ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করতে সহায়তা করবে -শিক্ষা সংষ্কার প্রস্তাবনা -গণসংহতি আন্দোলন
রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ
অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন, ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা,
যা সবার সব বয়সে জ্ঞান অর্জনের পথ উন্মুক্ত করার মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করবে,
এবং অগ্রসর চিন্তা ও মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল নাগরিক তৈরীর মাধ্যমে
ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন করতে সহায়তা করবে।
ভূমিকা
একটি রাষ্ট্রে বৈষম্য দুরীকরণের প্রথম ধাপ হচ্ছে সবার জন্য বাধাহীনভাবে মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। এটি একদিকে কর্মক্ষম নাগরিক তৈরীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করে, অন্যদিকে মানবিক গুনাবলী সমৃদ্ধ দায়িত্বশীল ও অগ্রসর চিকার নাগরিক গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য এবং সংহতিকে সুসংহত করে।
ইতিপূর্বে ২০১০ সালে গৃহীত শিক্ষানীতি তখনকার বাস্তবতায় অনেক যুগোপযোগী হওয়া সত্ত্বেও বিগত ফ্যাসিবাদি সরকার তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সেটি বাস্তবায়ন করেনি।
তারা মুখে বৈষম্য দুরীকরনের বাণী উচ্চারণ করলেও বাস্তবে উগ্র জাতীয়তাবাদের রাজনীতি অনুশীলনের মাধ্যমে জাতি বিভক্তিকরণকেই প্রাধান্য দিয়েছে।
ফলে স্বাধীনতার পর থেকেই যেসকল বৈষম্য সমাজে বিদ্যমান ছিল, তার অধিকাংশগুলো বিগত সরকারের ১৭ বছরে প্রকট আকার ধারণ করেছে।
এর ফলে সমাজে তীব্র অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছে, যা জাতি গঠন প্রক্রিয়াকে বিনষ্ট করার মাধ্যমে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
এছাড়াও বিগত সরকারের আমলে প্রশ্ন ফাঁস এর মত কেলেংকারী সহ নানা দুর্নীতি ও দলীয়করণের ফলে শিক্ষার মান এর ব্যাপক পতন ঘটে, যার ফলে দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকার এর হার উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশে তরুণদের মাঝে আত্নহত্যা ও মাদক গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এবং তাদের বেকারত্বের হতাশাকে পুঁজি করে দেশে মব কালচার দেখা দিয়েছে এবং অসহিষ্ণু বিভক্তির রাজনীতি তার অবস্থান দৃঢ় করতে সক্ষম হয়েছে।
গণসংহতি আন্দোলন বিশ্বাস করে যে, একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের দেশে সামাজিক ও
অর্থনৈতিক বৈষম্য দুর করতে সর্বাধিক গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রাখবে, এবং আমাদের জাতীয় ঐক্যের মাঝে যে ফাটলগুলো সৃষ্টি হয়েছে তা মেরামত করে ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠনে সাহায্য করবে।
মূল লক্ষ্য
আমাদের প্রস্তাবিত শিক্ষা সংষ্কার এর মূল লক্ষ্য গুলো হবে
১) শিক্ষাকে বৈষম্যহীন ও সার্বজনীন করে তোলা
২) শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ
৩) নাগরিক ও মানবিক গুণাবলী এবং চারিত্রিক গঠন
৪) দেশের বিদ্যমান ও ভবিষ্যত শ্রম ঘাটতি পুরণে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রণয়ন
৫) গবেষণাধর্মী উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি তৈরী করে অর্থনৈতিক, সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থার উন্নয়ন
৬) বয়স্ক শিক্ষা ও অনলাইন শিক্ষার নীতি প্রণয়ন
শিক্ষার বৈষম্য দুরীকরণ
আমাদের শিক্ষা খাতে বৈষম্যের প্রধান কারন সমূহ হচ্ছে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা, যাতায়াত ব্যবস্থা উন্নত না হবার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যহত হওয়া, ও ঝরে পড়া, এবং আবাসন সংকট ও যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত হবার কারণে ভাল শিক্ষক প্রত্যন্ত অঞ্চলে থাকতে না চাওয়া।
এসকল সমস্যা সমাধানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণ অব্যাহত রাখতে হবে এবং নতুন বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে খেলার মাঠ সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত শর্তের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষকদের জন্য উন্নত আবাসন এর ব্যবস্থা এবং দুর্গম এলাকায় পুরোপুরি আবাসিক স্কুল নির্মাণ করতে হবে। এর ফলে গ্রামেও ভাল শিক্ষক থাকতে আগ্রহী হবেন এবং শিক্ষার্থী ভর্তির হার বৃদ্ধি পাবে, এবং ঝরে পরার হার
কমে যাবে ।
দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম কে মানবাধিকার হিসেবে বিবেচনায় তা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে, এবং দেশের আর্থসামাজিক বাস্তবতায় অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষা অর্জনকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।
বয়স্ক নাগরিকেরা সাধারণ স্কুল এ নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে মানিয়ে নিতে সক্ষম নন। তাছাড়া নিয়মিত শিক্ষার্থীরা শৈশবে ও কৈশোরে যে পদ্ধতিতে শিক্ষা গ্রহণ করেন, তার অধিকাংশই বয়স্কদের উপযোগী নন।
