গাইবান্ধায় নেশার টাকা না পেয়ে মাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে

আল কাদরি কিবরিয়া সবুজ, (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি | প্রকাশিত: ৯:১২ অপরাহ্ন, ১৩ জুলাই ২০২১

গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের থানসিংহপুর গ্রামে সোমবার রাতে নেশার টাকা না পেয়ে মা খাতিজা বেগমকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নেশাগ্রস্ত ছেলে শাওন ইসলাম (২২) এর বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুস সাদেক বাদী হয়ে মঙ্গলবার সকালে ছেলের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। স্থানীয়রা জানায়, ওই গ্রামে আব্দুস সাদেকের ছেলে শাওন দীর্ঘদিন থেকে বিভিন্ন ধরণের মাদকে আসক্ত।

ঘটনার সময় শাওন তার মায়ের কাছে নেশা দ্রব্য কেনার জন্য টাকা চায়। টাকা দিতে না চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা খাতিজা বেগমকে এলোপাথারি মারপিট করতে থাকে। এ সময় বাঁধা দিতে গেলে তার বাবাকেও মারপিট করে শাওন।

এসময় খাতিজা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন সেখানে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে গাইবান্ধা জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার গভীর রাতে খাতিজা বেগম মারা যান। গাইবান্ধা সদর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মাহফুজুর রহমান জানান, ছেলের বিরুদ্ধে তার বাবা মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পরবর্তী খবর

এনসিপি নেতা সালাউদ্দিন তানভীর কারাগারে

| প্রকাশিত: ২:৫০ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর পোস্ট দেওয়ার মামলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সদস্য সচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় বুধবার (৫ আগস্ট) বগুড়া সদর আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদি হাসান এ আদেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার ভোর ৪টায় বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও সদর থানা-পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে রাজধানী ঢাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।


বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সম্প্রতি সিলেটে এনসিপির পথসভায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তানভীর। পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে তিনি পরবর্তীতে তা মুছে দেন এবং দুঃখ প্রকাশ করেন।


তবে এই ঘটনার জের ধরে বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল গত ২ আগস্ট সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলাটি করেন। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৯ জুলাই দেওয়া ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানহানিকর ও উসকানিমূলক মন্তব্য করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং জনমনে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

পোস্টের বিষয়টি কেন্দ্র করে ঘটনার শুরুতেই ১ আগস্ট তানভীরকে কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় এনসিপি। একই সঙ্গে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে দুই কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।


পরবর্তী খবর

শিল্পী মুজিব পরদেশী কারাগারে

| প্রকাশিত: ২:৪৫ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
চেক ডিজঅনার মামলায় লোকসংগীত শিল্পী, সুরকার ও সংগীত পরিচালক মুজিব পরদেশীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন।

দশ লাখ টাকার টেক ডিজঅনারের অভিযোগে ইদ্রিস আলী বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি ২০২২ সালের মাগুরার আদালতে মুজিব পরদেশীর বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলায় ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ মাগুরার দ্বিতীয় যুগ্ম দায়রা জজ মুহাম্মদ আনোয়ার ছাদাত এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং চেকের সমপরিমাণ ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করেন মুজিব পরদেশীকে। কিন্তু পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

সেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে সোমবার উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই হেলাল উদ্দিন বলেন, “পুলিশ আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে মুজিব পরদেশীর পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না। বাদীপক্ষের আইনজীবী সফিকুল ইসলাম জামিনের বিরোধিতা করেন।”

আসামির আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নেই মন্তব্য করে শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, “মামলার বিষয়ে অবগত থাকলেও তিনি পলাতক ছিলেন। সোমবার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। আসামিকে জামিন দিলে বাদীর ক্ষতি। সে জন্য তার জামিন নামঞ্জুর করে আসামিকে কারাগারে পাঠানোর প্রার্থণা করছি।”

মুজিব পরদেশীর আসল নাম মুজিবুর রহমান মোল্লা। তিনি আশির দশকে বাংলা লোকগীতির মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
পরবর্তী খবর

অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

| প্রকাশিত: ৫:৫৯ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কাশিমপুর ও সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। এ সময় কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে অনিয়মের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সতর্ক করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়।

বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্য কোনো ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পরবর্তী খবর

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে বেনজীরকে দেশে ফেরাতে ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করা হয়েছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

| প্রকাশিত: ১২:৩০ অপরাহ্ন, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমদকে আইনি পথে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার একটি অভিজ্ঞ ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করেছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে একটি অভিজ্ঞ ‘ল ফার্ম’ নিয়োগ করেছি। ল ফার্মকে ওই জামিন বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন বাতিল করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বেনজীর আহমদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। 



