লালমনিরহাটে হাতীবান্ধায় নজরদারির অভাবে প্রাইমারী স্কুল গুলোর বেহাল দশা
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় প্রধান শিক্ষকদের উদাসিনতায় প্রাইমারী স্কুল গুলোর বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সরকারী প্রতিষ্ঠান গুলো।
সারা বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাবের কারনে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। ফলে প্রতিষ্ঠান গুলোতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের নেই পদচারনা। মাধ্যমিক স্কুল ও কলেজ গুলোর অফিস খোলা থাকায় পরিবেশ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্থ না হলেও প্রাইমারী স্কুলগুলোর দেখভালের অভাবে চরম শোচনীয় অবস্থা বিরাজ করছে। বিশেষ করে প্রধান শিক্ষকদের উদাসিনতা ও প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে প্রাইমারী স্কুলে এখন স্থানীয়দের আবাদী ফসল রাখা ও তাস খেলার অভয় অরণ্য হয়েছে।
সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ওই উপজেলার পশ্চিম সারডুবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেনী কক্ষের দরজা খোলা এবং সেখানে কতিপয় লোকের ভুট্টার মোচা,ফসলী অন্যান্য জিনিস পত্র ও বারান্দায় গরু,ছাগলের বিষ্ঠা। এছাড়া পাশের আর একটি ভবনে ভুট্টার খড়ি দিয়ে সম্পূর্ণ বারান্দা ভরপুর। সরকারী অর্থ ব্যয়ে বাউন্ডারি দেয়াল থাকলেও মেইন গেট খোলা।
বিদ্যালয়টিতে ফসলী জিনিস পত্র রাখায় চুনকাম ও বিভিন্ন শিক্ষামূলক পেইনটিং ক্ষতিগ্রস্থ সহ শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সেখানে শ্রেনী কক্ষের দরজা খোলা থাকায় মাদক সেবনসহ যে কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ অনৈতিক ঘটনা ঘটতে পারে বলে স্থানীয়দের আশংকা। এবিষয়ে ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দার আলী ও শাহনাজ বেগম বলেন দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ।
মাস্টার,দপ্তরী কেউ খোজ খবর নেয় না, রুম খোলা তাই আমারা এসব রাখছি আর গেট খোলা থাকায় স্থানীয়রা গরু, ছাগল বেধে মাঠে ঘাস খাওয়ায়। কয়েকজন কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী বলেন,আমরা এলাকাবাসী স্কুলের বিভিন্ন অনিয়মের কথা প্রধান শিক্ষক কে বললেও তিনি উল্টো মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখান।
একই দিনে খানপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়েও দেখা যায়, একই চিত্র। মেইন গেট খোলা, স্থানীয় কিছু লোক দিন দুপুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বারান্দায় বসে তাস খেলছেন। বিদ্যালয়টিতে বাউন্ডারি দেয়াল থাকলেও দেয়ালের নিচে ২/৩ ফিট করে কোথাও কোথাও ফাকা আবার কোথাও মাটি ধষে গিয়ে ফাকা হওয়ার কারনে চতুর পাশ থেকে গরু,ছাগলসহ মানুষজন অনায়াসে প্রবেশ করতে পারে। ফলে বিদ্যালয়টির পরিবেশ যেমন দিন দিন নষ্ট হচ্ছে পাশাপাশি স্থানীয়দের তাস খেলাসহ নেশাখোরদের কারনে যুবসমাজ বিপদগামী হতে পারে বলে আশংকা করছেন অভিভাবক মহল।
এ বিষয়ে পশ্চিম সারডুবি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুন্নাহার ছবির সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন করোনার কারণে দীর্ঘদিন ধরে স্কুল বন্ধ থাকায় এলাকার লোকজন হয়তো এসব রেখেছে। তবে খানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফেরদৌসী আক্তারের ফোন বন্ধ থাকায় তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
বিষয়টি নিয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মো: জাকির হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি এ বিষয়ে জানেনা বলে জানিয়ে, বলেন, এখনই খোঁজ নিচ্ছি।
উল্লেখ্য যে, পশ্চিম সারডুবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহায়ক কাম নৈশপ্রহরী থাকা সত্ত্বেও যথাযথ নজরদারী না থাকায় বিদ্যালয়গুলো কতিপয় স্থানীয়দের গোডাউন ঘরে পরিনত হয়েছে।
সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে ইবিতে মানববন্ধন, শিক্ষকদের সংহতি
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এই মানববন্ধনের আয়োজন করে তারা। এসময় আগামী ১৭ তারিখের মধ্যে খুনিদের গ্রেফতার করতে না পারলে ভিসি কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক নেতারা।
এসময় শিক্ষক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন এবং সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম, গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান সহ অন্যান্য বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ।
এদিকে ছাত্রসংগঠনের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত, তালাবায়ে আরাবিয়ার সেক্রেটারি শামীম সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের হাতে ‘আজকে ৪ মাস ২৫ দিন বিচার হবে কবে?; ১৪৫ তম দিনেও কি প্রশাসনের টনক নড়ে না; সাজিদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ কই?; তদন্ত ঠিক কতদূর?; স্যার প্লিজ সন্তান ডাকিয়েন না; ভাইয়ের লাশ কবরে খুনি কেন বাহিরে; শিক্ষার্থীরা আপদ খুনিরা নিরাপদ” ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
এসময় শিক্ষার্থীরা বলেন, সাজিদ হত্যার ১৪৫দিন হয়ে গেছে কিন্তু এখনও খুনিদের বিচার হয়নি৷ যদি বিচার করতে না পারেন তাহলে সেটা স্পষ্ট করুন। বিচার না করলে আর থামব না, আমরা আমাদের আন্দোলন চালিয়ে যাব।
এসময় ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা সিদ্ধান্ত নিন, পুলিশের সাথে কথা বলুন এবং কতদিনে মধ্যে সাজিদের খুনিদের গ্রেফতার করাবেন তার প্রস্তুতি নিন, অথবা আপনারা ক্যাম্পাসের বাহিরে অবস্থান করুন। আপনারা বাংলোতে আরামে থাকবেন, পতাকাবাহী গাড়ি নিয়ে ঘুরে বেড়াবেন এটা আমরা দেখতে চাই না। সাজিদের খুনিদের কতদিনের মধ্যে গ্রেফতার করবেন সেই প্রস্তুতি নেন, না হলে আপনাদের পরিণতি কতটা খারাপ হবে সে জন্য প্রস্তুত থাকুন।
এসময় উপস্থিত শিক্ষক নেতারা বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহ নিজেও একজন জুলাই যোদ্ধা, আমরাও জুলাই যোদ্ধা। এইরকম একটা ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে আমরা চুপ থাকতে পারি না৷ হয় ইচ্ছাকৃতভাবে এটিকে বিলম্বিত করা হচ্ছে অথবা বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যর্থ। অনতিবিলম্বে সাজিদের হত্যাকারীর বিচার করতে হবে
ঢাকা ও আইডিয়াল কলেজ শিক্ষার্থীদের ফের সংঘর্ষ
রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি এলাকায় আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা।
পূর্বের শান্তি চুক্তি ভেঙে তারা মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সায়েন্স ল্যাব এলাকায় এই সংঘর্ষ শুরু করে।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় ঢাকা কলেজের একটি বাসে আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীরা ইটপাটকেল ছোড়ে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এর জের ধরেই সংঘর্ষ শুরু হয়।
ওসি আরও বলেন, আমরা ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে ক্যাম্পাসে ফেরত পাঠিয়েছি। আর আইডিয়াল কলেজ কলাবাগান থানা এলাকার আওতাধীন। সেখানকার পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
গত ৯ নভেম্বর নিউমার্কেট থানা পুলিশের মধ্যস্থতায় ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি মৌখিক ‘শান্তিচুক্তি’ হয়েছিল। আর মারামারি করবেন না বলে তখন প্রতিজ্ঞা করেছিলেন তারা।
ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করতে সহায়তা করবে -শিক্ষা সংষ্কার প্রস্তাবনা -গণসংহতি আন্দোলন
রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ
অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা,
যা সবার সব বয়সে জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে,
এবং অগ্রসর চিন্তা ও মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরীর মাধ্যমে
ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করতে সহায়তা করবে।
ভূমিকা
একটি রাষ্ট্রে বৈষম্য দুরীকরণের প্রথম ধাপ হচ্ছে সবার জন্য বাধাহীনভাবে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। এটি একদিকে কর্মক্ষম নাগরিক তৈরীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে, অন্যদিকে মানবিক গুনাবলী সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল ও অগ্রসর চিকার নাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতিকে সুসংহত করে।
ইতিপূর্বে ২০১০ সালে গৃহীত শিক্ষানীতি তখনকার বাস্তবতায় অনেক যুগোপযোগী হওয়া সত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিবাদি সরকার তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সেটি বাস্তবায়ন করেনি।
তারা মুখে বৈষম্য দুরীকরনের বাণী উচ্চারণ করলেও বাস্তবে উগ্র জাতীয়তাবাদের রাজনীতি অনুশীলনের মাধ্যমে জাতি বিভক্তিকরণকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
ফলে স্বাধীনতার পর থেকেই যেসকল বৈষম্য সমাজে বিদ্যমান ছিল, তার অধিকাংশগুলো বিগত সরকারের ১৭ বছরে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এর ফলে সমাজে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতি গঠন প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে প্রশ্ন ফাঁস এর মত কেলেংকারী সহ নানা দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে শিক্ষার মান এর ব্যাপক পতন ঘটে, যার ফলে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার এর হার উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশে তরুণদের মাঝে আত্নহত্যা ও মাদক গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং তাদের বেকারত্বের হতাশাকে পুঁজি করে দেশে মব কালচার দেখা দিয়েছে এবং অসহিষ্ণু বিভক্তির রাজনীতি তার অবস্থান দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।
গণসংহতি আন্দোলন বিশ্বাস করে যে, একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে সামাজিক ও
অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করতে সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং আমাদের জাতীয় ঐক্যের মাঝে যে ফাটলগুলো সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করে ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠনে সাহায্য করবে।
মূল লক্ষ্য
আমাদের প্রস্তাবিত শিক্ষা সংষ্কার এর মূল লক্ষ্য গুলো হবে
১) শিক্ষাকে বৈষম্যহীন ও সার্বজনীন করে তোলা
২) শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ
৩) নাগরিক ও মানবিক গুণাবলী এবং চারিত্রিক গঠন
৪) দেশের বিদ্যমান ও ভবিষ্যত শ্রম ঘাটতি পুরণে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন
৫) গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি তৈরী করে অর্থনৈতিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্নয়ন
৬) বয়স্ক শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার নীতি প্রণয়ন
শিক্ষার বৈষম্য দুরীকরণ
আমাদের শিক্ষা খাতে বৈষম্যের প্রধান কারন সমূহ হচ্ছে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা, যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত না হবার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যহত হওয়া, ও ঝরে পড়া, এবং আবাসন সংকট ও যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হবার কারণে ভাল শিক্ষক প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকতে না চাওয়া।
এসকল সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ অব্যাহত রাখতে হবে এবং নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে খেলার মাঠ সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত শর্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষকদের জন্য উন্নত আবাসন এর ব্যবস্থা এবং দুর্গম এলাকায় পুরোপুরি আবাসিক স্কুল নির্মাণ করতে হবে। এর ফলে গ্রামেও ভাল শিক্ষক থাকতে আগ্রহী হবেন এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে, এবং ঝরে পরার হার
কমে যাবে ।
দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম কে মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনায় তা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে, এবং দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা অর্জনকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
বয়স্ক নাগরিকেরা সাধারণ স্কুল এ নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে মানিয়ে নিতে সক্ষম নন। তাছাড়া নিয়মিত শিক্ষার্থীরা শৈশবে ও কৈশোরে যে পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তার অধিকাংশই বয়স্কদের উপযোগী নন।
তাই বাংলাদেশের জন্য উপযোগী বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতি (Adult Learning Method) বাস্তবায়ন করতে হবে।
অন্যদিকে অনলাইন মাধ্যম শিক্ষার জন্য দেশে দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি দূরশিক্ষণ, ঐচ্ছিক শিক্ষা, এমনকি বয়স্ক শিক্ষার জন্য কার্যকরী মাধ্যম হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন ভিত্তিক কোর্স চালু করবে। তবে এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এর জন্য অনলাইন শিক্ষা নীতিমালা তৈরী করতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা
বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ড ও নিয়মিত শিক্ষা বোর্ড এর কারিকুলাম এর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। ফলে আমাদের এই শিক্ষা সংষ্কার প্রস্তাবনা আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ড এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ এর প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কওমি শিক্ষা বোর্ড এর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়া হলেও প্রচলিত ব্যবস্থায় এর সমমান নিশ্চিত করণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এই প্ল্যাটফর্ম থেকে গণসংহতি আন্দোলন কওমি ঘরানার সম্মানিত আলেমদের আলোচনার জন্য আহবান জানাচ্ছে। যাতে আমরা বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সমমান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে পারি, একইসাথে আব্বাসীয় ও আন্দালুসীয় আমলের মাদ্রাসা শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করা যায়।
শিক্ষার মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত আর্থিক মুক্তি অর্জন হতে পারে না। বরং উন্নত জাতি গঠনের জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায় অন্যায়, সহনশীলতা, অপরের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন, ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ এর অভ্যাস ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান করা হবে।
পাঠ্যপুস্তকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সহ দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সহ অন্য সকল জনগোষ্ঠীর অবদান, এবং দেশের জন্য বিরল সম্মান অর্জনে তাদের কৃতিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হবে। যাতে করে সব জাতিগোষ্ঠীকে মর্যাদার চোখে দেখতে শেখানো
সম্ভব হয়।
এর ফলে দেশে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে, পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র রক্ষা পাবে, এবং জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
প্রদানের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।
১৩. বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কর্মচারী সমন্বয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে ধারা তার বদল ঘটাতে হবে। ছাত্রদের শিক্ষা আবাসন কিংবা শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই যাতে একমাত্র মাপকাঠি হয়, কারো রাজনৈতিক পক্ষপাত যাতে করে বিবেচনার বিষয় না হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সংস্কৃতি গড়ে তুলতে
হবে।
১৫. শিক্ষা খাতের সাথে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একীভূত করার চলবে না। এবং এই দুই খাতের বাজেট আলাদাভাবে প্রণয়ন
করতে হবে।
১৬. শিক্ষা খাতের পুনর্গঠনে একটি কমিশন গঠন করতে হবে এবং সেখানে যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষক, চিন্তক ও এ বিষয়ে সক্রিয় নাগরিকদের যুক্ত করতে হবে। এই পুনর্গঠনের জন্য সময় প্রয়োজন এবং তার সাথে সম্পর্কিত ভাবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে। তড়িঘড়ি করে কোন কিছু শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে যেসব পরিবর্তন প্রত্যাবশ্যক সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করে শিক্ষা কার্যক্রমের গতি সচল রাখতে হবে।
১৭. সকলে পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণের সময়কাল প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে হবে। উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষকদের অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
পরিশিষ্ট
প্রস্তাবের শুরুতেই বলা হয়েছিল শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু মানুষকে উপার্জনক্ষম করে তোলা নয়, বরং তার মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিকাশ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। গণসংহতি আন্দোলন বিশ্বাস করে যে আমাদের এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটার পাশাপাশি আমাদের বিভেদ দূর হয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠন প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। এবং আমরা অগ্রসর চিন্তার গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।
দুই ভবনের মাঝ থেকে ইস্ট ওয়েস্ট শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর আফতাবনগর এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির দুটি ভবনের মাঝের জায়গা থেকে এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার (সিসি ক্যামেরা) ফুটেজে দেখা গেছে, ওই শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ছাদ থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে গেছেন। তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফরাশ উদ্দিন ভবন ও মূল ভবনের মাঝের ফাঁকা জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মুশফিক উজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয়টির আইন বিভাগের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থী।
মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন মুশফিক। এক ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন বড়। খিলগাঁও ‘এ’ ব্লক এলাকায় ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মুশফিক বৃহস্পতিবার ক্লাস করতে গিয়েছিলেন। বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি ক্লাস থেকে বের হয়ে যান। কিছুক্ষণ পরেই কয়েকজন শিক্ষার্থী দুই ভবনের মাঝে তার মরদেহ দেখতে পান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে খবর দিলে তারা পুলিশকে জানায়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
জকসু নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করল ছাত্রশিবির
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য প্যানেল ঘোষণা করেছে ছাত্রশিবির। প্যানেলের নাম রাখা হয়েছে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচতলায় এই প্যানেল ঘোষণা করেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্যানেল অনুযায়ী, ভিপি পদে লড়বেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রিয়াজুল ইসলাম, আর জিএস পদে লড়বেন শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক, আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল আলিম আরিফ।
২১ সদস্যের এই প্যানেলে অন্যান্য পদে মনোনীতদের মধ্যে আছেন সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মাসুদ রানা, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক নুরনবী, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক সুখীমন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক আবির মোহাম্মদ ফারুক, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নওশিন জয়া, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক নাহিদ হাসান রাসেল, ক্রীড়া সম্পাদক জরজিস আলম, পরিবহন সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান এবং পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক সোহাগ আহমেদ।
এছাড়া ৭টি নির্বাহী সদস্য পদে লড়বেন আক্তার, সালেহ মহসিন সিয়াম, ফাতেমা আক্তার অওরিন, আকিব হাসান, কাজী আরিফ, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান এবং আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
প্যানেল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মুতাসসিম বিল্লাহ, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক আসাদুল ইসলাম এবং অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
এইচএসসি ও সমমানের পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ
২০২৫ সালের এইচএসসি, আলিম এবং সমমান পরীক্ষার পুনঃনিরীক্ষণের (Re-scrutiny) ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় দেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর পক্ষ থেকে এই ফল প্রকাশ করা হয়।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবেদনের প্রতি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। পুনঃনিরীক্ষণের প্রতিটি খাতা সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল জানতে পারবে। পাশাপাশি আবেদনকারীদের মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।
শাকসু নির্বাচন ১৭ ডিসেম্বর
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন আগামী ১৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাত ৯টায় উপাচার্যের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী এ ঘোষণা দেন।
উপাচার্য জানান, প্রশাসন চাইছে নির্বাচনটি সুষ্ঠু, উৎসবমুখর ও অংশগ্রহণমূলক হোক। শিক্ষার্থীদের সক্রিয় উপস্থিতি ও সহযোগিতা পাওয়া গেলে এ লক্ষ্য পূরণ সম্ভব।
এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও হঠাৎ তা স্থগিত করা হয়।
বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। রাত ৮টা থেকে তারা প্রশাসনিক ভবন-১-এর সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন। পরে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে ভবনের দরজায় তালা লাগিয়ে দেন এবং মিছিল নিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান অব্যাহত রাখেন।
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন এবং প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান এসে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তারিখ ঘোষণা করা হবে। তবে শিক্ষার্থীরা রাতেই ঘোষণা দেওয়ার দাবি তুলে তাদের অবস্থান চালিয়ে যান।
অবশেষে রাত ১টার দিকে উপাচার্য এসে আলোচনা করেন এবং জানান—শুক্রবারই শাকসু নির্বাচনের তারিখ ও তফসিল প্রকাশ করা হবে।
আলোচনার সময় উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রার উপস্থিত থাকলেও নির্বাচন কমিশনের কোনো প্রতিনিধি সেখানে ছিলেন না।
প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের ১০ম গ্রেডে বেতন দিতে সম্মত
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সম্মতি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।
গতকাল সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (বাস্তবায়ন অনুবিভাগ-১) মো. মাহবুবুল আলমের সই করা অফিস আদেশ থেকে এই তথ্য জানা গেছে।
অফিস আদেশে ৬৫ হাজার ৫০২টি প্রধান শিক্ষক পদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের বাস্তবায়ন অনুবিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. মাহবুবুল আলম বলেন, তিনটি শর্তে প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণে অর্থ বিভাগ সম্মতি জানিয়েছে। গত রোববার জারি করা ওই আদেশ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
মাহবুবুল আলম বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষক পদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করতে যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো মানা, বিধিমালা অনুসারে নিয়োগ এবং অন্য বিধিবিধান ও আনুষ্ঠানিকতা মানার শর্তে এই সম্মতি দিয়েছে বাস্তবায়ন অনুবিভাগ।
গত ২৮ জুলাই অর্থ বিভাগের ব্যয় ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ ও অক্টোবরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৬৫ হাজার ৫০২টি প্রধান শিক্ষক পদের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করার সম্মতি দিয়েছিল।
২৮ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, সরকার দেশের ৬৫ হাজার ৫০২টি প্রধান শিক্ষক পদের বেতন স্কেল বিদ্যমান ১১তম গ্রেড (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং ১২তম গ্রেড (প্রশিক্ষণবিহীন) থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণে সম্মতি দেয়।
এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা হয়।
এদিকে গত ২৭ অক্টোবর গেজেটেড কর্মকর্তার পদমর্যাদাসহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেডে উন্নীত করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সর্বোচ্চ আদালতে রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে ওই ৪৫ জন প্রধান শিক্ষকের বেতন ১০ম গ্রেডে নির্ধারণে মন্ত্রণালয়টি বাধ্য হয়েছিল।
ইবতেদায়ী শিক্ষকদের অনশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি
বিভিন্ন দাবি আদায়ের লক্ষ্যে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে টানা ২৮তম দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষকরা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে তারা আমরণ অনশনে যাবেন।
রোববার (৯ নভেম্বর) তারা এই হুঁশিয়ারি দেয়।
পুলিশের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষকদের সংঘর্ষ
দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলনরত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের শাহবাগ অভিমুখী পদযাত্রায় বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে আন্দোলনরত শিক্ষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ।
এর আগে, দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবি আদায়ে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা।
‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ব্যানারে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির বিভিন্ন অংশসহ চারটি সংগঠন এ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সংগঠনগুলো হলো- বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (শাহিন-লিপি) এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। এ ছাড়াও ঢাকা–চট্টগ্রাম বিভাগের তৃতীয় ধাপে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও আন্দোলনে যোগ দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শহীদ মিনারে অবস্থান নেওয়া শিক্ষকরা বলছেন, উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে বেতন নিতে গেলে অফিস সহকারীরা ১২তম গ্রেডে বেতন পান, আর তারা শিক্ষক হয়ে পান ১৩তম গ্রেডে। এই গ্রেড বৈষম্যের কারণে সম্মানও পান না তারা।
শিক্ষকদের অভিযোগ, তাদের আয় এতো কম যে, বাজারে গিয়ে ভালো মাছও কেনা সম্ভব হয় না। দুই ঈদের বোনাস দিয়েও ঈদ ঠিকভাবে করতে পারেন না। দেশে শিক্ষকদের এমন অবমূল্যায়ন অগ্রহণযোগ্য।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন–লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি বলেন, ‘আলোচনা বহুবার হয়েছে, কিন্তু কোনো ফল নেই। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথেই থাকব।’
সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিগুলো হলো- ১০ম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি বাস্তবায়ন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি, আর শিক্ষক সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৮৪ হাজার।