১৩ নভেম্বর ঘিরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, সতর্ক সরকার-আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
আমরা সাধারণ জনগণ কেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ভুক্তভোগী হব?— এমন প্রশ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থী দ্বীন ই মোহাম্মদের, যিনি পড়ালেখার পাশাপাশি একটি অনলাইন ব্যবসাও চালান। গত কয়েক দিন ধরে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুনসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রভাব পড়েছে তার ব্যবসায়। বাড়ি থেকে আপাতত বের হতেই নিষেধ করছে অভিভাবক।
দ্বীন রাজনীতি ডটকমকে বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের পর আমরা স্থিতিশীলতা আশা করেছিলাম। কিন্তু এখন ‘পতিত’ ঘোষিত একটি দলের (আওয়ামী লীগ) ১৩ তারিখের কথিত লকডাউন ঘিরে যা হচ্ছে, তা ভীতিকর। এর মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় আগুন লাগার, মানুষ পোড়ানোর খবর পাচ্ছি। ছাত্র হিসেবে আমি যে ছোট ব্যবসাটা করি, এই আতঙ্কের কারণে সেটার মালামাল পর্যন্ত আনা-নেওয়া করতে পারছি না।’
দ্বীন ই মোহাম্মদের মতো আরও অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ছড়াচ্ছে সাম্প্রতিক ঘটনাবলি। সোমবার (১০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় একটি পেট্রোল পাম্পের সামনে পার্ক করে রাখা বাসে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে বাসে ঘুমন্ত থাকা চালক জুলহাস মিয়া (৩৫) দগ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকাতেও কদিন ধরেই ঘটে চলছে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা।
এসব ঘটনায় জনমনে যেমন উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও সর্বোচ্চ সতর্কতা নিশ্চিত করতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সতর্কতার অংশ হিসেবে মেট্রোরেলের সব কর্মীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। খোলা জ্বালানি তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাইকোর্টসহ সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ-মিছিল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, ১৩ নভেম্বর ঘিরে নিরাপত্তা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি রাজধানীবাসীকে আতঙ্কিত না হতেও বলেছে সংস্থাটি।
যে ১৩ নভেম্বর ঘিরে এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা-সতর্কতা সে দিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক শেষ করে জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় তথ্যপ্রমাণ তারা হাজির করেছে বিধায় এ মামলায় আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছে।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এটিই হবে জুলাই আন্দোলন ঘিরে করা প্রথম কোনো মামলার রায়। আর সেই দিনটিতেই তার দল নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ‘ঢাকা লকডাউন’ ঘোষণা করা হয়েছে বলে অনলাইনে তথ্য ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ ও পর্যবেক্ষকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও বলছেন, এর অংশ হিসেবেই সারা দেশে ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুনসহ নানা ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে।