মৃত্যুর আগে মানুষ যা দেখে ও অনুভব করে
মৃত্যু মানব জীবনের চূড়ান্ত ও অবশ্যম্ভাবী সত্য। ‘জীবমাত্রই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণকারী; তারপর তোমরা আমারই কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে।’ (সুরা আনকাবুত: ৫৭) ইসলামের দৃষ্টিতে মৃত্যু মানে জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং চূড়ান্ত জীবনের সূচনা। পবিত্র কোরআন ও সহিহ হাদিসে মৃত্যুর আগের মুহূর্তের অবস্থা, লক্ষণ ও আত্মিক পরীক্ষা বিশদভাবে বর্ণিত হয়েছে।
মৃত্যুর আগমন ও ফেরেশতার উপস্থিতি
ইসলামে মৃত্যুর আগমনের সময় বা স্থান মানুষ পূর্বানুমান করতে পারে না। কে কখন-কোথায়-কীভাবে মারা যাবে তা কেবল আল্লাহই জানেন। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই কেউ জানে না আগামীকাল সে কি অর্জন করবে এবং কেউ জানে না কোন দেশে তার মৃত্যু ঘটবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্ববিষয়ে অবহিত।’ (সুরা লুকমান: ৩৪)
অসুস্থতা বা দুর্ঘটনা যেভাবেই মৃত্যু আসুকনা কেন ওই মুহূর্তে মালাকুল মউত (আজরাইল আ.) এবং অন্যান্য ফেরেশতা উপস্থিত হন। মুমিনের কাছে তারা উজ্জ্বল ও সৌন্দর্যপূর্ণ চেহারায় আসেন, জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন এবং আত্মাকে সহজভাবে দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে সাহায্য করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা বলে আল্লাহ আমাদের প্রভু; অতঃপর তারা তাতে অটল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা এসে বলে, তোমরা ভয় পেয়ো না, চিন্তিত হও না, জান্নাতের সুসংবাদ গ্রহণ করো।’ (সুরা ফুসসিলাত: ৩০)
পাপীদের জন্য ফেরেশতাদের উপস্থিতি ভীতিকর হয়ে দাঁড়ায়। কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘যেদিন তারা ফেরেশতাদের দেখতে পাবে সেদিন অপরাধীদের জন্য কোনো সুসংবাদ থাকবে না এবং তারা বলবে, রক্ষা করো, রক্ষা করো।’ (সুরা ফুরকান: ২২)
এই সময় মানুষ তার জীবনের প্রতিফলন অনুভব করে, শারীরিক দুর্বলতা এবং মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়। চোখের পর্দা সরানো হয়। ফলে সে বাস্তব জীবন দেখতে পায়। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘অবশ্যই তুমি এ দিবস সম্পর্কে উদাসীন ছিলে, অতএব আমি তোমার পর্দা তোমার থেকে উন্মোচন করে দিলাম। ফলে আজ তোমার দৃষ্টি খুব প্রখর।’ (সুরা কাফ: ২২)
মৃত্যুযন্ত্রণা ও শারীরিক পরিবর্তন
মৃত্যুর যন্ত্রণার সত্যতা কোরআন-হাদিসে স্পষ্ট। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর মৃত্যু-যন্ত্রণা অবশ্যই আসবেই, যা থেকে তুমি পলায়ন করতে চাইতে।’ (সুরা কাফ: ১৯)
মৃত্যুর প্রক্রিয়ায় শরীর নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যায়। প্রাণ কণ্ঠনালীতে সীমিত হয়, পায়ের সঙ্গে পা জড়িয়ে যায়, নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় এবং চোখ ঘূর্ণায়মান হয়ে স্থির হয়। শরীর শীতল হয়ে যায় এবং মানুষ উপলব্ধি করে যে বিদায়ক্ষণ নিকটে। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কখনো নয়, যখন প্রাণ কণ্ঠগত হবে এবং বলা হবে, কে তাকে রক্ষা করবে? তখন তার প্রত্যয় হবে যে এটি বিদায়ক্ষণ।’ (সুরা কিয়ামা: ২৬-৩০)
ভালো মৃত্যুর প্রস্তুতি
আল্লাহর ইবাদত করা ও হারাম বিষয় থেকে দূরে থাকা, পাপ হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা করা, সুন্দর মৃত্যুর জন্য দোয়া করা, দান-সদকা করা, সর্বাবস্থায় আল্লাহর জিকির করা এবং মৃত্যুর কথা স্মরণ করা সুন্দর মৃত্যুর জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, ‘তোমরা অধিক পরিমাণে জীবনের স্বাদ হরণকারী অর্থাৎ মৃত্যুকে স্মরণ করো।’ (ইবনে মাজাহ: ৪২৫৮) ইবনে ওমর (রা.) বলতেন, তুমি সন্ধ্যায় উপনীত হলে সকালের অপেক্ষা করো না এবং সকালে উপনীত হলে সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। তোমার সুস্থতার সময় তোমার পীড়িত অবস্থার জন্য প্রস্তুতি নাও। আর তোমার জীবিত অবস্থায় তোমার মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নাও। (বুখারি: ৬৪১৬)
এক কথায়, সুন্দর মৃত্যুর জন্য জীবনকে ধারাবাহিকভাবে পরকালের দৃষ্টিতে সাজানো উচিত।
মুমিনের উত্তম মৃত্যু
ভালো মৃত্যুর আলামত কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত। মৃত্যুর সময় সর্বশেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা, কপালের ঘাম বের হওয়া, জুমার দিনে মৃত্যু হওয়া এবং আল্লাহর রাস্তায় শহিদ হওয়া। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির সর্বশেষ কথা হবে 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ', সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩১১৬)
শহিদ মৃত্যু হিসেবে গণ্য হয়: প্লেগ, পেটের পীড়া, পানিতে ডুবে মৃত্যু, ধ্বসে পড়ে মৃত্যু, সন্তান প্রসবকালে মৃত্যু, এবং আল্লাহর রাস্তায় নিহত হওয়া। (বুখারি: ২৮২৯; মুসলিম: ১৯১৫)
এই লক্ষণগুলো মুমিনের জন্য সান্ত্বনার বার্তা বহন করে, তবে নিশ্চিতভাবে জান্নাত প্রাপ্তি কেবল আল্লাহর অনুমতি অনুযায়ী হবে।
মৃত্যুর আগে জরুরি করণীয়
মৃত্যুর আগে প্রয়োজনীয় ওসিয়ত, তাওবা ও ইস্তেগফার অপরিহার্য। নবীজি (স.) বলেছেন, ‘আল্লাহ বান্দার তাওবা গ্রহণ করেন, যতক্ষণ না তার গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে যায়।’ (তিরমিজি: ৩৫৩৭) এছাড়াও সন্তান ও আত্মীয়দের উচিত মৃত্যুর সময় কলেমা উচ্চারণের জন্য উৎসাহিত করা। (মুসলিম: ৯১৬)
মৃত্যু জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোরআন ও সুন্নাহ অনুসারে মৃত্যুর আগে আত্মিক প্রস্তুতি এবং মৃত্যুর মুহূর্তের উপলব্ধিই পরকালীন সাফল্যের চাবিকাঠি। মুসলিম হিসেবে আমাদের কর্তব্য হলো নেক কাজ বৃদ্ধি, তাওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মৃত্যু এবং পরবর্তী জীবনের জন্য প্রস্তুত থাকা।
হে আল্লাহ! আমাদেরকে মৃত্যু দেওয়ার আগেই তওবা করার তাওফিক দিন, মৃত্যুর সময় কলেমা উচ্চারণ করার শক্তি দিন এবং মৃত্যু-পরবর্তী সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ইহজীবনে সুন্দর প্রস্তুতি গ্রহণের তাওফিক দান করুন। আমিন।
আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
প্রতিবছর দেশে ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জ্বালানি খাতের সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।
আজ শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হল প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী পরে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে চিকিৎসক সমাবেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আপনারা জানেন বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে পেয়েছে। নানা সংকট কাটিয়ে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতোমধ্যে আমরা নানা কাজ শুরু করেছি। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে যেন গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি সংকট থেকে মানুষকে ধীরে ধীরে বের করে আনা যায়।
এর আগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে চিকিৎসক সমাবেশ শুরু হয়। এ সমাবেশে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ড্যাবের নেতাকর্মী ও চিকিৎসকেরা অংশ নেন।
ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ড্যাব মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ।
মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড, আইনমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
বাজার সিন্ডিকেট ও মজুতদারির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মজুতদারির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড; তাই যারা মজুতদারি করবেন, তাদের ভেবেচিন্তে এগোতে হবে। শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকূপায় পাট ও পেঁয়াজের পাইকারি হাট পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সব সেক্টরের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রান্তিক কৃষক যাতে লাভবান হয় আমরা সেদিকে এগিয়ে যাব। বাজারগুলোতে ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে কৃষকদের জিম্মি করে ফেলেছে। আমরা এই সিন্ডিকেট ভাঙতে কাজ করছি।
তিনি বলেন, আমাদের কৃষক ঘাম ঝরিয়ে ফসল ফলিয়ে ন্যায্য দাম পান না। বাজারে আসার পরে কৃষকরা সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েন। এক মণ পাট বা পেঁয়াজে অতিরিক্ত ২ কেজি করে তোলা দিতে হতো। এরপরে আবার বাজারের পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও হিজড়ারা কৃষকের কাছ থেকে তোলা নেয়। ফলে দেখা গেছে, এক মণে কৃষক দিচ্ছে ৪৫ কেজি। এটা অনায্য।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, বাজারের এই সিন্ডিকেট আমরা ভেঙে দেব। এরই মধ্যে সব হাট ও বাজারে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব ব্যবসায়ী তোলা না পেলে মালামাল কিনবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন, তাদের বলব, বাজার ছেড়ে চলে যান। বিকল্প ব্যবসায়ী এমনিতেই তৈরি হয়ে যাবে।
আইনমন্ত্রীর বাজার পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজসহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অর্ধশতাধিক বাংলাদেশিসহ গ্রিসের উপকূলে ২০২ অভিবাসী উদ্ধার
পরে খবর পেয়ে গ্রিক কোস্ট গার্ড ও একটি মাছ ধরার নৌকা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। নৌকায় থাকা ৪০ জনকেই নিরাপদে তীরে আনা হয়। পরে তাদের আইয়েরাপেত্রা বন্দরে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।
এর কয়েক ঘণ্টা আগেও দুটি নৌকা থেকে ১১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করা হয়েছিল। প্রথম নৌকায় থাকা ৫৬ জনের মধ্যে ৩১ জন সুদানের এবং ২৫ জন বাংলাদেশের নাগরিক ছিলেন।
অন্য নৌকাটিতেও ৫৬ জন ছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ জন বাংলাদেশি এবং ৯ জন মিসরের নাগরিক। পরবর্তী সময়ে উদ্ধার হওয়া আরও ৪০ জনকে যুক্ত করলে ৪৮ ঘণ্টারও কম সময়ে উদ্ধার হওয়া অভিবাসীর মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ২০২ জনে।
উদ্ধার করা ব্যক্তিদের হেরাক্লিয়ন বন্দরের একটি অস্থায়ী আবাসনকেন্দ্রে রাখা হয়েছে। ক্রিটে সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসীদের আগমন বাড়তে থাকায় তাদের সাময়িক আশ্রয় ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ওপর চাপও বাড়ছে।
লিবিয়া থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করা অভিবাসীদের জন্য ক্রিট গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট হয়ে উঠেছে। ফলে দ্বীপটির উপকূলে নিয়মিত উদ্ধার অভিযান চালাতে হচ্ছে গ্রিক কর্তৃপক্ষকে।
চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।
চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা আলিয়া মাদরাসার সামনে পুলিশের ব্যারিকেড, হল তালাবদ্ধ
রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়ার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশ করতে পারছেন না কেউই। তালাবদ্ধ হলের প্রবেশমুখে আছে পুলিশের ব্যারিকেড।
বুধবার (৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে হলের প্রবেশমুখে ব্যারিকেড দেয় পুলিশ। পুলিশ বলেছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে এই ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সেই ব্যারিকেড বহাল ছিল।
এদিকে, হলে ঢুকতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম বলেন, মঙ্গলবারের সংঘর্ষের সময় তিনি হল ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর আর ভেতরে ফিরতে পারেননি। বৃহস্পতিবার তার হাদিস বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা থাকলেও প্রয়োজনীয় বইপত্র ও অন্যান্য জিনিসপত্র আনতে পুলিশ তাঁকে হলে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন।
মঙ্গলবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হলের কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শুরু হওয়া উত্তেজনা বিকেলে সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরে সন্ধ্যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে প্রবেশ করেন। এ সময় শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা কক্ষগুলো ভাঙচুর এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে হলের ফটকে তালা লাগানোর অভিযোগ ওঠে।
তবে ছাত্রদলের অভিযোগ, ভাঙচুর চালিয়েছে শিবিরের নেতা-কর্মীরাই। এ বিষয়ে আলিয়া মাদ্রাসা শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবদুল আলিম দাবি করেন, তাঁরা হল ছেড়ে যাওয়ার পর ছাত্রদল ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। নিজেদের কক্ষ নিজেরাই ভাঙচুর করার প্রশ্নই ওঠে না।
তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানে হট্টগোল
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত একটি তথ্যচিত্রে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দর্শক সারিতে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি প্রধান অতিথি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদের সামনেই প্রতিবাদ জানাতে শুরু করেন।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত সদস্যরা দ্রুত মঞ্চের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মঞ্চে এসে উপস্থিতদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা বক্তব্য দিতে চান তারা যেন শান্তিপূর্ণভাবে মঞ্চে এসে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। এরপর তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেনকে মঞ্চে আসার অনুরোধ জানান।
আখতার হোসেন মঞ্চে এসে সবাইক শান্ত হওয়ার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ডকুমেন্টারিতে যে অসঙ্গতি আছে তা আমরা দেখেছি, আমরা সরকারকে বিষয়টা জানাব।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের দিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহিদ পরিবারের সম্মানের কথা বিবেচনা করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। বিশেষ করে ৩ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ তথ্যচিত্রে একেবারে অনুপস্থিত। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাছে জবাবদিহি চাইব।’
পরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়কমন্ত্রী আহমেদ আযম খানও ডকুমেন্টারিতে অসঙ্গতির বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘ডকুমেন্টারিতে যেসব অসঙ্গতি আছে, ৩ আগস্টের ঘটনাসহ যেসব অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব।’
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘আজকে আপনারা এই ডকুমেন্টারি দেখে মনে কষ্ট পেয়েছেন। মনে রাখবেন, এই জুলাই আন্দোলন এবং গণঅভ্যুত্থান আমার-আপনার, আমাদের সবার। তাই এই ডকুমেন্টারির যে অসঙ্গতি সেটাকে আমরা সংশোধন করব।’
সর্বশেষ - সর্বশেষ
- ১ আগামীকাল এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী
- ২ প্রতিবছর দেশে ৫ কোটি বৃক্ষ রোপণ করা হবে : তথ্যমন্ত্রী
- ৩ শিক্ষা ব্যবস্থায় টেকসই পরিবর্তন আনতে সময় প্রয়োজন: ববি হাজ্জাজ
- ৪ মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী
- ৫ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী