জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের কক্সবাজার সম্মেলন'২১ উদযাপন
কক্সবাজারে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেডের উদ্যোগে কক্সবাজার সম্মেলন'২০২১ উদযাপন হয়েছে।
শনিবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধা ৬টায় কক্সবাজারের বলরুম, হোটেল সী প্যালেস অডিটোরিয়ামে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা ফরিদুন্নাহাী লাইলী, মাননীয় চেয়ারম্যান পরিচালনা পর্ষদ ও সাবেক সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন, মাননীয় চেয়ারম্যান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মো. শাহ আলম, পরিচালক বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষসহ শুভানুধ্যায়ীবৃন্দ। এছাড়া আরোও উপস্থিত ছিলেন, জেনিথ ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান।
সারাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১হাজার ব্যবসা সফল উন্নয়ন কর্মকর্তা এতে অংশ গ্রহণ করেন।এসময়, বীমা খাতে বীমা দাবি নিষ্পত্তিতে জেনিথ ইসলামী লাইফ দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কোম্পানিটির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নুরুজ্জামান।
তিনি বলেন, বীমা দাবি পরিশোধের বিষয়ে বলতে গেলে জেনিথ লাইফ খুবই আন্তরিক এবং অত্যন্ত তড়িৎ গতিতে দাবি নিষ্পত্তি করে থাকে।
এস এম নুরুজ্জামান বলেন, এই মুহূর্তে কোন প্রকার বীমা দাবি আমাদের হাতে পেন্ডিং নেই। কাস্টমার সার্ভিস খুবই স্বল্পতম সময়ে প্রদান করা হচ্ছে। পলিসি করার সাথে সাথেই ইস্যু করা হচ্ছে বীমা দলিল। গ্রাহক স্বার্থে বর্তমানে আমরা ইমেইল, হোয়াটস এ্যাপ, ইমু, ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে দাবির আবেদন পত্র গ্রহণ করে দাবি নিষ্পত্তি করে থাকি।
তিনি বলেন, জেনিথ ইসলামী লাইফ সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক একটি লাইফ বীমা কোম্পানি। এর যাবতীয় ঋণ ২০১৮সাল থেকে ২০২১সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে, যার পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৩১ লাখ টাকারও বেশি। পাশাপাশি ৪কোটি টাকারও অধিক ব্যাংকে এফডিআর করা হয়েছে।
বিশেষ অতিথি মো. শাহ আলম, পরিচালক বীমা উন্নয়ন তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ইন্স্যুরেন্সে চাকুরী করে হীনমন্যতার কোনো অবকাশ নেই। আপনাদের সারাদেশ থেকে আজকের এ উপস্থিতিতেই পরিষ্কার ধারণা করা যাচ্ছে আপনাদের মতো সুদক্ষ কর্মী থাকলে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স সারা দেশে দ্রত সাফল্যের সাথে বিস্তার লাভ করবে।
প্রধান অতিথি আইডিআরএ চেয়ারম্যান ড. এম মোশাররফ হোসেন, মাননীয় চেয়ারম্যান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ তার বক্তব্যে বলেন, জেনিথ ইসলামী লাইফ একটি ৪র্থ প্রজন্মের বেসরকারী লাইফ বীমা কোম্পানি। জেনিথ ইসলামী লাইফের রূপকল্প হচ্ছে ‘আজই আপনার আর্থিক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করুণ’।
ব্যবসায়ীক উপযোগিতা বিবেচনা করে মেটলাইফের ন্যায় ইনচার্জের নামে এজেন্সি ভিত্তিক অফিস প্রথার চালু করা হয়েছে। সারা দেশে বিস্তৃত ১০০টির অধিক স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে প্রতি গ্রাহককে লাইফ কেয়ার কার্ড দেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, একক ও গ্রুপ বীমার মৃত্যুদাবিসহ স্বাস্থ্য বীমা দাবি, মেয়াদোত্তর বীমা দাবি, এসবি ও সমর্পণ মূল্য বাবদ এখন পর্যন্ত ৯কোটি ২০লাখ ৫০হাজার টাকার দাবি পরিশোধ করেছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স। ফলে এই মুহূর্তে কোন প্রকার দাবি আমাদের হাতে পেন্ডিং নাই।
জেনিথ ইসলামী লাইফের এই অল্প সময়ে আমাদের সাথে যে ৭৬টি প্রতিষ্ঠানের গ্রুপ বীমা চুক্তি রয়েছে তার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্টদের জীবন ও স্বাস্থ্য বীমা দেশের ইতিহাসে খুবই বিরল। কোম্পনির আর্থিক ভিত্তি মজবুত করার লক্ষ্যে নবায়ন প্রিমিয়াম, গ্রুপ বীমা এবং স্বাস্থ্য বীমা পলিসিতে প্রতি অধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। তার মধ্যে মেট্রো প্রজেক্ট এবং সিটি প্রকল্প অন্যতম।কোম্পানির ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ বাংলা এবং ইংরেজি এই দুই ভাষায় রচিত। সহজে প্রিমিয়াম দেয়ার জন্য রয়েছে ১৫টি ব্যাংকের সাথে অনলাইন একাউন্ট।
সর্বপরি তিনি গ্রাহকদের প্রতি আন্তরিক হতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে তৎপর থেকে কাজ করে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন গ্রাহক যাতে যথাযথভাবে আন্তরিকতার সাথে প্রিমিয়াম জমা দেন সে পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারলেই বীমার প্রতি সকলের আস্থা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।
আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানালেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
এসবি প্রধান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন
মনির হোসেন,বেনাপোল প্রতিনিধি :-
যশোর বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি সারদার নুরুল আমিন।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনে পৌঁছান। এ সময় তিনি ইমিগ্রেশনের সার্বিক কার্যক্রম, যাত্রীসেবার মান, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সীমান্ত দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় পরিদর্শন করেন।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসবি প্রধান সারদার নুরুল আমিন বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা চালু করেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে অনেক যাত্রী ভারতে ভ্রমণে যাবেন এবং ভারত থেকেও অনেক যাত্রী বাংলাদেশে আসবেন। এসব যাত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে বেনাপোল-কলকাতা রেল যোগাযোগ দ্রুত চালুর বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করা হবে। রেল যোগাযোগ চালু হলে দুই দেশের যাত্রীদের যাতায়াত আরও সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।
এসবি প্রধানের পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) শাখাওয়াত হোসেন, নাভারণ সার্কেলের পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন, বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুর রহমান খান, বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইমিগ্রেশনের সার্বিক কার্যক্রম ও যাত্রীসেবা সম্পর্কে এসবি প্রধানকে অবহিত করেন।
মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
বাগেরহাটের কচুয়ায় একই পরিবারের দুই নারীসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা সম্পর্কে মা, ছেলে ও নানি। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রাঢ়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরখোলা গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের বাড়ি থেকে মরদেহ তিনটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অন্তত দুই থেকে তিন দিন আগে তাদের মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবি এটি পরিকল্পিত হত্যা।
নিহতরা হলেন—মৃত আবদার আলী হাওলাদারের স্ত্রী মনিরা বেগম মনি (৬০), তার ছেলে আহাদ আলী হাওলাদার (২৫) এবং মনিরার মা রাশিদা বেগম (৯৩)। আহাদ পেশায় একজন ইলেকট্রিক মিস্ত্রি ছিলেন। রাশিদা বেগম কয়েক দিন আগে মেয়ে মনিরার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।
হত্যার শিকার মনিরার ভাগনি মিমি বেগম বলেন, "কয়েক দিন আগে নানু রাশিদা বেগম খালা মনিরার বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর খালাতো ভাই আহাদ আমাদের ফোন দিয়ে জানায় নানু মারা গেছেন। তখন আমরা ঘটনার বিস্তারিত জানতে খালার মোবাইলে কল করতে থাকি, কিন্তু গত তিন দিন ধরে তিনি ফোন রিসিভ করছিলেন না। মঙ্গলবার আমরা খালার বাড়িতে এসে ঘরে ঢুকে বীভৎস দৃশ্য দেখতে পাই—এক রুমে নানুর মরদেহ, অন্য রুমের খাটের নিচে খালার মরদেহ এবং খালাতো ভাইয়ের মরদেহ খাটের ওপর পড়ে আছে। ঘরে খালার কিছু টাকা-পয়সা ছিল। এটি একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড; যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।"
হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ থাকতে পারে এবং কীভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এদিকে একই পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুর খবরে হাজারো মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমায় এবং পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্নায় পুরো বাড়ির পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ঘটনার খবর পেয়ে জেলা পুলিশসহ সিআইডি ও পিবিআই-এর তদন্ত দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, নির্মম এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ
সারাদেশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দিবসটি পালিত হবে। জাতীয়ভাবে বিশদ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে।
দিনটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পৃথক বাণীতে বীর জুলাইযোদ্ধাসহ দেশপ্রেমিক সব নাগরিককে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তারা। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের রুহের মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করেন।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশার বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনের জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, বৈষম্যহীন ও সুখী-সমৃদ্ধ নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি। একই সঙ্গে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একযোগে কাজ করি।’
আন্দোলনে শহীদ ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান প্রদান, তাদের পরিবারের কল্যাণ, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নিরপেক্ষ, সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে আশ্বাস দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। বাংলাদেশকে শান্তি, সাম্য, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আরও দৃঢ়তার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বাণীতে বলেন, ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার এক ঐতিহাসিক বিজয়। এই আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য যে কোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। বাংলাদেশে আর কখনও স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া যাবে না।
পৃথক বাণীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন।
জাতীয় পর্যায়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপনে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। সকালে দেশের ৬৪ জেলায় জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো জাতীয় পতাকাসহ ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশানে সাজানো হবে।
এদিন সকাল ৯টায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা ১১টায় রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
আরও আয়োজন
এ উপলক্ষে বিএনপি গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিশেষ আলোচনা সভা করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দল আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে গণসমাবেশ করবে।
এ ছাড়া গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স, গণফোরামসহ বিভিন্ন দল ও সংগঠন দিনব্যাপী বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
বাগেরহাটে মা-ছেলেসহ একই পরিবারের ৩ জনের গলিত লাশ উদ্ধার
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় একটি বসতঘর থেকে মা, ছেলে ও নানিসহ একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার রাড়ীপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামে এ ঘটনা সামনে আসে।
নিহতরা হলেন গ্রামের মৃত আবদার আলী হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫), তাঁর মা মনিরা বেগম (৬০) এবং নানি রাশিদা বেগম (৯৩)। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহে পচন ধরায় ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি কয়েক দিন আগে ঘটেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবেশীরা বাড়ির বারান্দায় এক বৃদ্ধার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে আরও দুটি মরদেহ উদ্ধার করে।
কচুয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাহমুদ হাসান বলেন, বাড়িটি মূল সড়ক থেকে কিছুটা ভেতরে হওয়ায় সেখানে মানুষের যাতায়াত কম। এ কারণে ঘটনাটি দ্রুত কারও নজরে আসেনি।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হারুন অর রশিদ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দুই থেকে তিন দিন আগে এ ঘটনা ঘটেছে। কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস ঘিরে দেশজুড়ে র্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার
আগামী ৫ আগস্ট 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬' উপলক্ষ্যে ঢাকাসহ সারাদেশে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে র্যাব। দিবসটি ঘিরে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী কুচক্রী মহল যেন নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও সাইবার পেট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অপরাধ দমনে র্যাব পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। পাশাপাশি যে–কোনো ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করছে।
র্যাব জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি ব্যাটালিয়ন নিজ নিজ এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করে পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম আরও বাড়ানো হয়েছে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানস্থল, রোডমার্চ ও পদযাত্রার নির্ধারিত রুট এবং জুলাই স্মৃতিস্তম্ভগুলোতে ৪ আগস্ট রাত থেকেই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালাবেন। দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় রেখে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সম্ভাব্য নাশকতা ঠেকাতে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রতিটি জেলার অনুষ্ঠানস্থল ও জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে দিবসটির সাত দিন আগে থেকেই ইউনিফর্মধারী ও সাদা পোশাকের র্যাব সদস্যরা নজরদারি চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধে সাইবার পেট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে সব নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বাহিনীটি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে দায়িত্ব পালন করবে।
অনিয়মের অভিযোগে কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত
গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়মের অভিযোগে তহশিলদারসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) আকস্মিক পরিদর্শনের সময় এ সিদ্ধান্ত নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে জেলা প্রশাসক কাশিমপুর ও সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শনে যান। কাশিমপুর ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা লোকজন বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন তিনি। এ সময় কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসক সফিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। সেখানে অনিয়মের অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট তহশিলদারকে সতর্ক করা হয়।
এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক নয়।
বরখাস্তের সিদ্ধান্ত শুধু কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। জেলার অন্য কোনো ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
যশোরে মেয়ের হাতে প্রাণ হারালেন মা
যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে ২০ বছর বয়সী মেয়ে শিরিনা খাতুনের হাতে থাকা শীলপাটার নোড়ার আঘাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন মা সাহানা বেগম (৬১)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১ জুলাই) বিকালে উপজেলার ভাঙ্গাগেট মশরহাটি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।
নিহত সাহানা বেগম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভয়নগরের মশরহাটি গ্রামে ভাড়া বাসায় থেকে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্র জানায়, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মেয়ে শিরিনা খাতুন তার মায়ের মাথায় নোড়া দিয়ে সজোড়ে আঘাত করেন। এতে সাহানা বেগম রক্তাক্ত হয়ে গুরুতর আহত হন। তার চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। কিন্তু পথিমধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সাহানা বেগম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন জানান, “গুরুতর আহত অবস্থায় সাহানা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু খুলনা নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।”
আইনগত ব্যবস্থা: অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেয়েকে আটক করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। মরদেহ বর্তমানে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা আছে। ময়নাতদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
৩২ বছর পর আবারও চালুর পথে কুমিল্লা বিমানবন্দর
সর্বশেষ - দেশজুড়ে
- ১ আন্তর্জাতিক বাজারে পেয়ারা রপ্তানির সম্ভাবনার কথা জানালেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন
- ২ এসবি প্রধান বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন
- ৩ মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ হচ্ছে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস
- ৪ বাগেরহাটের ঘরে মিলল মা, ছেলে ও নানির মরদেহ: স্বজনদের দাবি পরিকল্পিত হত্যা
- ৫ ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস আজ