মন্ত্রী আজ রোববার বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইনস মাঠে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) আয়োজিত রাজশাহীস্থ সকল পুলিশ ইউনিটের অফিসার ও ফোর্সের সাথে এক বৈঠক শেষে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) জেল থেকে বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘বেনজীর আহমদ ইউএই ত্যাগ করতে পারবেন না’ এমন শর্তে সেখানে জামিন পেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। তবে আদালতের চূড়ান্ত শর্তাবলি জানতে জামিনের সার্টিফাইড কপির জন্য আবেদন করা হয়েছে।’ 



তিনি জানান, এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব এবং ইউএই-তে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। 

পরবর্তী খবর

দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেলেন বেনজীর

| প্রকাশিত: ৫:২১ অপরাহ্ন, ০২ অগাস্ট ২০২৬
দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত সোমবার (২৭ জুলাই) সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) আইনি প্রক্রিয়া শেষে কারামুক্ত হন বেনজীর।

কারামুক্তির পর দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে তিনি জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন। শারীরিকভাবেও সুস্থ আছেন। পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত কথা বলতে রাজি হননি।

তবে জানা গেছে, বেনজীরের জামিনের ক্ষেত্রে সেখানকার আদালত কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।

সূত্র আরও জানায়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথিপত্র এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে দুবাইয়ের আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে শর্তসাপেক্ষে বেনজীরকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন আদালত।

এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট শাখায় যোগাযোগ করা হলে তারাও কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হন সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ। দুবাই পুলিশের সহায়তায় এবং আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবহিত করে দুবাই পুলিশ।

এর আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একাধিক মামলা করে দুদক। এসব অভিযোগের তদন্তের অংশ হিসেবেই তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

আইজিপি হিসেবে বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। 

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তখনই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়। তার বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও রয়েছে।
পরবর্তী খবর

র‌্যাবের ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শন করলেন ট্রাইব্যুনালের ৩ বিচারক

| প্রকাশিত: ২:৩১ অপরাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৬

গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলার বিচারিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে র‍্যাবের আলোচিত টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেল, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, পরিদর্শন করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারকরা।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর উত্তরায় র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে গিয়ে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের বেঞ্চ ঘটনাস্থলের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনের সময় প্রসিকিউশন টিমের সদস্য এবং আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার। তার সঙ্গে ছিলেন সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।


পরিদর্শনকালে বিচারকরা টিএফআই সেলের বিভিন্ন কক্ষ ও স্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেন। বেলা ১১টার দিকে তারা র‍্যাব-১ সদর দপ্তরে পৌঁছান।

প্রসিকিউশন দলের পক্ষ থেকে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এম এইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, শাইখ মাহদী, সহিদুল ইসলাম সরদার ও তাসমিরুল ইসলামসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২১ জুলাই র‍্যাব, ডিজিএফআই ও ডিবির কথিত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল-১ ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেয়।

প্রসিকিউশনের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিরোধী মতের ব্যক্তিদের কথিত গোপন বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রমে ঘটনাস্থলের বাস্তব অবস্থা পর্যালোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেই পরিদর্শনের আবেদন করা হয়েছিল।


পরবর্তী খবর

নুসরাত হত্যা মামলা: চার দণ্ডপ্রাপ্তের স্বজনদের ন্যায়বিচারের দাবি

| প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ন, ৩০ জুলাই ২০২৬


নিজস্ব প্রতিবেদক:

ফেনীর বহুল আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির স্বজনরা দাবি করেছেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও ছয় বছরের বেশি সময় ধরে কারাভোগ করছেন। তারা চলমান হাইকোর্টের শুনানিতে নিরপেক্ষ বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার ছাদে নুসরাত জাহান রাফির গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় তদন্ত শেষে ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং বিচারিক আদালত সকল আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

বর্তমানে মামলাটি হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

দণ্ডপ্রাপ্তদের স্বজনদের দাবি, রুহুল আমিন, মকসুদ আলম (মকসুদ), মোহাম্মদ শামীম ও আবসার উদ্দীন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। তাদের অভিযোগ, তদন্তে প্রকৃত ঘটনা যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তারা হাইকোর্টে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছেন।

স্বজনরা বলেন, তারা আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখেন। তাদের প্রত্যাশা, হাইকোর্ট সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আইনি দিক পর্যালোচনা করে প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি বহাল রাখবেন এবং যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে না, তাদের খালাস দেবেন।

পরবর্তী খবর

সোনারগাঁয়ে বিএনপি কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

| প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জের ধরে রাজু আহমেদ (৩০) নামের এক সাবেক বিএনপি কর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।

রোববার (২৬ জুলাই) রাতে উপজেলার মেঘনা নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলের চরকিশোরগঞ্জ-চরহোগলা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। তবে পুলিশ বলছে, এটি রাজনৈতিক বিরোধ নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সংঘটিত হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজু একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার পূর্বের রেষারেষির জেরে বিরোধ সৃষ্টি হয়। ওই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।

জানা গেছে, রোববার রাতে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ও জাকিরের আধিপত্য বিস্তার এবং রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় রাজু সেখানে গিয়ে তাদের বিরোধ মীমাংসার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে নুরুল ও জাকিরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা রাজুর ফুফাতো ভাইকে না পেয়ে রাজুকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে।

রাজু আহমেদকে বাঁচাতে তার পরিবারের সদস্যরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পরিবারের আরও দুই সদস্যসহ তিনজনকে পিটিয়ে আহত করে। পরে এলাকাবাসী মুমূর্ষু অবস্থায় রাজু আহমেদকে উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। বাবার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করছিলাম। নুরুল ও জাকিরের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জের ধরেই এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্য এ ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নই।

সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক বিরোধ নাকি পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

পরবর্তী খবর

উখিয়ায় র‍্যাবের চেকপোস্টে ধরা ৫০ হাজার ইয়াবা, গ্রেপ্তার ৩

| প্রকাশিত: ১২:৩৭ অপরাহ্ন, ২৭ জুলাই ২০২৬



আনোয়ার হোসেন,

টেকনাফ, কক্সবাজার:::


কক্সবাজারের উখিয়ায় র‍্যাব-১৫-এর অভিযানে ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ইয়াবা পরিবহনে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশা জব্দ করা হয়।

র‍্যাব-১৫ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৫ সিপিসি-২-এর একটি দল রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ১টা ১০ মিনিটের দিকে উখিয়া উপজেলার রাজাপালং ইউনিয়নের উখিয়া দক্ষিণ স্টেশন এলাকায় কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসায়।

অভিযানের একপর্যায়ে একটি সন্দেহজনক সিএনজি অটোরিকশাকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। তবে চালক ও আরোহীরা সংকেত উপেক্ষা করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে র‍্যাব সদস্যরা ধাওয়া দিয়ে সিএনজিটি আটক করেন এবং এর তিন আরোহীকে গ্রেপ্তার করেন।

পরে তাদের সঙ্গে থাকা একটি সাদা প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে তল্লাশি চালিয়ে নীল রঙের ৫০টি এয়ারটাইট পলিপ্যাকেট উদ্ধার করা হয়। প্রতিটি প্যাকেটে এক হাজার পিস করে মোট ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়। একই সঙ্গে মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—উখিয়ার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা নুরুল হাকিম (২৮), মো. ইদ্রিস (৪৮) ও শামসুল আলম (২৪)।

র‍্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

র‍্যাব-১৫ জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবা, জব্দ করা সিএনজি অটোরিকশা ও অন্যান্য আলামতসহ গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাদের উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

পরবর্তী খবর

মিরপুরে দুর্বৃত্তের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত, আহত ২

| প্রকাশিত: ৩:২৪ অপরাহ্ন, ২৫ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১৩ নম্বর এলাকায় দুর্বৃত্তদের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক যুবদল কর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে মিরপুরের ই-ব্লকের ওপেক্স পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইউসুফ আলী (৪৫) যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি বরিশালের উজিরপুর থানার সাকরাল গ্রামের মৃত শাহজাহানের ছেলে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার কাফরুল এলাকায় বসবাস করতেন।


গুলিতে আহত দুজন হলেন কাঁচামাল ব্যবসায়ী নালাম সরদার (৪৫) ও ফুটপাতের কাপড় ব্যবসায়ী মনির হোসেন (৩২)। নালামের মাথার পেছনে এবং মনিরের পায়ে গুলি লেগেছে। তাদের দুজনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের রাজনৈতিক সহকর্মী মামুন জানান, শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি, ইউসুফ আলী এবং আরও দুজন ওপেক্স গার্মেন্টসের সামনে চা খেতে খেতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় ৪-৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় যুবক তাদের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিল। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে ইউসুফ আলী তাদের ডেকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘তোমাদের বাসা কোথায়? আমাদের ঘিরে এভাবে ঘুরছ কেন?’

মামুনের ভাষ্য, জবাবে তাদের একজন বলেন, ‘আমাদের বাড়ি মিরপুর-১০-এ।’ এরপর তারা সেখান থেকে চলে যেতে শুরু করলে ইউসুফ আলী একজনের হাত ধরে দাঁড়াতে বলেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়।


তিনি আরও জানান, একপর্যায়ে ওই যুবক ইউসুফ আলীকে ধাক্কা দিয়ে সরে গিয়ে পিস্তল বের করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করেন। এতে ইউসুফ আলীর বুকে গুলি লাগে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মামুন বলেন, এ ঘটনায় আরও দুইজন গুলিবিদ্ধ হন। তাদের একজনের মাথায় এবং অপরজনের পায়ে গুলি লাগে। তারা বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর স্থানীয়রা হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

কাফরুল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক ইউসুফ আলীকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর দুজনের চিকিৎসা চলছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।