তাই বাংলাদেশের জন্য উপযোগী বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম পদ্ধতি (Adult Learning Method) বাস্তবায়ন করতে হবে।
অন্যদিকে অনলাইন মাধ্যম শিক্ষার জন্য দেশে দেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি দূরশিক্ষণ, ঐচ্ছিক শিক্ষা, এমনকি বয়স্ক শিক্ষার জন্য কার্যকরী মাধ্যম হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি অনলাইন ভিত্তিক কোর্স চালু করবে। তবে এসব ক্ষেত্রে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণ এর জন্য অনলাইন শিক্ষা নীতিমালা তৈরী করতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষা
বর্তমানে আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ড ও নিয়মিত শিক্ষা বোর্ড এর কারিকুলাম এর মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। ফলে আমাদের এই শিক্ষা সংষ্কার প্রস্তাবনা আলিয়া মাদ্রাসা বোর্ড এর ক্ষেত্রেও প্রয়োগ এর প্রস্তাব করা হচ্ছে।
কওমি শিক্ষা বোর্ড এর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়া হলেও প্রচলিত ব্যবস্থায় এর সমমান নিশ্চিত করণের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।
এই প্ল্যাটফর্ম থেকে গণসংহতি আন্দোলন কওমি ঘরানার সম্মানিত আলেমদের আলোচনার জন্য আহবান জানাচ্ছে। যাতে আমরা বিভিন্ন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যকার সমমান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিতে পারি, একইসাথে আব্বাসীয় ও আন্দালুসীয় আমলের মাদ্রাসা শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করা যায়।
শিক্ষার মাধ্যমে নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা
শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র ব্যাক্তিগত আর্থিক মুক্তি অর্জন হতে পারে না। বরং উন্নত জাতি গঠনের জন্য শিক্ষার্থীদের ন্যায় অন্যায়, সহনশীলতা, অপরের প্রতি মর্যাদা প্রদর্শন, ও পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল আচরণ এর অভ্যাস ইত্যাদি বিষয়ে শিক্ষাদান করা হবে।
পাঠ্যপুস্তকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, কৃষক আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সহ দেশের গণমানুষের অধিকার আদায়ের সকল আন্দোলনে সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সহ অন্য সকল জনগোষ্ঠীর অবদান, এবং দেশের জন্য বিরল সম্মান অর্জনে তাদের কৃতিত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পড়ানো হবে। যাতে করে সব জাতিগোষ্ঠীকে মর্যাদার চোখে দেখতে শেখানো
সম্ভব হয়।
এর ফলে দেশে শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে, দুর্নীতি হ্রাস পাবে, পরিবেশ ও প্রাণ বৈচিত্র রক্ষা পাবে, এবং জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে।
প্রদানের সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান ও গবেষণায় বরাদ্দ বৃদ্ধিতে জোর দিতে হবে।
১৩. বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র শিক্ষক কর্মচারী সমন্বয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার যে ধারা তার বদল ঘটাতে হবে। ছাত্রদের শিক্ষা আবাসন কিংবা শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ইত্যাদি ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাই যাতে একমাত্র মাপকাঠি হয়, কারো রাজনৈতিক পক্ষপাত যাতে করে বিবেচনার বিষয় না হতে পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো ও সংস্কৃতি গড়ে তুলতে
হবে।
১৫. শিক্ষা খাতের সাথে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে একীভূত করার চলবে না। এবং এই দুই খাতের বাজেট আলাদাভাবে প্রণয়ন
করতে হবে।
১৬. শিক্ষা খাতের পুনর্গঠনে একটি কমিশন গঠন করতে হবে এবং সেখানে যোগ্য, দক্ষ, অভিজ্ঞ শিক্ষক, চিন্তক ও এ বিষয়ে সক্রিয় নাগরিকদের যুক্ত করতে হবে। এই পুনর্গঠনের জন্য সময় প্রয়োজন এবং তার সাথে সম্পর্কিত ভাবে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের প্রস্তুত করতে হবে। তড়িঘড়ি করে কোন কিছু শিক্ষার্থীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। বিদ্যমান শিক্ষাক্রমে যেসব পরিবর্তন প্রত্যাবশ্যক সেগুলিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কার করে শিক্ষা কার্যক্রমের গতি সচল রাখতে হবে।
১৭. সকলে পর্যায়ের শিক্ষকদের জন্য উচ্চ শিক্ষা ও শিক্ষক প্রশিক্ষণে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও প্রশিক্ষণের সময়কাল প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়াতে হবে। উচ্চতর শিক্ষায় শিক্ষকদের অগ্রাধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে।
পরিশিষ্ট
প্রস্তাবের শুরুতেই বলা হয়েছিল শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু মানুষকে উপার্জনক্ষম করে তোলা নয়, বরং তার মধ্যে মানবিক গুণাবলী বিকাশ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। গণসংহতি আন্দোলন বিশ্বাস করে যে আমাদের এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে আমাদের দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটার পাশাপাশি আমাদের বিভেদ দূর হয়ে ঐক্যবদ্ধ জাতিগঠন প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। এবং আমরা অগ্রসর চিন্তার গর্বিত জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবো।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।
এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হয় আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পরে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
চিকিৎসা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল
জিডিপির ৫ শতাংশ চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ‘প্ল্যান’ বাস্তবায়নে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে উপস্থিত হয়ে এসব কথা জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ গঠনের কাজ করছেন, সেই সময় একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে আহ্বান জানান তিনি।
যখনই দেশ ওপরে উঠতে থাকে তখনই একটি মহল দেশিয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের মধ্যে দিয়ে পেছনে ঠেলে দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশে এখন রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দরকার।’
এর আগে, সকালে এ চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।
অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার
পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে আনা হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথম নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
অন্য নৌকাটিতেও ৫৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও ৪০ জনকে যুক্ত করলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় তাদের সাময়িক আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও বাড়ছে।
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য ক্রিট গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। ফলে দ্বীপটির উপকূলে নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে।
চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে রোম বিমানবন্দরে আটকা বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইট
ইতালির রোমের ফিউমিচিনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় সাড়ে ৭ ঘণ্টা ধরে আটকা পড়ে আছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিমানটির ২৫৯ জন যাত্রী।
জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বিমানটি রোম বিমানবন্দরে জ্বালানি ও ক্যাটারিং (খাবার) সংগ্রহের পর লন্ডনের উদ্দেশে পুনরায় উড্ডয়নের কথা ছিল। তবে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে নির্ধারিত সময়ে বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। সাড়ে ৭ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিমানটি রোম বিমানবন্দর ছাড়তে পারেনি। এ সময় যাত্রীরা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করছেন।
বিটিভির মহাপরিচালক কে এই কাজী জেসিন?
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) নতুন মহাপরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক কাজী জেসিন। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম অঙ্গনের পরিচিত মুখ কাজী জেসিন। তিনি একাধারে সাংবাদিক, টেলিভিশন উপস্থাপক, লেখক ও কবি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক সাংবাদিকতায় সক্রিয় থাকা কাজী জেসিন বিভিন্ন সময়ে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।
গাইবান্ধা জেলায় জন্ম নেওয়া কাজী জেসিন যুক্তরাজ্যের কামব্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টেকসই উন্নয়ন ও নেতৃত্ব বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। লেখালেখির শুরু করেন ১৯৯৭ সালে লিটল ম্যাগাজিনে প্রবন্ধ লেখার মাধ্যমে। পরবর্তীতে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন।
পেশাগত জীবনে কাজী জেসিন দৈনিক আমার দেশ, এনটিভি, চ্যানেল ওয়ান, একুশে টেলিভিশন, বাংলাভিশন ও যমুনা টিভিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন।
টেলিভিশন সাংবাদিকতায় তার অন্যতম আলোচিত কাজ হলো রাজনৈতিক টকশো ‘পয়েন্ট অব অর্ডার’। অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক বিষয়, জনস্বার্থ ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করতেন। দীর্ঘ বিরতির পর আবারও এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের সামনে ফিরছেন তিনি।
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাহিত্য অঙ্গনেও রয়েছে কাজী জেসিনের পরিচিতি। তার প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘জোৎস্নামত্ত যাত্রা’ (১৯৯৭) এবং ‘তানানুম তানানুম’ (২০১০)।
বর্তমানে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি করছেন কাজী জেসিন। সাংবাদিকতা, টেলিভিশন উপস্থাপনা ও লেখালেখির মাধ্যমে তিনি দেশের গণমাধ্যম অঙ্গনে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন।
দেশ ছাড়ার পর হাসিনা পরিবারের সদস্যরা এখন কোথায়?
