তার ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

হামলার প্রভাব ও ক্ষতি নিয়ে এখনো মূল্যায়ন চলছে এবং নতুন গোয়েন্দা তথ্য আসার পর এতে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে প্রাথমিক এই ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যিনি বারবার বলেছেন যে, হামলায় ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুবিধা ‘সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস’ হয়ে গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও স্থানীয় সময় রোববার (২২ জুন) বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু উচ্চাকাঙ্ক্ষা ‘ধূলিসাৎ হয়ে গেছে’।

তবে মূল্যায়ন সম্পর্কে জানা দুটি সূত্র বলছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ ধ্বংস হয়নি। এক কর্মকর্তা বলেছেন, সেন্ট্রিফিউজগুলো বেশিরভাগই ‘অক্ষত’ রয়েছে।

আরেক সূত্র বলছেন, হামলার আগেই ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুবিধাগুলো সরিয়ে নিয়েছিল। ওই সূত্রের দাবি, ‘ডিআইএ-এর মূল্যায়ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে, সর্বোচ্চ এইটুকুই।’

হোয়াইট হাউস এই মূল্যায়নের অস্তিত্ব স্বীকার করেছে, তবে তারা এর সঙ্গে একমত নন। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সিএনএনকে একটি বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তথাকথিত এই মূল্যায়ন সম্পূর্ণ ভুল এবং এটি ‘টপ সিক্রেট’ শ্রেণিভুক্ত ছিল। তবুও গোয়েন্দা সম্প্রদায়ের এক নিম্নস্তরের ব্যক্তি এটি সিএনএনকে লিক করেছে। এই মূল্যায়ন ফাঁসের পেছনে একমাত্র উদ্দেশ্য হলো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে হেয় করা এবং সেই সাহসী ফাইটার পাইলটদের অবমূল্যায়ন করা, যারা ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের জন্য নিখুঁত মিশন সম্পাদন করেছেন। সবাই জানে যখন আপনি ৩০ হাজার পাউন্ডের ১৪টি বোমা সঠিক লক্ষ্যে ফেলেন, তখন কী হয়: সম্পূর্ণ ধ্বংস।’

মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, অপারেশনটি পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়েছে এবং এটি একটি ‘অপ্রতিরোধ্য সাফল্য’।

তবে হামলার প্রভাব সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে এখনো সময় প্রয়োজন এবং কোনো সূত্রই বলেনি যে, অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার তুলনায় ডিআইএ-এর মূল্যায়ন কতটা ভিন্ন। যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রেখেছে, যার মধ্যে ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নও অন্তর্ভুক্ত।

মার্কিন সামরিক অপারেশনের আগে কয়েকদিন ধরে ইসরাইল ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল। তবে তারা দাবি করেছিল যে, ইরানের পরমাণু সুবিধা সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০ হাজার পাউন্ডের বাঙ্কার বাস্টার বোমা প্রয়োজন। মার্কিন ‘বি-২ বোমারু বিমান’ ফোর্দো জ্বালানি সমৃদ্ধকরণ প্লান্ট ও নাতানজ সমৃদ্ধকরণ কমপ্লেক্সে এই বোমা ফেললেও, সূত্রদের মতে, এতে সেন্ট্রিফিউজ ও উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি।

সূত্র থেকে জানা যায়, ফোর্দো, নাতানজ ও ইসফাহান—এই তিন স্থানেই ক্ষতি মূলত ভূমির ওপরের কাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং ইউরেনিয়ামকে বোমা তৈরির জন্য ধাতুতে পরিণত করার ভূমির ওপরের সুবিধা।

মার্কিন হামলার প্রভাব নিয়ে ইসরাইলের মূল্যায়নেও ফোর্দোতে প্রত্যাশার চেয়ে কম ক্ষতি পাওয়া গেছে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের ধারণা, একাধিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্মিলিত সামরিক অভিযান ইরানের পরমাণু কর্মসূচিকে দুই বছর পিছিয়ে দিয়েছে—যদি তারা বাধাহীনভাবে পুনর্নির্মাণ করতে পারে, যা ইসরাইল মানবে না। তবে মার্কিন সামরিক অপারেশনের আগেই ইসরাইল প্রকাশ্যে বলেছিল যে, ইরানের কর্মসূচি দুই বছর পিছিয়েছে।

পরবর্তী খবর

প্রতিরক্ষা চুক্তির আগে মক্কায় তিন দেশের নেতাদের জুমার নামাজ আদায়

| প্রকাশিত: ১:৪০ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের আগে একসাথে জুমার নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের নেতাদের। 

শুক্রবার (৭ আগস্ট) মক্কায় চুক্তি স্বাক্ষর করতে পৌঁছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এর আগেই সেখানে পৌঁছেন। তাদের অভ্যর্থনা জানান সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। 

নামাজে এককাতারে অংশ নিতে দেখা গেছে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানসহ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। 
পরবর্তী খবর

অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার

| প্রকাশিত: ১:৩৯ অপরাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক অভিযানে ২০০-এর বেশি অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্ট গার্ড। লিবিয়া উপকূল থেকে নৌকায় করে আসা এসব অভিবাসীর মধ্যে বাংলাদেশি, সুদানি ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। 

দুই দিনেরও কম সময়ে মোট ২০২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।  গ্রিক সংবাদমাধ্যম ডিমোক্রেটিয়ার বরাতে মিডল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকালে ক্রিটের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আইয়েরাপেত্রা এলাকায় ৪০ অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকার সন্ধান পায় ইউরোপীয় সীমান্ত ও উপকূলরক্ষী সংস্থা ফ্রন্টেক্সের একটি বিমান।

পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে আনা হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথম নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।

অন্য নৌকাটিতেও ৫৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও ৪০ জনকে যুক্ত করলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।

উদ্ধার করা ব্যক্তিদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় তাদের সাময়িক আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও বাড়ছে।

লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য ক্রিট গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। ফলে দ্বীপটির উপকূলে নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে।
পরবর্তী খবর

মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএফকে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা রাশিয়ার

| প্রকাশিত: ১:২৪ পূর্বাহ্ন, ০৮ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনকে (এইচআরএফ) ‘অবাঞ্ছিত’ সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে রাশিয়া। সংস্থাটির বর্তমান চেয়ারপারসন ইউলিয়া নাভালনায়া, যিনি ২০২৪ সালে কারাগারে মারা যাওয়া রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির স্ত্রী।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ায় এইচআরএফের সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হবে। পাশাপাশি কোনো রুশ নাগরিক সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা করলে বা তাদের প্রকাশিত তথ্য প্রচার করলে তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হতে পারে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাশিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের দপ্তর অভিযোগ করে, এইচআরএফ তাদের ‘টায়রানি ট্র্যাকার’ প্রকল্পে রাশিয়াকে ‘পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ ছাড়া সংস্থাটি রুশ সেনাবাহিনীকে ‘অপমানিত’ করছে, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে এবং আগে থেকেই নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন সংগঠনকে সমর্থন দিচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলে রুশ কর্তৃপক্ষ।

অভিযোগের জবাবে এইচআরএফের প্রধান আইন ও নীতিবিষয়ক কর্মকর্তা হাভিয়ের এল-হাজে বলেন, ক্রেমলিনের এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে যে রাশিয়াকে ‘পূর্ণাঙ্গ কর্তৃত্ববাদী’ রাষ্ট্র হিসেবে সংস্থাটির মূল্যায়ন সঠিক ছিল। তার ভাষায়, একটি গবেষণা প্রকল্প পরিচালনার জন্য কোনো সংস্থাকে অপরাধী ঘোষণা করা এবং তাদের সহযোগীদের কারাদণ্ডের হুমকি দেওয়া সেই মূল্যায়নকেই আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে গ্যারি কাসপারভের স্থলাভিষিক্ত হয়ে এইচআরএফের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন ইউলিয়া নাভালনায়া। স্বামী আলেক্সেই নাভালনির মৃত্যুর পর থেকেই তিনি প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সরকারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রচারণায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। একই বছর রাশিয়ার একটি আদালত তার বিরুদ্ধেও ‘চরমপন্থি সংগঠনে অংশগ্রহণের’ অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

২০১৫ সালে ‘অবাঞ্ছিত সংগঠন’ আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে রাশিয়া শত শত বিদেশি সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে। এই তালিকায় রয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, বিভিন্ন স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও।

মানবাধিকার সংস্থাগুলোর অভিযোগ, ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই আইন ব্যবহার করে ক্রেমলিন ভিন্নমত, স্বাধীন গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের ওপর দমন-পীড়ন আরও জোরদার করেছে।

সম্প্রতি একই ধরনের অভিযোগে নিহত বিরোধী নেতা বরিস নেমৎসভের মেয়ে ঝান্না নেমৎসভার বিরুদ্ধেও অনুপস্থিত অবস্থায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে মস্কোর একটি আদালত। পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে, রুশ কর্তৃপক্ষ শুধু দেশের ভেতরের বিরোধীদের নয়, বিদেশে অবস্থানরত সরকারবিরোধী ব্যক্তি ও সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধেও ক্রমেই আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।

পরবর্তী খবর

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়ার প্রসঙ্গে অবস্থান স্পষ্ট করল ভারত

| প্রকাশিত: ৬:২২ অপরাহ্ন, ০৪ অগাস্ট ২০২৬
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালানো সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থান স্পষ্ট করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, এই আয়োজনটি একটি বেসরকারি গণমাধ্যম সংস্থার এবং এতে নয়াদিল্লির কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা সংশ্লিষ্টতা নেই।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব কথা বলেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক, ভূরাজনীতি, সীমান্ত ইস্যু এবং সিন্ধু ও গঙ্গার পানি চুক্তি সম্পর্কিত একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র।

বুধবার (৫ জুলাই) দিল্লিতে একটি বেসরকারি গণমাধ্যম আয়োজিত সম্মেলনে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য বক্তব্য দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানান, ওই অনুষ্ঠানটি সম্পূর্ণ একটি বেসরকারি উদ্যোগ। ভারত সরকারের এর সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা বা লেনদেন নেই এবং সেখানে প্রকাশিত কোনো মতামতের দায় বা সমর্থন সরকারের নেই।

এর আগে ঢাকা থেকে ভারতের হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়েছিল, শেখ হাসিনাকে ভারতের মাটিতে বসে এমন কোনো বক্তব্য বা রাজনৈতিক তৎপরতা চালাতে দেওয়া উচিত নয়, যা বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর তাকে ভারতে সফরের যে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তা বহাল রয়েছে। পাশাপাশি, আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের (BIMSTEC) বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে তার অর্পিত ক্ষমতার ভিত্তিতেই তাকে আগামী ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে উপস্থিত থাকতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে দিল্লি। এটি ব্রিকসের নিয়মিত বৈশ্বিক কাঠামোরই একটি অংশ।

বাংলাদেশের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সুপারিশের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে মুখপাত্র বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি যৌথ নদী রয়েছে। গঙ্গা চুক্তিসহ যেকোনো পানিসম্পদ সংক্রান্ত আলোচনা যৌথ নদী কমিশন এবং দুদেশের প্রতিষ্ঠিত বিদ্যমান কূটনৈতিক ও কারিগরি কাঠামোর মাধ্যমেই এগিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে সকালে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যম যেন শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করে, সে আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। আদালতের আদেশ অমান্য করলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এর আগেও এ বিষয়ে গণমাধ্যমের জন্য সতর্কতামূলক নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার।

কেউ যদি আগাম প্রচার করে যে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেবেন এবং পরে তা প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, তাহলে সেটি আদালতের আদেশ অমান্য করার শামিল হবে।

তিনি বলেন, আমরা আবারও সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেব, কেউ যেন এ ধরনের কাজ না করেন। আদালতের নির্দেশনা মানা প্রত্যেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। সরকারের কাজ হলো আদালতের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

তিনি আরো বলেন, আদালতের আদেশ না থাকলে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে বাধা দেওয়া ঠিক হতো না—এটি তার ব্যক্তিগত মতামত। কেউ যদি আদালতের ওই আদেশের সঙ্গে একমত না হন, তাহলে আদালতে গিয়ে সেই আদেশ চ্যালেঞ্জ করতে পারেন। তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

পরবর্তী খবর

পেরুতে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১৩

| প্রকাশিত: ১১:২৮ পূর্বাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬
পেরুতে পর্যটকবাহী বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে বিমানের ১৩ আরোহীর সবাই প্রাণ হারিয়েছেন। সেসনা ক্যারাভান সি-২০৮ মডেলের বিমানটি শনিবার দক্ষিণ পেরুর নাজকা লাইনস প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকার ওপর দিয়ে উড্ডয়নের সময় বিধ্বস্ত হয়। এতে ১১ যাত্রী ও দু’জন পাইলট ছিলেন। যাত্রীদের মধ্যে দু‘জন জার্মান, দু’জন স্প্যানিশ এবং সাতজন ইতালীয় পর্যটক ছিলেন। দুর্ঘটনার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়।

নাজকা লাইনস পর্যটকদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এটি ইউনেসকো স্বীকৃত একটি ঐতিহাসিক স্থান। এখানকার মরুভূমির বালিতে প্রাচীনকালে আঁকা বিভিন্ন পশুপাখির ছবি রয়েছে। এই বিশাল ছবিগুলো ওপর থেকে দেখার জন্য পর্যটকরা প্রায়ই ছোট বিমানে ঘুরে বেড়ান।

