ইসির রোডম্যাপ— ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ভোট, ২ মাস আগে তফসিল

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৫:৪৪ অপরাহ্ন, ২৮ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৪:১১ অপরাহ্ন, ২২ অগাস্ট ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ কাজকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোডম্যাপ তথা নির্বাচন ঘিরে কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

ইসি বলছে, প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই এই নির্বাচন হবে। তফসিল ঘোষণা করা হবে দুই মাস আগে। এর আগে রাজনৈতিক দলসহ অংশীজনদের নিয়ে আয়োজন করা হবে সংলাপ।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের মিডিয়া সেন্টারে এ রোডম্যাপ তুলে ধরেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। জানান, নির্বাচন ঘিরে ২৪টি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।


রোডম্যাপ ঘোষণার সময় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি ইসি সচিব। তবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগেই নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। সে অনুযায়ী দুই মাস আগে তফসিল ঘোষণার কথাও তিনি জানান।

ইসি সচিব বলেন, আমরা ভোট গ্রহণের ৬০ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করব। প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে রমজানের আগে ভোটের ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারি রমজান শুরু হতে পারে। এর আগেই ভোটের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তফসিলও সে অনুযায়ী ঘোষণা করা হবে।

আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে ইসি। অক্টোবর মাস পর্যন্ত এই সংলাপ চলবে। অন্যদিকে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে নভেম্বরের শেষে।

এর মধ্যেই সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা চূড়ান্ত করা থেকে শুরু করে ভোট গ্রহণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান ইসি সচিব আখতার আহমেদ। বলেন, ভোটের ১০ দিন বা তারও বেশি সময় আগে দুর্গম এলাকাগুলোতে পাঠানো হবে নির্বাচনি সরঞ্জাম।

ত্রয়োদশে প্রবাসীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকছে জানিয়ে রোডম্যাপ ঘোষণার সময় ইসি সচিব বলেন, এবারের নির্বাচনে আমাদের নতুন সংযোজন পোস্টাল ব্যালট। এই প্রক্রিয়াটি আমরা অনেক দূর এগিয়ে নিয়েছি। এই পদ্ধতি ব্যবহার করে এবার প্রবাসীরা ভোট দিতে পারবেন।

নির্বাচনি তফসিল ঘোষণার আগের ও পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়নের সময়রেখা তুলে ধরা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের এই রোডম্যাপে।


বিএনপি প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচনে সন্তুষ্ট হলেও জামায়াতে ইসলামী দুই কক্ষবিশিষ্ট সংসদের দুই কক্ষেই পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দাবি, কোনো নির্বাচন হতে হলে প্রথমে গণপরিষদ নির্বাচন হতে হবে।

এদিকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দুই দফায় দিনের পর দিন বৈঠক করেও রাজনৈতিক দলগুলো এখনো ঐকমত্যে আসতে পারেনি। জুলাই সনদের যে পূর্ণাঙ্গ খসড়া ঐকমত্য কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোকে দিয়েছে, তাতে ২৪টি দলই কিছু না কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব করেছে। বাকি ছয়টি দল মতামত দেয়নি।

সবশেষ জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই সনদের এই খসড়াতে কিছু সংশোধনী আনা হবে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলোর আপত্তি ও প্রস্তাবগুলো অন্তর্ভুক্ত হবে।

জুলাই সনদ ও নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো শেষ পর্যন্ত একমত না হতে পারলে ইসির রোডম্যাপ কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।