র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বিলুপ্তি চাইলেন সাবেক সেনাপ্রধান

Tajuddin Ahmed
Tajuddin Ahmed Tajuddin Ahmed
প্রকাশিত: ৬:১৬ অপরাহ্ন, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১:২৭ পূর্বাহ্ন, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

র‍্যাব ও ডিজিএফআইয়ের বিলুপ্তি দাবি করেছেন সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) ইকবাল করিম ভূঁইয়া। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেওয়ার সময় তিনি এ দাবি জানান।

জবানবন্দিতে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘আয়নাঘরের মতো অপসংস্কৃতির জন্ম দেওয়ার পর ডিজিএফআই টিকে থাকার নৈতিক ও আইনগত বৈধতা হারিয়েছে।’

গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন।

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ তার এই জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে জেরা শুরু করেন। তবে জেরা অসমাপ্ত থাকায় আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে রোববার দেওয়া জবানবন্দিতে ইকবাল করিম ভূঁইয়া বলেন, মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিভিন্ন বাহিনীপ্রধানের মধ্যে নিজেকে ‘সুপার চিফ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। তিনি ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব, এনটিএমসি, আনসার ও বিজিবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, এর ফলে চারটি চক্রের উদ্ভব ঘটে। এর মধ্যে প্রথমটি ছিল অপরাধ চক্র, যা ডিজিএফআই, এনএসআই, র‍্যাব ও এনটিএমসিকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হতো। এই চক্রের মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে দমন–পীড়ন, হত্যা ও গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ প্রসঙ্গে সাবেক সেনাপ্রধান বলেন, ‘পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পর সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ভারত ও আওয়ামী লীগবিরোধী মনোভাব তীব্র হয়। সিনিয়র ও জুনিয়র কর্মকর্তাদের মধ্যে গভীর বিভাজন সৃষ্টি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে বাহিনীর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ঐক্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’