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনাটি এতোটাই ভয়াবহ ছিল যে কেউ বেঁচে নেই। এ পর্যন্ত আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করতে পেরেছি। পেরুর পিস্কোর একটি বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করে। পরে স্থানীয় সময় দুপুর একটার দিকে পুয়েবলো ভিজো অঞ্চলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। 

এর আগে, ২০২২ সালে নাজকা লাইনসের ওপর দিয়ে ওড়ার সময় পর্যটকবাহী একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাত আরোহী নিহত হন। আর ২০১০ সালে একই স্থানে একই ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত ছয়জন প্রাণ হারান।
পরবর্তী খবর

ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করলেন ট্রাম্প

| প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬
ইরানে হামলার পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর শর্তে তিনি ইরানের ওপর পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ট্রাম্প।

পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নজিরবিহীন মাত্রার সামরিক শক্তি প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত ছিল।

তবে তিনি বলেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে হামলা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে, কারণ একটি সম্ভাব্য চুক্তির মৌলিক কাঠামো বা রূপরেখা নিয়ে সমঝোতা হয়েছে।

ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, সম্ভাব্য ওই চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত রাখা হবে এবং ইরানের পারমাণবিক হুমকির অবসান ঘটানো হবে।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বের কল্যাণ এবং একটি সফল ও সমৃদ্ধ ইরানের স্বার্থে আমি হামলা বাতিল করতে সম্মত হয়েছি, তবে শর্ত হলো দ্রুত একটি চুক্তি সম্পন্ন হতে হবে।

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ইসরাইলও এই সিদ্ধান্তে তার সঙ্গে একমত হয়েছে। 

পোস্টে শেষে তিনি বলেন, সবাই কাজে নেমে পড়ুন এবং দ্রুত চুক্তিটি সম্পন্ন করুন। ধন্যবাদ।

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে ইরান বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
পরবর্তী খবর

ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী অস্ত্র সংকটে যুক্তরাষ্ট্র

| প্রকাশিত: ২:২৫ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। ফলে পাল্টা হামলার বর্তমান মাত্রা যুক্তরাষ্ট্র কতটা সময় ধরে বজায় রাখতে পারবে, তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। 

শনিবার (১ আগস্ট) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থার মজুত ছিল প্রায় ২ হাজার ৩০০টি। বর্তমানে তা কমে ৮২৭টির নিচে নেমে এসেছে।

একইভাবে, টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স বা থাড ব্যবস্থার মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। সংঘাতের আগে ৪৫২টি ইন্টারসেপ্টর থাকলেও বর্তমানে তা ২৭৮টির নিচে নেমে গেছে।

সিএসআইএস সতর্ক করে বলেছে, এসব গুরুত্বপূর্ণ মজুত আবার পূরণ করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে। এতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মতো অন্য কোনো এলাকায় নতুন করে সংকট তৈরি হলে সেখানে থাকা মার্কিন সেনা ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

এই ঘাটতি পূরণে ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি তহবিলের মধ্যে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে পেন্টাগন। এই অর্থ দিয়ে নতুন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
পরবর্তী খবর

বেলুচিস্তানে কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ৩৪ জন নিহত, ৮ নিখোঁজ

| প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ন, ৩১ জুলাই ২০২৬

পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের দুই কয়লা খনিতে বিস্ফোরণের জেরে ৩৪ জন খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং এখনও নিখোঁজ আছেন কমপক্ষে ৮ জন শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটেছে।

বেলুচিস্তানের রাজধানী কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ নামের এক দুর্গম এলাকায় অবস্থিত সেই খনিটির মালিক কুরবান জোগেজাই জানান, খনির ভিতরে থাকা মিথেন গ্যাস এই বিস্ফোরণের জন্য দায়ী। বিস্ফোরণের সময় মোট ৪২ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজকে জোগেজাই আরও জানিয়েছেন, এই শ্রমিকদের সবাই পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়ার শাংলা জেলা থেকে এসেছিলেন।

বৃহস্পতিবার বিস্ফোরণের অল্প সময়ের মধ্যেই বিধ্বস্ত খনিটিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে বেলুচিস্তানের প্রাদেশিক সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের (পিডিএমএ) উদ্ধারকারী বাহিনী। শুক্রবার উদ্ধারকারী বাহিনীর এক সদস্য জানিয়েছেন, সবার দেহ উদ্ধারের আগ পর্যন্ত তারা তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।

বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি এ ঘটনায় বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে পুলিশসূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার একই দিন বেলুচিস্তানের হারনাই জেলার একটি কয়লা খনিতে একটি বড় পাথরের চাঁই ধসে নিহত হয়েছেন এক শ্রমিক।

পাকিস্তানের দুই প্রদেশ বেলুচিস্তান এবং সিন্ধে কয়েকটি কয়লা খনি রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এসব খনিতে দুর্ঘটনা প্রায় নিয়মিত ব্যাপার।

চলতি জুলাই মাসের শুরুর দকে সিন্ধের থাট্টা জেলার কোহিস্তানে মেটিং রেলওয়ে স্টেশনের কাছে একটি কয়ালা খনিতে ধস নেমেছিল। এতে নিহত হন ৪ জন এবং গুরুতর আহত হন ৫ জন।

সূত্র : রয়টার্স

পরবর্তী খবর

ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১৪

| প্রকাশিত: ৫:০৪ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬
ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রাজধানী কিয়েভের একজন এবং প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহে দুই শিশুসহ কয়েকজন রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি একদিন আগেই সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া শিগগিরই একটি বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এর পরদিনই বৃহস্পতিবার ভোরে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা চালানো হয়।

স্থানীয় সময় রাত ১টার পর রাজধানী কিয়েভে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, কিয়েভে একজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন।

এছাড়া, দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে দুই শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। পোলতাভা অঞ্চলেও একজনের মৃত্যুর খবর জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

জেলেনস্কির জন্মশহর ক্রিভি রিহে রুশ ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরাসরি আঘাতে পাঁচ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুসহ ছয়জন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। শহরের প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান ওলেক্সান্দর ভিলকুল জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার ভোরোনেঝ অঞ্চল থেকে ছোড়া হয়েছিল এবং এটি একটি বড় পরিবারের বাড়িতে আঘাত হানে। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে, পশ্চিমাঞ্চলীয় লভিভ শহরেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুটি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৬ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।

হামলার প্রভাব ইউক্রেনের পশ্চিম সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছালে প্রতিবেশী পোল্যান্ড নিজেদের আকাশসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করে। সূত্র: আল জাজিরা
পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে, দেখা যাক কী হয়: ট্রাম্প

| প্রকাশিত: ৩:৪৩ অপরাহ্ন, ২৮ জুলাই ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে হামলা স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সঙ্গে মধ্যকার সংঘাত নিরসনে একটি চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন যে, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন হামলা পুনরায় শুরু হবে।

রয়টর্সের প্রতিবেদন অনযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়কালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো আলোচনা হচ্ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, কিছু একটা ঘটার ভালো সম্ভাবনা আছে, আর যদি তা হয়, আমরা দুদিন আগে যা করছিলাম, সেখানেই ফিরে যাব। তবে দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়। এই মুহূর্তে খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।’



এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, ‘মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনও বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে এবং ইরান কূটনীতি ত্যাগ করেনি, তবে আলোচনার অনুরোধ করার খবরটি “ভিত্তিহীন”।’

ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে জুলাই মাসের প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিযাত শাখা আইআরজিসি। তারপর থেকে ইরানের সামরিক-বেসামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে টানা বিমান অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)।



এদিকে সেন্টকমের বিমান অভিযানের জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা শুরু করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি।

টানা ১৩ রাত ধরে অভিযান-পাল্টা অভিযানের পর গত ২৫ জুলাই শনিবার অভিযানে বিরতি দেয় সেন্টকম। সেই বিরতি এখনও চলছে। সেন্টকম বিরতি দেওয়ার পর থেকে পাল্টা হামলা স্থগিত করেছে ইরানও।



অতি সম্প্রতি ইরানে ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের এক কর্মকর্তা ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের শুরু থেকেই ইরান ‘হামলার বদলে হামলা’ নীতি অনুসরণ করছে। তাই যুক্তরাষ্ট্র যদি হামলা বন্ধ করে, ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান মুলতবি রাখবে। যুক্তরাষ্ট্রকে ইতোমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে বার্তাও দেওয়া হয়েছে।”


রয়টার্সে এই সংবাদ প্রকাশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ইরানে মার্কিন বাহিনীর সামরিক অভিযান স্থগিতের কারণ জানালেন ট্রাম্প।



তবে দু’দিন আগে গত ২৬ জুন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফের শান্তি সংলাপ শুরু করার কোনো ‘পরিকল্পনা’ ইরানের নেই।