তারাগঞ্জে সাড়া জাগিয়েছে রাইস পস্নান্টার
ফসলের মাঠে সবুজ ক্ষেতে, কৃষকের মুখে ম্স্নান হাসি। কৃষি নির্ভর রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের ফসলের মাঠে যখন সবুজ ধান ক্ষেতে চোখে পড়ে তখন কৃষকেরা হাসি মুখে ব্যস্ত্ম সময় পার করে ধান গাছের পরিচর্যার কাজে। এরপর ধীরে ধীরে ধান বের হওয়ার পর তা সময়ের পরিবর্তনে সোনালী রং ধারণ করে। তখন কৃষকের মুখে দেখঅ যায় ম্স্নান হাসি। কিন্তু বাধসাধে ধান গাছের চারা রোপন ধান গাছ কর্তনের সময়। এসময় এ উপজেলায় দেখা যায় ব্যাপক কৃষি শ্রমিক সংকট। শ্রমিক সংকটের ফলে কৃষকরা সময় মতো ধান গাছের চারা রোপন ও ধান গাছ কর্তন করতে পারে না। কৃষকদের এই সমস্যা থেকে উত্তোরণের লক্ষে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে নানান কর্মসূচির।
তারই ধারাবাহিকতায় এ উপজেলায় ২০২১ সালের ২৫ জুন রংপুর বিভাগ কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের সহায়তায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত ৭টি কৃষি গ্রম্নপকে দেওয়া হয়েছে ১টি করে রাইস পস্নান্টার (যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান গাছের চারা রোপন যন্ত্র)। উপজেলা কৃষি অফিসারের নিরলস প্রচেষ্টায় ও উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তাদের অক্লান্ত্ম পরিশ্রমের ফলে বর্তমানে উপজেলা জুরে সাড়া জাগিয়েছে রাইস পস্নান্টারের সাহায্যে ধান গাছের চারা রোপন। জানা যায়, বর্তমানে বিভিন্ন ইট ভাটা, কলকারখানাসহ বিভিন্ন কর্মস্থল সৃষ্টি হওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে তারাগঞ্জ উপজেলার কৃষি খাতে। এ উপজেলার ৯৮ শতাংশ মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধানের চারা রোপন, ধান গাছ কর্তন ও মারাইয়ের সময় এ উপজেলার কৃষকদের শ্রমিক সংকটের ফলে পড়তে ব্যাপক বিড়ম্বনায়। উপজেলা কৃষি দপ্তরের সহযোগীতায় বিভিন্ন গ্রম্নপ ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এ উপজেলায় কয়েকটি ধান মাড়াই যন্ত্র ধান মাড়াইয়ের কাজ করায় কৃষক কিছুটা নিশ্চিত হয়। কিন্তু ধানের চারা রোপন ও কর্তনে কৃষকদের বারবার পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। এরপর ধান গাছ কর্তনের জন্য এ উপজেলায় ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও সরকারি ভর্তুকীর মাধ্যমে নিয়ে আসা হয় ধান গাছ কর্তনের কয়েকটি কম্বাইন্ড হারভেষ্টার যন্ত্র। কিছুটা নিরসন কয় ধান গাছ কর্তনে কৃষকদের শ্রমিক সংকটের সমাধান। এরপরও কৃষকরা সমস্যার সম্মুখীন হয় ধানের গাছের চারা রোপন করতে গিয়ে। উপজেলা জুরে কয়েকটি অটো ইটভাটা নির্মিত হওয়ায় সারা বছরই ইটভাটাগুলোতে চলে ইট তৈরির কার্যক্রম। ফলে বর্তমানে সারা বছরই কৃষকদের শ্রমিক সংকটে পড়তে হয়। তারই ফলস্বরূপ ধানের চারা রোপনে শ্রমিক সংকট নিরসনে উপজেলা কৃষি দপ্তরের মাধ্যমে উপজেলার একটি কৃষক গ্রপে ১টি রাইস পস্নান্টার দেওয়া হয় পরীÿামূলক কার্যক্রম চালানোর লক্ষে তারাগঞ্জ উপজেলার রহিমাপুর বস্নকের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা শামসুজ্জামান বলেন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে তারাগঞ্জ উপজেলার রহিমাপুর বস্নকে ৭৮ জন কৃষকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সেখানে বাস্ত্মবায়ন করা হয় সমলয় পদ্ধতিতে ৫০ একর জমিতে ধান চাষ প্রকল্প। প্রকল্পটিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান গাছের চারা রোপন, নিরানী, ধান গাছ কর্তন ও মাড়াইসহ সকল কাজ করা হয় যান্ত্রিক পদ্ধতিতে। এতে সফলতা আসায় কৃষকরা আগ্রহী হয়ে ওঠে রাইস পস্নান্টার যন্ত্র ব্যবহারে। এরপর উপজেলার ৭টি কৃষক গ্রম্নপকে ২০২০-২১ অর্থ বছরে দেওয়া হয় ৭টি রাইস পস্নান্টার যন্ত্র। চলমান আমন মৌসুমে উপজেলার ৩টি বস্নকে প্রায় ২০ একর জমিতে মোট ৮টি রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের সাহায্যে রোপন করা হয়েছে ধান গাছের চারা। রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধান গাছের চারা রোপন অধিকতর সহজ, অল্প খরচ ও শ্রমিকের প্রয়োজন না পড়ায় কৃষকরা এখন রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের ব্যবহারে আগ্রহ প্রকাশ করছে বলে জোর দাবী জানায় উপজেলা কৃষি বিভাগ। মাত্র এক থেকে দুইজন শ্রমিকের সাহায্যে অতি অল্প সময়ে এবং অল্প খরচে অধিক পরিমাণ জমিতে রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধান গাছের চারা রোপন সম্ভব হওয়ায় এখন কৃষকরা এ যন্ত্রের প্রতি ঝুঁকছেন। এরপরও প্রথম দিকে এই যন্ত্রের প্রতি কৃষকরা উদাসীন থাকলেও উপজেলার বিভিন্ন বস্নকে প্রদর্শনীর মাধ্যমে এবং সমলয় পদ্ধতিতে ধান চাষে এসব যন্ত্রের ব্যবহারের ফলে কৃষকরা অধিক লাভবান হওয়ায় এখন এ যন্ত্রে ঝুঁকেছেন কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাস্সুম বলেন, রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের সাহায্যে ধান গাছের চারা রোপনে খরচ অনেক কম এবং স্বল্প সময়ে অধিধক পরিমাণ জমিতে এই যন্ত্রের সাহায্যে ধান গাছের চারা রোপন সম্ভব। একারণে এখন কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতি কৃষি ফসল উৎপাদনে বেশি বেশি অংশগ্রহণ করছে। এখানে সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ প্রকল্পে কৃষিকে যান্ত্রিকীকরনের অংশ হিসেবে রাইস পস্নান্টার যন্ত্রে সাহায্যে কিভাবে ধানের চারা রোপন করতে হয় এবং এ যন্ত্রের ব্যবহারের সুফলগুলো কিকি তা কৃষকদের মাঝে খুব সুন্দর ভাবে আমরা উপস্থাপন করেছি। তাই এখন এ উপজেলার কৃষকরা ধান গাছের চারা রোপনের কাজে রাইস পস্নান্টার যন্ত্রের প্রতি ঝুঁকছেন।
