সিনে কার্নিভাল ৪.০ এর জমজমাট সমাপ্তি

Himel | প্রকাশিত: ৪:৫৩ অপরাহ্ন, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫
ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল মোবাইল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (ডিআইএমএফএফ), ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর মিডিয়া অ্যান্ড জার্নালিজম বিভাগের অধীন একটি আউটরিচ প্রোগ্রাম, আনন্দ, সৃজনশীলতা ও সিনেমার তিন দিনব্যাপী উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। প্রাণবন্ত আয়োজন ও তারকাবহুল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে এই উৎসব দর্শনার্থীদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠে।

কার্নিভালে ৪০টিরও বেশি স্টল অংশগ্রহণ করে, যেখানে গয়না, সুগন্ধি, খাবার, পোশাক, হোম ডেকর সামগ্রী, মেকআপ ও মেহেদিসহ নানা ধরনের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। রঙিন সাজসজ্জা ও শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের উৎসাহপূর্ণ অংশগ্রহণে পুরো প্রাঙ্গণ জুড়ে এক প্রাণচঞ্চল ও আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দর্শনার্থীদের জন্য ছিল নানান ইন্টারঅ্যাকটিভ কার্যক্রম, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বেলুন শ্যুটার, নাগরদোলা, ঘুরাইনা ছবি (৩৬০° রোটেশন) এবং গানের আসর। এসব আকর্ষণ তিন দিনব্যাপী আয়োজনে অতিরিক্ত আনন্দ যোগ করে এবং দর্শনার্থীদের জন্য কার্নিভালকে করে তোলে স্মরণীয়।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল এক্সক্লুসিভ ‘সিনেমাঘর’ সেশন, যেখানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেন। শেষ দিনে প্রদর্শিত হয় চলচ্চিত্র “নূর”, যার পর অনুষ্ঠিত আলোচনা পর্বে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা আরিফিন শুভ, অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার ও সাউন্ড ডিজাইনার রিপন নাথ এবং অ্যাসোসিয়েট প্রডিউসার রাফায়েল আহসান। এছাড়া প্রথম দুই দিনে “দেলুপি” ও “বাড়ির নাম শাহানা” সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী ও আলোচনা চলচ্চিত্র নির্মাণ ও গল্প বলার নানা দিক নিয়ে মূল্যবান ধারণা প্রদান করে, যা তরুণ দর্শক ও আগ্রহী সৃজনশীলদের অনুপ্রাণিত করে।

কার্নিভালের সফল সমাপ্তি শিক্ষার্থী ও উদীয়মান চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে চলচ্চিত্র সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা এবং শিল্প-সংশ্লিষ্ট অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার ক্ষেত্রে ডিআইএমএফএফ-এর অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে
পরবর্তী খবর

বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?

| প্রকাশিত: ১০:৪৬ অপরাহ্ন, ০৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।

গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।


পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।

টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।

বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।

পরবর্তী খবর

তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল

| প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সামনেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা দ্রুত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।


এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিতে চান তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে মঞ্চে এসে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান।

আখতার হোসেন মঞ্চে এসে সবাইক শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ডকুমেন্টারিতে যে অসঙ্গতি আছে তা আমরা দেখেছি, আমরা সরকারকে বিষয়টা জানাব।

তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহিদ পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ তথ্যচিত্রে একেবারে অনুপস্থিত। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইব।’


পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানও ডকুমেন্টারিতে অসঙ্গতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে যেসব অসঙ্গতি আছে, ৩ আগস্টের ঘটনাসহ যেসব অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব।’

তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। মনে রাখবেন, এই জুলাই আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান আমার-আপনার, আমাদের সবার। তাই এই ডকুমেন্টারির যে অসঙ্গতি সেটাকে আমরা সংশোধন করব।’


পরবর্তী খবর

শিল্পী মুজিব পরদেশী কারাগারে

| প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
চেক ডিজঅনার মামলায় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

দশ লাখ টাকার টেক ডিজঅনারের অভিযোগে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি ২০২২ সালের মাগুরার আদালতে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন মুজিব পরদেশীকে। কিন্তু পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন বলেন, “পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।”

আসামির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই মন্তব্য করে শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, “মামলার বিষয়ে অবগত থাকলেও তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিকে জামিন দিলে বাদীর ক্ষতি। সে জন্য তার জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।”

মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। তিনি আশির দশকে বাংলা লোকগীতির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
পরবর্তী খবর

স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় জামিন পেলেন অভিনেতা আলভী

| প্রকাশিত: ৫:৫৫ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরাকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভী (মো. নিয়ামত উল্লাহ ভূঁইয়া)। অধস্তন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হলে তাঁর আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল রোববার এ আদেশ দেন। জামিন চেয়ে করা আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর আদালত রুল জারি করেছিলেন। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে সেই রুল যথাযথ ঘোষণা করে জাহের আলভীকে জামিন দেওয়া হয়।

শুনানিতে জাহের আলভীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন ও আইনজীবী শেখ রফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে আফরা ইভনাথ খান ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার সময় জাহের আলভী নেপালে অবস্থান করছিলেন।

ওই রাতেই ইকরার বাবা কবির হায়াত খান মিরপুর মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় জাহের আলভীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়।

মামলার পর গত ১৮ জুন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করেন জাহের আলভী। সেদিন তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। পরে মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ২৪ জুন আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে আফরা ইভনাথ খান ইকরার সঙ্গে জাহের আলভীর বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে সন্তান রয়েছে।

পরবর্তী খবর

‘গুলশানের চামেলি’তে মধুমিতার সঙ্গে থাকছেন বাঁধন

| প্রকাশিত: ৫:০৬ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অভিজাত সমাজের অন্ধকার বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হতে যাচ্ছে নতুন সিনেমা ‘গুলশানের চামেলি’। নারীপ্রধান এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করবেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মধুমিতা সরকার।

এবার শোনা যাচ্ছে, ছবিটিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্রে দেখা যেতে পারে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনকেও। খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।

বাঁধন বলেন, হ্যাঁ, ছবিটি নিয়ে আমার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। আগস্টের ১ তারিখ সম্ভবত ছবিটির ঘোষণা আসবে। এখানে আমি একজন মানবধিকারকর্মী, অর্থাৎ আইনজীবীর চরিত্র করছি।

সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে এক যৌনকর্মীর জীবনকে ঘিরে। কোনো অপরাধ না করেও ক্ষমতার নির্মম খেলায় বারবার নিপীড়নের শিকার হন তিনি। সমাজ ও রাজনীতির নানা অন্ধকার দিককে তুলে ধরা হবে তার জীবনের নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে।

প্রচলিত বাণিজ্যিক সিনেমার ধারা থেকে বেরিয়ে ‘গুলশানের চামেলি’তে কোনো প্রচলিত নায়ক থাকছে না। পুরো গল্প এগোবে একজন নারীকে কেন্দ্র করে। পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সেই চরিত্রের নানা রূপ ও সংগ্রামই হবে সিনেমার মূল আকর্ষণ।

মধুমিতা সরকার জানিয়েছেন, তিনি সিনেমাটির কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এসে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলেও জানান এই অভিনেত্রী।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর কিংবা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে সিনেমাটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’ অনুষ্ঠিত

| প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ন, ২৬ জুলাই ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ী শিকদার প্লাজায় বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য ও জমকালো ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’। দেশের খ্যাতনামা জাদুশিল্পীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই আয়োজনকে উপস্থিত দর্শক, অতিথি ও জাদুশিল্পীরা এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত সেরা ও সবচেয়ে আকর্ষণীয় ম্যাজিক শোগুলোর একটি হিসেবে অভিহিত করেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুপরিচিত জাদুশিল্পী মো. ছফির উল্লাহ শিকদার। এ সময় বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়মন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক এসকে ফাতেমা স্বপ্না, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাদুশিল্পী শিপুরাজ এবং প্রিমিয়াম ম্যাজিক শোতে অংশগ্রহণকারী জনপ্রিয় জাদুশিল্পীরা।

