বাগেরহাটে মা-ছেলে ও নানিকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩
বাগেরহাটের কচুয়ায় মা, ছেলে ও নানিকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। পরকীয়ার সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি পুলিশের।
রোববার দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এসব তথ্য জানান।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাজমিস্ত্রি জাহিদুল ইসলাম, আসাদুল শেখ ও মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার ওরফে বাবু। তারা একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের নিকটাত্মীয়। তাদের কাছ থেকে নিহতদের ব্যবহৃত চারটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, নিহত পরিবারের এক নারীর সঙ্গে জাহিদুল ইসলামের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। এ নিয়ে জাহিদুলের পরিবারে অশান্তি চলছিল। বিষয়টি নিয়ে নিহত মুনিরা বেগমের সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডাও হয়।
এর জের ধরে ওই পরিবারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন জাহিদুল। পরে আসাদুল ও আরিফকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটান বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মরদেহ উদ্ধারের পর তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সূত্র ও গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। শনিবার রাতে কচুয়া উপজেলার চান্দেরখোলা গ্রাম থেকে আসাদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরিফকেও আটক করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল জাহিদুলকে।
গত ৪ আগস্ট চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে একই পরিবারের তিনজনের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুই দিন আগে থেকে তারা নিখোঁজ ছিলেন।
নিহতরা হলেন আহাদ হাওলাদার, তার মা মুনিরা বেগম এবং নানি রাশিদা বেগম। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আহাদের বড় ভাই ফয়সাল হাওলাদার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা করেন।