কক্সবাজারে র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত -১
কক্সবাজার শহরের ভয়ংকর কিলার ও সন্ত্রাসী আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী (২৭) র্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে।
শনিবার (১৭ জুলাই) ভোরে শহরের ৬ নং ওয়ার্ডের সাহিত্যিকা পল্লী বড়বিল মাঠে লাশটি দেখতে পায় স্থানীয়রা। সে বিজিবি ক্যাম্প ফরেস্ট অফিস পাড়ার জাফর আলমের ছেলে। সাহিত্যিকা পল্লী ও সমিতি বাজারের মাঝামাঝি আশু আলী বাহিনীর অভয়ারণ্য।
তার বাহিনীর প্রধান আমির খান ২০১৯ সালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায়। অবশেষে সেকেন্ড ইন কমান্ড আশরাফ আলী ওরফে আশু আলীও একই পথের পথিক হলো। এখবরে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।
ফিরে দেখা:
২০১৭ সালে কক্সবাজার শহরের বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী এলাকার শরাফত আলীর ছেলে আবদুল কাদের বাধা দিতে গিয়ে তার একটি হাত সন্ত্রাসীর ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এসব ঘটনার হোতা ছিল আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী।
আর পঙ্গুত্ববরণ করতে হয় আবদুল কাদেরকে। পরের বছর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিজিবি ক্যাম্প ফরেস্ট অফিসের পেছনে কথা-কাটাকাটির জের ধরে আশরাফ আলী, আমির খান ও সরওয়াররা স্থানীয় মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে বাদশার পা কেটে দেয়। ২০১৯ সালের দিকে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যায় শহরের শীর্ষ অপরাধী আমির খান। ২০২০ সালের জুলাইয়ের দিকে শহরের সাবমেরিন এলাকায় বোনের বাসা থেকে বাবুর্চি হেলালকে ডেকে নিয়ে হত্যা করে আশু আলী। হেলাল উদ্দিন বিজিবি ক্যাম্প এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। এরপর একই সালের সেপ্টেম্বরের দিকে রাজমিস্ত্রি শফিউল্লাহকে কুপিয়ে হত্যা করে আশু আলী ও সাদ্দাম গ্যাং।
শফিউল্লাহ বিজিবি ক্যাম্প এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে। ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর কক্সবাজার বাস টার্মিনাস্থল বিএডিসির খামার-সংলগ্ন সড়কে আশু আলীর ছুরিকাঘাতে নিহত হন আনোয়ার হোছাইন। ঘটনার পরপরই আশু আলীর অন্যতম সহযোগী মৃত আবুল কালামের ছেলে সালমানসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু অধরা থাকে আশু আলী। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় মৃত মো. ইয়াছিনের ছেলে রুবেলকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে আশু আলী ও তার সক্রিয় সদস্যরা।
২০২১ সালের ২০ জানুয়ারি কক্সবাজার বিজিবি ক্যাম্প এলাকায় দিনদুপুরে জান্নাতুল ফেরদৌস কেমি নামের এক কলেজছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে আহত করে তার মোবাইল ফোন ছিনতাই করে ছটকে পড়ে আশু আলী চক্রের সদস্যরা। ২০২১ সালের জানুয়ারির দিকে বিজিবি ক্যাম্পের দক্ষিণ সাহিত্যিকা পল্লী সমাজ কমিটির ধর্ম ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সাবুকে গুলি করে হত্যা করে আশু আলী।
আশু আলীর উত্থান :
কক্সবাজার শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ড পশ্চিম চৌধুরী পাড়ার ফরেস্ট অফিসের পেছনে জাফর আলমের ছেলে আশরাফ আলী ওরফে আশু আলী। বর্তমান বয়স প্রায় ২৪ বছর। ১৬ বছর বয়সে আমিন খান (বন্দুকযুদ্ধে নিহত) গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসেবে চুরি-ছিনতাই শুরু করে সে। আমির খানের ছিল প্রায় ১২ জনের একটি ছিনতাইকারী গ্রুপ। ছিনতাইয়ের পাশাপাশি একাধিক হত্যাকা-ের হোতাও তারা। পরে আমির খানের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবেও কাজ করত আশু আলী। কক্সবাজার শহরের বেশির ভাগ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটত তাদের হাতে। গত তিন বছরে আশু আলীর হাতে খুন হন প্রায় পাঁচজন।
ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে শতাধিক। আহত হয়েছে হিসাবের বাইরে। এ ছাড়া ডাকাতি, অপহরণ ও চাঁদা আদায় রয়েছে অহরহ। বর্তমানে আশু আলীর গ্রুপে রয়েছে ৭ থেকে ৮ জন সন্ত্রাসী। আশু আলীর সঙ্গে সাদ্দাম বাহিনীর প্রধান সাদ্দামের সঙ্গে রয়েছে গভীর সমন্বয়। সাদ্দাম হোসেন (২৮) শহরের রুমালিয়ারছড়া সমিতি বাজার এলাকার মৃত সালেহ আহমদের ছেলে। সাদ্দামের নামেও তিনটি হত্যা মামলাসহ ডজনখানেক মামলা রয়েছে। তার গ্রুপেও রয়েছে ৮ থেকে ১০ জন সক্রিয় সদস্য।
তাদের আস্তানা :
কক্সবাজার শহরের বিশাল একটি পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হলো রুমালিয়ারছড়ার সমিতি বাজার, সিকদার বাজার, কক্সবাজার জেল কারাগারের পেছনের এলাকা, পল্লানিয়া কাটা, আমতলী পাহাড়ি এলাকা, সাতিহিত্যা পল্লীর ভেতরে, বিজিবি ক্যাম্পের পশ্চিমে ও আলীর জাহান গরুর হালদা এলাকা। এসব পাহাড়ি এলাকায় আশু আলী ও সাদ্দাম গ্রুপের আস্তানা।
দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া সমিতি বাজারে মামুনের একটি দোকান রয়েছে। মামুন দোকান থেকে আশু আলী ও সাদ্দাম বাহিনীর জন্য নিয়মিত খাবার সরবরাহ দেন তাদের আস্তানায়। এতে সহযোগিতা করেন সমিতি বাজার এলাকার আবদুল মাবুদের ছেলে তারেক। এমনকি অস্ত্রও সরবরাহ দেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে।
ঐ পাহাড়ি এলাকার বিশেষ করে জেল কারাগারের পেছনের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি তাদের আশ্রয়দাতা হিসেবে কাজ করছে। আশু আলী ও সাদ্দাম বাহিনীর কাছে সবাই অসহায়। তাদের হাতে জিম্মি প্রায় ৩০ হাজার মানুষ। নিয়মিত চাঁদা দিতে হয়। কারো বাড়িতে মেহমান এলে ছিনতাইয়ের শিকার হয়। ঘর নির্মাণ করতে বা জায়গা ক্রয়-বিক্রয় করলে তাদের দিতে হয় নিয়মিত চাঁদা।
এর বিরুদ্ধে কথা বলায় নিহত হয়েছে অনেকজন। আহত হয়ে অনেকেই এখন পঙ্গু। ভয়ে কেউ কথা বলে না। থানায় মামলা ও অভিযোগ রয়েছে ডজনের ওপর। শত শত ভুক্তভোগী অভিযোগ বা মামলাও করতে পারেনি। রাতের বেলায় তারা এলাকায় বিচরণ করে আর দিনের বেলায় ঘুমায়। একেক দিন একেক ঘরে তারা ঘুমায়। পাহারা দেন মহিলারা। কয়েকজন পুলিশ সদস্য বলেন, তাদের গ্রেপ্তার করতে বেশ কয়েকবার অভিযানও চালানো হয়েছিল, কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ায় সহজেই পালিয়ে যায় তারা।
এলাকার চিহ্নিত কয়েক ব্যক্তি তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছে। এদিকে, কক্সবাজার শহরের ক্রাইমজোন হিসেবে পরিচিত দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকা, সমিতি বাজার, সিকদার বাজার ও জেল কারাগারের পেছনের এলাকা আশু আলী ও সাদ্দাম বাহিনীর রাজত্ব। এসব এলাকায় নিয়মিত হত্যা, ছিনতাই, অপহরণ, ডাকাতি, জমি দখল, চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ কর্মকা- চলে আসছে।
এসব প্রতিরোধ করতে সবার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত দেড় বছর আগে দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়া এলাকায় করা হয় কক্সবাজার শহর পুলিশ-ফাঁড়ি। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশরাফ আলী ওরফে আশু আলীর বিরুদ্ধে হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র, ডাকাতি প্রস্তুতিসহ প্রায় ১২টি মামলা রয়েছে এবং সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, ডাকাতির প্রস্তুতিসহ প্রায় ৯টি মামলা রয়েছে।
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানি। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতরা হলেন—মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৯৩)। আহাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
হত্যার শিকার মনিরার ভাগনি মিমি বেগম বলেন, "কয়েক দিন আগে নানু রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর খালাতো ভাই আহাদ আমাদের ফোন দিয়ে জানায় নানু মারা গেছেন। তখন আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে খালার মোবাইলে কল করতে থাকি, কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন না। মঙ্গলবার আমরা খালার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই—এক রুমে নানুর মরদেহ, অন্য রুমের খাটের নিচে খালার মরদেহ এবং খালাতো ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। ঘরে খালার কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড; যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবরে হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশসহ সিআইডি ও পিবিআই-এর তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
সারাদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতীয়ভাবে বিশদ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।
দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে বীর জুলাইযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’
আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
আরও আয়োজন
এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বাগেরহাটে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে মা, ছেলে ও নানিসহ একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে এ ঘটনা সামনে আসে।
নিহতরা হলেন গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীরা বাড়ির বারান্দায় এক বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, বাড়িটি মূল সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াত কম। এ কারণে ঘটনাটি দ্রুত কারও নজরে আসেনি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার
আগামী ৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে র্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি যে–কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করছে।
র্যাব জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসটির সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কাশিমপুর ও সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। এ সময় কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে অনিয়মের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়।
বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্য কোনো ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যশোরে মেয়ের হাতে প্রাণ হারালেন মা
যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০ বছর বয়সী মেয়ে শিরিনা খাতুনের হাতে থাকা শীলপাটার নোড়ার আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন মা সাহানা বেগম (৬১)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১ জুলাই) বিকালে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাহানা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভয়নগরের মশরহাটি গ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়ে শিরিনা খাতুন তার মায়ের মাথায় নোড়া দিয়ে সজোড়ে আঘাত করেন। এতে সাহানা বেগম রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পথিমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাহানা বেগম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন জানান, “গুরুতর আহত অবস্থায় সাহানা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু খুলনা নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।”
আইনগত ব্যবস্থা: অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
৩২ বছর পর আবারও চালুর পথে কুমিল্লা বিমানবন্দর
বগুড়ায় দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪
জুলাই সনদের আলোকে হবে আইন সংস্কার: আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আইন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো জুলাই সনদের আলোকেই বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, আইন সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এর মধ্যে প্রায় সবগুলো সংস্কারই বর্তমান সরকার গ্রহণ করেছে। বাকি বিষয়গুলো সংশোধনের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট চত্বরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ ও মাসব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, “জুলাই সনদের আলোকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। যেসব বিষয়ে সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও করা হবে।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে সরকার আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, “তিনি নিজেই বলেছেন, দেশে ফিরবেন। তিনি এলে আদালতের মুখোমুখি হবেন। সরকার আইনের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।”
হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার যদি আইন, আদালত, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করত, তাহলে ওই ঘটনায় মামলাই হতো না। যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই আইনগত প্রক্রিয়ায় তদন্ত হবে এবং তদন্তে যাঁরা অভিযুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক এম. এ. মজিদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।