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানি। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতরা হলেন—মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৯৩)। আহাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
হত্যার শিকার মনিরার ভাগনি মিমি বেগম বলেন, "কয়েক দিন আগে নানু রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর খালাতো ভাই আহাদ আমাদের ফোন দিয়ে জানায় নানু মারা গেছেন। তখন আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে খালার মোবাইলে কল করতে থাকি, কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন না। মঙ্গলবার আমরা খালার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই—এক রুমে নানুর মরদেহ, অন্য রুমের খাটের নিচে খালার মরদেহ এবং খালাতো ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। ঘরে খালার কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড; যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবরে হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশসহ সিআইডি ও পিবিআই-এর তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
সারাদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতীয়ভাবে বিশদ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।
দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে বীর জুলাইযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’
আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
আরও আয়োজন
এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বাগেরহাটে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে মা, ছেলে ও নানিসহ একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে এ ঘটনা সামনে আসে।
নিহতরা হলেন গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীরা বাড়ির বারান্দায় এক বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, বাড়িটি মূল সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াত কম। এ কারণে ঘটনাটি দ্রুত কারও নজরে আসেনি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার
আগামী ৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে র্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি যে–কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করছে।
র্যাব জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসটির সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কাশিমপুর ও সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। এ সময় কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে অনিয়মের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়।
বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্য কোনো ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যশোরে মেয়ের হাতে প্রাণ হারালেন মা
যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০ বছর বয়সী মেয়ে শিরিনা খাতুনের হাতে থাকা শীলপাটার নোড়ার আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন মা সাহানা বেগম (৬১)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১ জুলাই) বিকালে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাহানা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভয়নগরের মশরহাটি গ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়ে শিরিনা খাতুন তার মায়ের মাথায় নোড়া দিয়ে সজোড়ে আঘাত করেন। এতে সাহানা বেগম রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পথিমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাহানা বেগম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন জানান, “গুরুতর আহত অবস্থায় সাহানা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু খুলনা নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।”
আইনগত ব্যবস্থা: অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
৩২ বছর পর আবারও চালুর পথে কুমিল্লা বিমানবন্দর
বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪
জুলাই সনদের আলোকে হবে আইন সংস্কার: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আইন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো সংস্কারই বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। বাকি বিষয়গুলো সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ ও মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও করা হবে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “তিনি নিজেই বলেছেন, দেশে ফিরবেন। তিনি এলে আদালতের মুখোমুখি হবেন। সরকার আইনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।”
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি আইন, আদালত, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে ওই ঘটনায় মামলাই হতো না। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত হবে এবং তদন্তে যাঁরা অভিযুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম. এ. মজিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।