সভাপতির বক্তব্যে মো. ছফির উল্লাহ শিকদার বলেন,

“জাদু কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি একটি সৃজনশীল ও নান্দনিক শিল্প। বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদ দীর্ঘদিন ধরে দেশের জাদুশিল্পকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ‘প্রিমিয়াম ম্যাজিক শো-২০২৬’ সেই ধারাবাহিক প্রচেষ্টারই একটি অংশ। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম এই শিল্পচর্চায় এগিয়ে আসুক এবং বাংলাদেশের জাদুশিল্প বিশ্বমঞ্চে আরও সম্মানের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত হোক। ভবিষ্যতেও দর্শকদের জন্য আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের ম্যাজিক শোর আয়োজন করা হবে।”

বক্তারা জাদুশিল্পের বিকাশ, নতুন শিল্পী তৈরির প্রয়োজনীয়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ম্যাজিক পরিবেশনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, বাংলাদেশে জাদুশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে এবং এই শিল্পকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে নিয়মিত মানসম্মত আয়োজনের বিকল্প নেই।

এরপর একে একে দেশের জনপ্রিয় জাদুশিল্পীরা মনোমুগ্ধকর ও দৃষ্টিনন্দন ম্যাজিক পরিবেশন করেন। চমকপ্রদ সব পরিবেশনায় মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা করতালির মাধ্যমে শিল্পীদের উৎসাহিত করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী জাদুশিল্পী ও সম্মানিত অতিথিদের নিয়ে ফটোসেশন, নৈশভোজ এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ আড্ডার আয়োজন করা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশে সবাই একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন দেশের জাদুশিল্পকে আরও সমৃদ্ধ করবে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জাদুশিল্পের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।

পরবর্তী খবর

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের দিনে দেশের মঞ্চে সঞ্জয়

| প্রকাশিত: ৫:৫৩ অপরাহ্ন, ১৪ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপ ফুটবলের এবারের আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কানাডা পর্বের আয়োজনে মঞ্চে পারফর্ম করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীত প্রযোজক, গায়ক ও ডিজে সঞ্জয় দেব। মঞ্চে সঞ্জয় নিজের পোশাকের মাধ্যমে তুলে ধরেন বাংলাদেশকে। সঞ্জয়ের পরনে থাকা মেরুন রঙের স্যুটে ফুটে ওঠে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, শাপলা আর লাল-সবুজের ছাপ। এবার তিনি দর্শক মাতাবেন বাংলাদেশে। বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের দিনে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গাইবেন তিনি।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল উপলক্ষে বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে আয়োজন করা হয়েছে ছয় দিনব্যাপী ফ্যান ফেস্ট ২.০। খেলা দেখানোর পাশাপাশি এই আয়োজনে রয়েছে লাইভ কনসার্ট। ১৯ জুলাই ফাইনাল খেলার আগে পারফর্ম করবেন সঞ্জয়। দেশের মঞ্চে সঞ্জয়ের এই লাইভ পারফরম্যান্স দেশের সংগীতপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ এক মুহূর্ত।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান ট্রিপল টাইম কমিউনিকেশনস জানিয়েছে, বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল উপলক্ষে আয়োজিত এই ফ্যান ফেস্টে ম্যাচের সরাসরি সম্প্রচারের পাশাপাশি থাকবে লাইভ কনসার্ট, ডিজে পারফরম্যান্স এবং দর্শকদের অংশগ্রহণে বিনোদনমূলক নানা আয়োজন।

১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম সেমিফাইনাল। প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ফ্রান্স ও স্পেন। সেদিন থেকে শুরু হবে ফ্যান ফেস্ট ২.০। এদিন পারফর্ম করবে ফিরোজ জং ও ডিজে সুমন। ১৫ জুলাই দ্বিতীয় সেমিফাইনালের দিন থাকছে ব্ল্যাক জ্যাং ও ডিজে তন্ময়ের পারফরম্যান্স।

১৬ জুলাই পারফর্ম করবেন সংগীতশিল্পী তাসনিম আনিকা ও ডিজে প্রিয়ন্তী। চতুর্থ দিন ১৭ জুলাই থাকবেন সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম, ডিজে রিশাদ ও ডিজে তৃষা। ১৭ জুলাই পারফর্ম করবেন ডিজে সানী। শেষ দিন ১৯ জুলাই ফাইনাল খেলার আগে দর্শক মাতাবেন সঞ্জয়। তাঁর সঙ্গে এদিন আরও থাকবেন ডিজে জুডু। ইতিমধ্যে অনলাইন টিকিট প্ল্যাটফর্ম টিকিট টুমরোতে শুরু হয়েছে অগ্রিম টিকিট বিক্রি। প্রথম দুই দিনের প্রতিদিনের টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ টাকা। পরের তিন দিনের প্রতিদিনের টিকিটের দাম ৩০০ টাকা এবং ফাইনালের দিনের টিকিটের দাম ৭০০ টাকা। প্রতিদিন আয়োজন শুরু হবে সন্ধ্যা ৬টায়।

বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে জন্ম নেওয়া সঞ্জয়ের বেড়ে ওঠা যুক্তরাষ্ট্রে। বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (ইডিএম) প্রযোজক ও ডিজে হিসেবে কাজ করছেন তিনি। তাঁর প্রযোজনায় গান করেছেন অরিজিৎ সিং, গুরু রন্ধাওয়া, সুনিধি চৌহান, জনিতা গান্ধী, বেনি দয়াল, নোরা ফাতেহি, কনা, হাবিব ওয়াহিদ, জেফারসহ অনেকে।
পরবর্তী খবর

না ফেরার দেশে ‘সত্য মিথ্যা’ সিনেমার ক্যামেরাম্যান বাবলু

| প্রকাশিত: ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬
জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ক্যামেরাম্যান আবু হেনা বাবলু না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৭৮ বছর। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনে স্থির চিত্রগ্রাহক সমিতির সভাপতি জি ডি পিন্টু।

তার দেওয়া তথ্যমতে বাবলু আজ দুপুর দেড়টায় সাভারে নিজ বাড়িতে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বাবলুর জন্ম ১ ফেব্রুয়ারি পাবনা জেলায় ১৯৪৮ সালে। ১৯৬৯ সালে তিনি এফডিসিতে ক্যামেরাম্যান সিরাজুল ইসলামের হাত ধরে সহকারী চিত্র গ্রাহক হিসেবে কাজ শুরু করেন।  পরে তিনি রেজা লতিফের সঙ্গে দীর্ঘ সময় সহকারী হিসেবে কাজ করেন। 

১৯৭৬ সালে প্রথম এককভাবে তাঁর চিত্রগ্রহণকৃত চলচ্চিত্র আজিজুর রহমান পরিচালিত গরমিল।  এরপর তিনি অগ্নিশিখা, মধুমিতা, অশিক্ষিত, প্রিয় বান্ধবী, মাটির মানুষ, ওয়াদা, সাম্পানওয়ালা, গাংচিল,ঘরনী সহ প্রায় দেড় শতাধিকের অধিক চলচ্চিত্রে চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন। 

১৯৯১ সালে পিতা মাতা সন্তান সিনেমায় ক্যামেরায় অসামান্য কাজের স্বীকৃতিসরূপ আবু হেনা বাবলু জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। বিখ্যাত প্রযোজক ও পরিচালক এ জে মিন্টুর সঙ্গে তার এক ধরনের রসায়ন ছিলো। তারা একযোগে সত্য মিথ্যা, লোভ লালসা, লক্ষ্মীর সংসার প্রভৃতি ব্যবসাসফল সিনেমা উপহার দেন।

এদিকে, আবু হেনার বাবলুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র গ্রাহক সংস্থা, সিনে স্থির চিত্রগ্রাহক সমিতি।

প্রসঙ্গত, বিখ্যাত ক্যামেরাম্যান আব্দুল লতিফ বাচ্চুর মৃত্যুতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন আবু হেনা বাবলু।
পরবর্তী খবর

বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার মারা গেছেন

| প্রকাশিত: ১১:৫২ পূর্বাহ্ন, ২৯ জুন ২০২৬

বরেণ্য চিত্রশিল্পী ও নির্মাতা মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত ১৪ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন মুস্তাফা মনোয়ার। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে নেয়া হয়। কয়েক দিন আগে তার ভেন্টিলেটর সাপোর্ট খুলে নেয়ায় আশার আলো দেখা দিলেও পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ভেন্টিলেটরে নেয়া হয়।

