রামগড়-তানাক্কাপাড়া সীমান্ত সুরক্ষায় নির্মিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ সড়ক
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার রামগড়-তানাক্কাপাড়ায় সীমান্ত সুরক্ষায় বিস্তীর্ণ সড়ক নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যের অপরুপ লীলাভুমি খাগড়াছড়ি। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ, আঁকাবাঁকা পাহাড়, পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ঝর্ণাধারাও। এসব রুপ ও বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য্যের অধিকারি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এখানকার মানুষ সমতলের তুলনায় অনেকটা অনগ্রসর এবং পশ্চাৎপদ।
অনগ্রসরতার বিষয়টি নিয়ে এখানকার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলকে যুগোপযোগী উন্নয়ন প্রকল্প বাসছে। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় ইতোমধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধন করা হলেও বিপুল পরিমাণ সীমান্ত এলাকা অরক্ষিত থাকায় এতদাঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার দরুন দেশের সীমান্ত সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় এনে অবাধে চোরাচালান, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ মানব পাচারের মত যুব সমাজ ধ্বংসাত্মক কাজ করে রেহাই পেতে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আনার জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করে সরকার সীমান্তে সড়ক নির্মাণ কাজে হাত দিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় রামগড় তানাক্কাপাড়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণ কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে সেনাবাহীনির দায়িত্বপ্রাপ্ত ২০ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) কনস্ট্রাকশন বিভাগ।
তবে দুর্গম পাহাড়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে পদে পদে প্রতিবন্ধকতাও রয়েছে। এর উপর রয়েছে এক শ্রেণির লোকদের অপতৎপরতা। তাছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নকারী এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের জীবনের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে রেখে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গত ১১সেপ্টেম্বর রামগড়ের পিলাকছড়া এলাকায়। রামগড় তানাক্কাপাড়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন, প্রকল্পের উপ-সাইট ইনচার্জ ২০ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) ওয়ারেন্ট অফিসার মো. মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। গত ৭নভেম্বর নির্মাণাধীন সড়কটির রামগড়-তানাক্কাপাড়া (মাটিরাঙ্গা) সীমান্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্ত জমির মালিকদের মাঝে ক্ষতিপূরণের নগদ অর্থ প্রদান করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি)।
গভীর জঙ্গল পরিষ্কার পূর্বক পার্বত্য আঁকাবাঁকা পাহাড়ে বুক ছিড়ে যেখানে মানুষের আনাগোনা নেই। চারদিক পাখির ডাক বৈ আর কিছু শোনা যায় না। শুধু পাহাড় আর ঝোঁপ ঝাড়ে মোড়ানো প্রকৃতির পাশ হয়ে ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকার আইনের দুরত্ব বজায় রেখে সড়কটি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। বর্তমানে রাস্তাটির নির্মাণ কাজ চলছে পুরোদমে। রাস্তাটি রামগড় থেকে শুরু হয়ে লক্ষ্মীছড়া ভায়া হয়ে মাটিরাঙ্গার তানাক্কাপাড়া পর্যন্ত গিয়ে শেষ হবে।
রামগড় তানাক্কাপাড়া বিস্তীর্ণ সড়ক, সীমান্ত সুরক্ষায় নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে।৪০বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৫৬.০৫কিলোমিটার দুরত্বের সড়কটির বর্তমান নির্মান কাজ চলমান ও দৃশ্যমান রয়েছে। তাছাড়া কিছুদিন পূর্বে সড়ক নির্মানের সময় সীমান্তবর্তী এলাকায় জিরো পয়েন্টে ভারতের ৯৬বিএসএফ মাগ্রুম ক্যাম্প কমান্ডার ইন্সপেক্টর মুনেষ শিং এর নেতৃত্বে নির্মান কাজে বাধা প্রদান করা হয়েছিল। পরে দুই দেশের ১ম দফা পতাকা বৈঠক হয়, বৈঠকে ১৪৪গজের মধ্যে কোন ধরণের রাস্তা বা স্থায়ীভাবে কোন কিছু নির্মান না করার জন্য বলা হয়। বৈঠক শেষে সীমান্ত আইন অনুসরণ পূর্বক বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে বলে জানানো হয়।
রাস্তা নির্মাণে স্থানীয়দের সহযোগীতা বা আগ্রহ থাকলেও আরেক শ্রেণির লোকেরা তাতে সঙ্গোপনে বাধা প্রদান করে। সকল বাধাকে উপেক্ষা করে জনস্বার্থ বিবেচনা করে রাস্তাটির নির্মান কাজ এগিয়ে চলছে।
রাস্তাটি নির্মাণের ফলে সড়ক পথে ৩থেকে ৪ঘন্টার যাতায়াত ৩০থেকে ৪০মিনিটে শেষ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সড়কটি নির্মানের ফলে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যাক্ত করেছেন।
তাছাড়া সড়কটি নির্মাণের ফলে পাবর্ত্য এলাকার প্রত্যন্ত অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা,স্বল্পতম সময়ের মধ্যে নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনা ও কৃষিজাত পণ্যেও বিপণন ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করবে বলে সচেতন মহল আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
মাটিরাঙ্গা সদর ইউনিয়নের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান হেমেন্দ্র ত্রিপুরা জানান, যে এলাকার যোগাযোগ যত উন্নত হবে সে অঞ্চল তত উন্নত হবে। রাস্তাটির নির্মাণের ফলে তাইন্দং থেকে সরাসরি রামগড়ে যাতায়াতের সুবিধা বাড়বে এতে করে লোকজনের ভোগান্তি কমে তাদের সাথে শহরের সংযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং অত্র এলাকার লেকজনের উন্নত চিকিৎসা সহ শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ হবে।
রামগড় তানাক্কাপাড়া সীমান্ত সড়ক নির্মাণ সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ মন্তব্য করে মাটিরাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সুবাস চাকমা বলেন, মাটিরাঙ্গা উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়ন সীমান্ত ঘেঁষা তাই এ রাস্তাটির ফলে এতদাঞ্চলের সাথে অন্যান্য বিভাগীয় শহরের সাথে সরাসরি সংযোগ স্থাপন হবে। আশাকরি সকল বাধা পেরিয়ে সড়কটির নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে পাশাপাশি জনগণ এর ব্যাপক সুফল ভোগ করবে।
৪০বিজিবির পলাশপুর জোন অধিনায়ক লে. কর্ণেল সৈয়দ সালাহউদ্দিন নয়ন পিএসসি বলেন, সড়কটি নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে সড়ক নির্মাণে ৪০বিজিবি সর্বাত্বক সহযোগীতা করে যাচ্ছে। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সড়কটির নির্মান কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরো বলেন, সীমান্ত সড়কটি নির্মাণের ফলে এ অঞ্চলের জনসাধারনের আর্থ সামাজিক, শিক্ষা, চিকিৎসা, উন্নয়নের পাশাপাশি সীমান্তে টহল জোরদারসহ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান রোধ করা সম্ভব হবে।
প্রকাশ হলো এসএসসির ফলাফল! পাসের হার ৬২.২৫%
২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে একযোগে ফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ
এ বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
২০২৬ সালে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫৫.৪৯ শতাংশ
মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ।
শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল দেখতে পারবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
ফলাফল দেখার ওয়েবসাইট:
eduboardresults.gov.bd
educationboardresults.gov.bd
এসএমএসে এসএসসির ফল
এসএমএসের মাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষার ফল জানার জন্য ১৬২২২ নম্বরের পাশাপাশি নতুন ১৬১৪০ নম্বরও যুক্ত করা হয়েছে।
মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
SSC <বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর> <রোল নম্বর> <পরীক্ষার বছর>
উদাহরণ:
SSC DHA 123456 2026
এটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠালে ফিরতি এসএমএসে ফলাফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
মাদরাসা শিক্ষার্থীরা যেভাবে ফল জানবে
মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আগে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এ জন্য লিখতে হবে:
Dakhil MAD 123456 2026
এটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৌঁছে যাবে।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের ফল দেখার নিয়ম
কারিগরি শিক্ষার্থীরা এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে লিখবে:
SSC TEC 123456 2026
এটি ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে গিয়ে Result Corner-এ প্রবেশ করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিয়ে রেজাল্ট শিট ডাউনলোড করা যাবে।
পরীক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না।
তিন সপ্তাহ পর প্রকাশ হলো ফল
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে। আর মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের দাখিল এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার লিখিত অংশ শেষ হয় ২৪ মে।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল। তবে এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ লাখের বেশি শিক্ষার্থী
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।
এর মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী।
এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ, গড় পাসের হার ও জিপিএ–৫ কমেছে
চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ। যা গত বছর ছিলে ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে (১১টি শিক্ষা বোর্ড) গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
এর আগে ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয় সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে। সকালে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবং অনলাইনে একযোগে ফলাফল প্রকাশ করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফলাফল উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। পরীক্ষার্থীরাও শিক্ষা বোর্ডগুলোর এসব ওয়েবসাইট এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
এ ছাড়া যেকোনো মুঠোফোন নম্বর থেকে ১৬১৪০ বা ১৬২২২ নম্বরে এসএমএস করেও ফলাফল সংগ্রহ করা যাবে। শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংবাদপত্র অফিসে কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না। ফল প্রকাশের পর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য অনলাইনে ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানালেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
এসবি প্রধান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন
মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি :-
যশোর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সারদার নুরুল আমিন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে পৌঁছান। এ সময় তিনি ইমিগ্রেশনের সার্বিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসবি প্রধান সারদার নুরুল আমিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে অনেক যাত্রী ভারতে ভ্রমণে যাবেন এবং ভারত থেকেও অনেক যাত্রী বাংলাদেশে আসবেন। এসব যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বেনাপোল-কলকাতা রেল যোগাযোগ দ্রুত চালুর বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করা হবে। রেল যোগাযোগ চালু হলে দুই দেশের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
এসবি প্রধানের পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন, নাভারণ সার্কেলের পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশনের সার্বিক কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সম্পর্কে এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানি। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতরা হলেন—মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৯৩)। আহাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
হত্যার শিকার মনিরার ভাগনি মিমি বেগম বলেন, "কয়েক দিন আগে নানু রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর খালাতো ভাই আহাদ আমাদের ফোন দিয়ে জানায় নানু মারা গেছেন। তখন আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে খালার মোবাইলে কল করতে থাকি, কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন না। মঙ্গলবার আমরা খালার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই—এক রুমে নানুর মরদেহ, অন্য রুমের খাটের নিচে খালার মরদেহ এবং খালাতো ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। ঘরে খালার কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড; যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবরে হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশসহ সিআইডি ও পিবিআই-এর তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
সারাদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতীয়ভাবে বিশদ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।
দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে বীর জুলাইযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’
আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
আরও আয়োজন
এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বাগেরহাটে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে মা, ছেলে ও নানিসহ একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে এ ঘটনা সামনে আসে।
নিহতরা হলেন গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীরা বাড়ির বারান্দায় এক বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, বাড়িটি মূল সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াত কম। এ কারণে ঘটনাটি দ্রুত কারও নজরে আসেনি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার
আগামী ৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে র্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি যে–কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করছে।
র্যাব জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসটির সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কাশিমপুর ও সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। এ সময় কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে অনিয়মের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়।
বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্য কোনো ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।