বিটিসিএল-এর রাঘববোয়াল গিয়াস উদ্দিনের সিন্ডিকেট রাজত্ব, ফুঁসে উঠছে সাধারণ কর্মীরা
বিশেষ প্রতিবেদক
বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) যেন অনিয়ম, চরম স্বেচ্ছাচারিতা আর দুর্নীতির এক স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে। খোদ সরকারপ্রধান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর্মচারীদের নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করার জন্য বারবার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া সত্ত্বেও, বিটিসিএলের একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সেই নির্দেশকে বিন্দুমাত্র তোয়াক্কা করছে না। এই সিন্ডিকেটের অন্যতম মূল হোতা এবং শীর্ষ তালিকাভুক্ত দুর্নীতিবাজ কর্মচারী হলেন মো. গিয়াস উদ্দিন। প্রধান কার্যালয়ের কিছু অসাধু ও নীতিহীন কর্মকর্তাকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজের অনৈতিক রাজত্ব টিকিয়ে রেখেছেন। কর্মস্থলে না গিয়েও মাসের পর মাস সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা তুলে নেওয়া এবং ঢাকায় বসে অবৈধ দালালি চক্র নিয়ন্ত্রণ করাই এখন তার মূল পেশা।
গিয়াস উদ্দিনের এই সুসংগঠিত অপরাধ ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক সুনির্দিষ্ট পয়েন্টগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনাকে সরাসরি অবজ্ঞা ও ঔদ্ধত্য
বর্তমান সরকার দেশের সব স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শতভাগ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অথচ গিয়াস উদ্দিনের মতো প্রভাবশালী দুর্নীতিবাজরা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এই রাষ্ট্রীয় আদেশকে প্রকাশ্যেই বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। এটি শুধু এক ব্যক্তির অপরাধ নয়, বরং খোদ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর প্রশাসনিক ক্ষমতার প্রতি এক চরম ঔদ্ধত্য এবং চপেটাঘাত।
২. দুর্গম এলাকায় বদলি এড়াতে প্রতারণা ও ঢাকায় বিলাসী অবস্থান
বিটিসিএল-এর সূত্র অনুযায়ী, গত ২০ জানুয়ারি এক বিশেষ আদেশে মো. গিয়াস উদ্দিনসহ আরও বেশ কয়েকজন সিন্ডিকেট সদস্যকে তাদের দুর্নীতির শাস্তিস্বরূপ ঢাকার বাইরে পার্বত্য অঞ্চল রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি কিংবা সুনামগঞ্জের মতো প্রত্যন্ত ও প্রান্তিক এলাকায় বদলি করা হয়েছিল। কৌশলগত কারণে তারা কাগজে-কলমে নতুন কর্মস্থলে যোগদান দেখালেও, বাস্তবে একদিনের জন্যও নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পা রাখেননি। গিয়াস উদ্দিন তার কর্মস্থল রাঙামাটি বা খাগড়াছড়িতে যোগ না দিয়ে অবৈধভাবে ঢাকার গুলশান (পশ্চিম) এলাকার মতো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও বিলাসবহুল স্থানে আয়েশি জীবন যাপন করছেন, যা একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীর বৈধ আয়ের সাথে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ।
৩. কাজ না করে 'ভূতুড়ে' হাজিরায় রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাৎ
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী "নো ওয়ার্ক, নো পে" (কাজ নেই তো বেতন নেই) নীতি কার্যকর থাকার কথা থাকলেও গিয়াস উদ্দিনের ক্ষেত্রে তা সম্পূর্ণ উল্টো। কর্মস্থলে কোনো ধরনের দায়িত্ব পালন না করে এবং হাজিরা খাতা বা ডিজিটাল রেজিস্ট্রিতে কোনো উপস্থিতি না থাকা সত্ত্বেও, তিনি প্রতি মাস শেষে নিয়মিতভাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে মোটা অঙ্কের বেতন ও উৎসব ভাতা পকেটে পুরছেন। এই ধরনের জালিয়াতি দেশের সাধারণ করদাতাদের টাকার ওপর এক নির্মম ও প্রকাশ্য ডাকাতি।
৪. পর্দার আড়ালে কোটি কোটি টাকার 'বদলি বাণিজ্য' সিন্ডিকেট
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গিয়াস উদ্দিন শুধু নিজেই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন না, বরং তিনি বিটিসিএলের অভ্যন্তরে একটি শক্তিশালী 'বদলি বাণিজ্য ও তদবির সিন্ডিকেট' গড়ে তুলেছেন। প্রধান কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে আঁতাত করে মোটা অঙ্কের অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে যেকোনো কর্মচারীর বদলি বাতিল করা, ঢাকার ভেতরে পছন্দের জায়গায় পদায়ন করা কিংবা অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়ার পেছনে মূল কারিগর হিসেবে কাজ করে এই গিয়াস উদ্দিন চক্র।
৫. রহস্যময় ক্ষমতার উৎস ও স্থানীয় প্রশাসনের লাচারি
পার্বত্য অঞ্চলের ডিজিএম (টেলিকম) শিশির কুমার চক্রবর্তীর মতো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এই বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে, তারাও গিয়াস উদ্দিনের এই দীর্ঘমেয়াদী এবং নিয়মবহির্ভূত অনুপস্থিতির কোনো যৌক্তিক বা আইনি ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। কোনো প্রকার অনুমোদিত ছুটি ছাড়া একজন সাধারণ কর্মচারী কীভাবে মাসের পর মাস ঢাকায় বসে কাটানো সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয় না—তা এখন বিটিসিএলের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে বড় ধরনের ক্ষোভ ও রহস্যের জন্ম দিয়েছে।
৬. প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ধ্বংস ও সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ
গিয়াস উদ্দিনের মতো দুর্নীতিবাজদের এমন প্রকাশ্য ছাড় দেওয়ার কারণে বিটিসিএলের সৎ ও সাধারণ কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ এবং হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। আইন সবার জন্য সমান না হওয়ায় এবং অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ায় এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের চেইন অব কমান্ড বা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে।
যৌক্তিক প্রশ্ন ও অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি:
আজকে বিটিসিএলের সাধারণ কর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের একটাই প্রশ্ন—আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে এই মো. গিয়াস উদ্দিনকে আড়াল করা এই 'অদৃশ্য' শক্তির উৎস আসলে কোথায়? কিসের জোরে তিনি পুরো রাষ্ট্রযন্ত্র এবং প্রশাসনিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছেন?
একটি স্বায়ত্তশাসিত ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানকে কতিপয় দালালের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অবিলম্বে এই গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় মামলা দায়ের, তার অবৈধভাবে উত্তোলিত সরকারি অর্থ বাজেয়াপ্তকরণ এবং তাকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি এখনো চোখ বন্ধ করে থাকে, তবে বিটিসিএল-এর মতো একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান অচিরেই সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পতিত হবে।
বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।
পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।
বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
দেশ ছাড়ার পর হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এখন কোথায়?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ও পরে তার পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের প্রায় সবাই দেশ ছেড়েছেন। জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন।
পরিবারের বাইরে শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের বড় অংশও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে গেছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।জানা গেছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে কেবল আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন পরিচিত ছিলেন না।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ। তবে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
নিউজ সূত্র: যুগান্তর
দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা ইসিতে পাঠিয়েছে সংসদ
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনে (ইসি) ভোটার তালিকা পাঠিয়েছে সংসদ সচিবালয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ইসির কাছে এই তালিকা পাঠানো হয়।তালিকা পাওয়ার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল বা তারিখ ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে সংসদ সচিবালয়ের কাছে ভোটার তালিকা চায় নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি ইসি সচিব ভোটার তালিকা চাওয়ার তথ্য জানিয়েছিলেন।
গত সোমবার নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছিলেন, তারা ভোটার তালিকার জন্য পার্লামেন্ট সেক্রেটারিয়েটে অনুরোধ করেছেন।
ভোটার তালিকা পাওয়ার পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তারিখ এবং শিডিউল এই জিনিসগুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতা দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। সেই পদেই এখন ভোটের প্রস্তুতি চলছে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কেবল সংসদ সদস্যরা ভোট দিয়ে থাকেন।
তাই তাদের তালিকা নিয়ে ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে ইসি।
২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন
সরকারকে ব্যর্থ করতে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে : রিজভী
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, দেশে গ্যাস, হাম, ডেঙ্গুসহ সব ধরনের সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাজ করে যাচ্ছেন। তার অঙ্গীকার মোতাবেক জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি কাজ করছেন।কিন্তু সরকারকে ব্যর্থ করতে দেশের বিরুদ্ধে একটি দল চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়েও তাকে ব্যর্থ করতে নানা চক্রান্ত হয়েছে। এখনো তেমন চক্রান্ত হচ্ছে।
ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
রাজধানী ঢাকার চারপাশের নদীদূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ রক্ষা-সংক্রান্ত সভায় এ নির্দেশনা দেন তিনি।
সভা শেষে এ তথ্য জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামী এক মাসের মধ্যে এ কর্ম পরিকল্পনা জানানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, দূষণ যেন না বাড়ে, সেজন্য প্রতিটি কারখানায় ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, নদী না বাঁচলে ক্ষতির মুখে পড়বে মানুষ ও পরিবেশ। যারা এ নির্দেশনা মানবে না, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান তিনি।
সারা দেশের নদী দূষণমুক্ত করা হবে জানিয়েছে সিটি প্রশাসক জানান, সারা দেশের জন্যই হবে। তবে এই মুহূর্তে ঢাকাকে কেন্দ্র করে কার্যক্রমটি শুরু হবে।
ইস্তাম্বুলে যথাযোগ্য মর্যাদায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস পালিত
তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালায় ইস্তাম্বুলে বসবাসরত বাংলাদেশের বিভিন্ন পেশাজীবী ব্যক্তি, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ, কনস্যুলেট জেনারেলের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত করা হয়। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। এরপর দিবসটিকে উপজীব্য করে নির্মিত ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরবর্তী সময়ে দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভার মূল বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মুহাম্মাদ মীযানুর রহমান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, ন্যায়বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের সংগ্রামে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
কনসাল জেনারেল এ গণঅভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের অবদান ও আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, দায়িত্ববোধ এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৬-এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন। বক্তারা তাদের আলোচনায় গণ-অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণসহ এ সময়ের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর স্মৃতিচারণ করেন।
তারা গণ-অভ্যুত্থানের এ চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সামাজিক সম্প্রীতি এবং দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেন।
একই সাথে বক্তারা বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত ইতিহাস এবং শহীদদের আত্মত্যাগের বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যথাযথভাবে তুলে ধরতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।