এর আগে তার স্ত্রী মেরী মনোয়ার জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের কারণে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত তাকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।
 
দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, টেলিভিশন ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে অসামান্য অবদান রেখেছেন মুস্তাফা মনোয়ার। শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

পরবর্তী খবর

সালমান শাহ’র মরদেহ তোলার নির্দেশ বাতিল

| প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ন, ২৩ জুন ২০২৬
চিত্রনায়ক সালমান শাহ-এর মৃত্যুর প্রায় ৩০ বছর পর তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের আদেশ বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মরদেহটি উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করেন।

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক এই আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী আবিদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বিষয়টি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনবে। ৩০ বছর পর মরদেহ উত্তোলন করে কিছুই পাওয়া যাবে না।

শুধু শুধু শাহজালাল (রহ.) এর মাজারে সংঘর্ষ সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আমরা এই মরদেহ উত্তোলনের আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন করি। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন। 

আবেদনে বলা হয়, বহুল আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মৃত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার প্রাঙ্গণে দাফন করা হয়েছিল এবং বর্তমানে সেখানেই কবরস্থ আছে।

ভিকটিমের মরদেহ উত্তোলনের ক্ষেত্রে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনা হবে এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বারবার মরদেহ উত্তোলনে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ব্যাপক বাধার সৃষ্টিসহ সংঘর্ষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

বাদী মো. আলমগীর কুমকুম এবং মা নিলুফাজামান চৌধুরী ওরফ নীলা চৌধুরীর ব্যাপক আপত্তি রয়েছে। এজন্য আলোচিত চিত্রনায়ক সালমান শাহ এর মৃত দেহ (মরদেহ) উত্তোলনের আদেশ বাতিল করা একান্ত প্রয়োজন।

এর আগে, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনপূর্ব সুরতহাল প্রস্তুত এবং ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার অনুমতিসহ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে গেল ২৪ মে মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেন।

গত বছরের ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। আদালত মামলার এজাহার গ্রহণ করে তদন্ত কর্মকর্তাকে ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদীর ভাগনে চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ (২৫) ছিলেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য চিত্রনায়ক। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টায় বাদীর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোন জামাই কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী ও তাদের ছোট ছেলে শাহরান শাহসহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখান থেকে নীলা চৌধুরী ও শাহরানসহ তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেট যাওয়ার কথা ছিল।


এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বাদীর বোন ও বোন জামাই গ্রিন রোডের বাসায় পৃথকভাবে বসবাস করতেন। তারা সালমানের ইস্কাটনের বাসায় যাওয়ার পর স্ত্রী সামিরা এবং কর্মচারী আবুল জানান— ‘সালমান ঘুমাচ্ছেন’। ওই সময় চলচ্চিত্র প্রযোজক সিদ্দিকও সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। সালমান ঘুমাচ্ছেন শুনে তার বাবা-মা স্ত্রী সামিরাকে বলে আসেন যে, তারা সিলেটে যাওয়ার পথে সালমানের সঙ্গে দেখা করে যাবেন। এরপর তারা এবং প্রযোজক সিদ্দিক ইস্কাটনের বাসা ত্যাগ করেন।

ঘটনার দিন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রোডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমান শাহর বাবাকে জানান, সালমানের ‘যেন কী হয়েছে’। খবর পেয়েই তারা দ্রুত বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে দেখতে পান, সালমান তার শোবার ঘরে পড়ে আছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সে সময় দুই-একজন বহিরাগত নারী সালমানের হাতে-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং রুবী নামে একটি মেয়ে সেখানে বসে ছিলেন। তখন সামিরা সালমানের মাকে বাসা থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। পরে সালমানের বাবা-মা তাকে নিয়ে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে যাওয়ার পথে তার গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পা নীলবর্ণ ধারণ করতে দেখেন। অবস্থার গুরুত্ব বুঝে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বেশ কিছুক্ষণ আগেই সালমান শাহ মারা গেছেন।