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের আগে ও পরে তার পরিবারের সদস্য এবং নিকটাত্মীয়দের প্রায় সবাই দেশ ছেড়েছেন। জানা গেছে, তাদের অধিকাংশ বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া কেউ কেউ যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড ও দুবাইয়ে রয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে দেশ ছাড়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে ছিলেন তার ছোট বোন শেখ রেহানা। জানা যায়, তিনি বর্তমানে লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করছেন। সেদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিকও তাদের সঙ্গে ছিলেন।
শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনি ভারতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ (পুতুল), যিনি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে দায়িত্ব পালন করছিলেন, বর্তমানে দিল্লি ও দুবাইয়ে অবস্থান করছেন বলে গণমাধ্যমের খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক (ববি) সরকার পতনের সময় থাইল্যান্ডে ছিলেন। তার স্ত্রী ফিনল্যান্ডের নাগরিক। রেহানার আরেক মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিক যুক্তরাজ্যের নাগরিক ও দেশটির পার্লামেন্ট সদস্য। অপর মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তীও যুক্তরাজ্যে থাকেন।
পরিবারের বাইরে শেখ হাসিনার নিকটাত্মীয়দের বড় অংশও দেশ ছেড়েছেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বর্তমানে কলকাতায় অবস্থান করছেন। তার ছেলে শেখ ফজলে নাঈমও কলকাতায় রয়েছেন এবং আরেক ছেলে শেখ ফজলে ফাহিম সরকার পতনের আগেই দেশ ছাড়েন।
যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ সরকার পতনের পর ভারত হয়ে কানাডায় যান। পরে তিনি আবার ভারতে ফিরেছেন। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ সরকার পতনের আগেই ভারতে যান বলে জানা গেছে। তার ছেলে আশিক আবদুল্লাহও তার সঙ্গে ভারতে গেছেন। আরেক ছেলে সাদিক আবদুল্লাহ ভারত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবুল খায়ের আবদুল্লাহও সরকার পতনের পর ভারতে চলে যান বলে দলীয় সূত্রের বরাতে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ হেলাল উদ্দীন ও শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। কলকাতার নিউ টাউন এলাকার একটি আবাসিক কমপ্লেক্সে তারা বসবাস করছেন বলে বিভিন্ন সময়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে। শেখ হেলালের ছেলে শেখ তন্ময়ও ভারতে রয়েছেন। শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েলের স্ত্রী শাহানা ইয়াসমিন শম্পাও তার সঙ্গে আছেন। তবে শেখ হেলালের আরেক ভাই শেখ সোহেলের অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়নি।
শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাইয়ের ছেলে নূর-ই-আলম চৌধুরী (লিটন চৌধুরী) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী (নিক্সন চৌধুরী) সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান।জানা গেছে, তারাও বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।
অন্যদিকে, শেখ হাসিনার স্বজনদের মধ্যে কেবল আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর ছেলে মঈন উদ্দিন আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের অক্টোবরে ঢাকায় গ্রেফতার হন। তিনি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রাজনৈতিকভাবে তেমন পরিচিত ছিলেন না।
আওয়ামী লীগের দলীয় সূত্রের দাবি, শেখ হাসিনার স্বজনদের অনেকেই সাতক্ষীরা, সিলেট ও ময়মনসিংহ সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক যোগাযোগ এবং বিপুল অর্থের বিনিময়ে তারা নিরাপদে দেশ ছাড়তে সক্ষম হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর অভিযোগ। তবে দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী দেশ ছাড়তে না পারায় তাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
নিউজ সূত্র: যুগান্তর
দুই-তিন দিনের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে: জ্বালানি মন্ত্রী
সর্বশেষ - বাংলাদেশ
- ১ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
- ২ স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের ঘোষণা স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর
- ৩ মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
- ৪ চিকিৎসা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করা হবে: মির্জা ফখরুল
- ৫ অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার