আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীর প্রতি জনগণের ১০ প্রশ্ন
রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ
আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ব্রিটরবিন সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক সংসদসদস্য প্রার্থীকে জনগণের প্রতি উপরোক্ত প্রশ্ন করার আহবান জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। তারা জানান
রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। তথাপি, এ দেশের জনগণ যুগের পর যুগ শাসক ও নামীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা শোষিত, নির্যাতিত ও প্রতারিত হয়েছে; উপেক্ষিত হয়েছে জনস্বার্থ। ৩৬ জুলাই বিপ্লবে হাজারো মানুষের জীবন ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণের যে অপার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তা বাস্তবায়নকল্পে আসন্ন নির্বাচনে আমরা সৎ, দক্ষ, যোগ্য ও জনবান্ধব প্রতিনিধি চাই। তাই এমপি পদপ্রার্থীদের কাছ থেকে ১০টি প্রশ্নের যথাযথ উত্তর জরুরি।
১। আপনি কেন সংসদ সদস্য হতে চান? জনগন কেনো আইন প্রণেতা হিসেবে আপনাকে নির্বাচিত করবে?
২। কী কারণে আপনার দল অথবা ১% ভোটার আপনাকে মনোনয়ন দিয়েছে?
৩। আপনার আয়ের মূল উৎস কী? আপনার সম্পদের বিবরণ জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন।
৪। সততা, দেশপ্রেম, কথা-কাজের সামঞ্জস্য ও আইন প্রণয়নে আপনার দক্ষতার কোনো নমুনা আছে কি?
৫। হাজার বছর ধরে অন্যের আইন দ্বারা শোষিত ও নির্যাতিত না হয়ে স্বাধীনভাবে দেশের জনগণের জন্য সবধরনের আইন প্রণয়নে কী পদক্ষেপ নিবেন?
৬। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহিতা ও বাধ্যকর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তি নির্ভর ব্যবস্থাপনার বিধিবিধান প্রণয়নে আপনার প্রস্তুতি কী?
৭। স্থানীয় উন্নয়ন কার্যক্রমে আইন প্রণেতার হস্তক্ষেপ দ্বিচারিতা ও স্বার্থের দ্বন্দ তৈরি করে। এই স্বার্থের দ্বন্দ এড়িয়ে কিভাবে শুধু আইন প্রণয়ন ও সংসদীয় কাজে ভূমিকা রাখবেন?
৮। বিচারবিভাগ, প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনী, আইন শৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বাধীন, স্বচ্ছ ও শক্তিশালী করতে আপনি কী পদক্ষেপ নিবেন?
৯। কল্যাণ রাষ্ট্র বিনির্মাণে স্বেচ্ছাসেবা নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করার কী পরিকল্পনা আপনার আছে?
১০। ভূমি বিন্যাস ও ব্যবহার নীতি, স্বাস্থ্য নীতি, শিক্ষা নীতি, পররাষ্ট্র নীতি, বাণিজ্য নীতি, শিল্প নীতি, স্থানীয় সরকার নীতি, নিরাপদ খাদ্য নীতি, জনবান্ধব বিচারিক নীতি, খনিজ নীতি, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ নীতি, গবেষণা ও উন্নয়ন নীতি, ইত্যাদি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?
প্রার্থীদের সক্ষমতা যাচাইয়ে ১০টি মৌলিক জিজ্ঞাসা ও নম্বর প্রদান প্লাটফর্ম চালু
যোগ্যতা ও নৈতিকতা ছাড়া কাউকে সংসদ সদস্য বানানো অপরাধ
অক্ষম কেউ কখনো সক্ষম আইন দিতে পারে না। যার পা নেই, তাকে ফুটবল খেলোয়াড় বানানো যেমন অসম্ভব, তেমনি যোগ্যতা ও নৈতিকতা ছাড়া কাউকে সংসদ সদস্য বানানো অপরাধ। তাই আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের সক্ষমতা বিশ্লেষণ করতে জনগণের ১০টি মৌলিক জিজ্ঞাসা ও নম্বর প্রদান নিয়ে ‘ব্রিট রবিন টেন কিউ' নামে এক ভিন্নধর্মী প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
ব্যারিস্টার রবিউল ইসলাম তরফদার (ব্রিট রবিন) অনুষ্ঠানের মূল ধারণা উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্রের মালিক জনগণ। সংসদ সদস্য হলেন জনগণের পক্ষ থেকে আইন প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন ট্রাস্টি। তিনি ক্ষমতার মালিক নন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আমরা দেখেছি সংসদ সদস্য হওয়া মানে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং অনেক ক্ষেত্রে জবাবদিহিহীনতা। প্রকৃত পক্ষে রাষ্ট্র সন্তানের মতো, একে লালন করতে হয়। প্রত্যেক মানুষ তার সন্তানকে দেখতে চায় নিরাপদ এবং সফল হিসেবে। ঠিক তেমনই প্রত্যেক সচেতন জনগণও নিরাপদ ও সফল রাষ্ট্র দেখতে চায়।
তাই আমরা আর নির্বাচনের পরে আফসোস করতে চাই না। আমরা নির্বাচনের আগেই যাচাই করতে চাই। নিয়োগের আগে যাচাই করা জনগণের পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার। এই অধিকার প্রয়োগের অংশ হিসেবে জনগণের পক্ষ থেকে সহজ, ও নৈতিকভাবে অপরিহার্য মাত্র ১০টি প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়েছে ব্রিট রবিন টেন কিউ-এ । স্পষ্ট অনুষ্ঠানে ১০টি প্রশ্ন তুলে ধরে বলা হয়, প্রার্থীদের কাছে এসব প্রশ্ন পাঠানো হয়েছে। তারা এগুলোর উত্তর দিবেন। জনগণও প্রার্থীদের এসব প্রশ্নের বিষয়ে নম্বর প্রদান করতে পারবেন নির্ধারিত ওয়েবসাইট (www.britrobin.org) এবং মুদ্রিত মূল্যায়ন পত্রে। প্রত্যেক প্রশ্নের বিপরীতে ১০ নম্বর করে ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হবে। এর মধ্যে কোন প্রার্থী কতো পেলেন তা নিয়মিত আপডেট আকারে প্রচারিত হবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ব্রিট রবিন' পেইজ, ওয়েবসাইট, বিভিন্ন গণমাধ্যমে। সোমবার থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয়ে নির্বাচন পর্যন্ত বা প্রয়োজনে নির্বাচনের পরও চলমান থাকবে যাতে জনগণের কাছে এমপিদের জবাবদিহিতার প্রক্রিয়া চালু থাকে। অনুষ্ঠানে এ সংক্রান্ত ৩টি ভিডিও প্রমোশনাল ও নম্বর প্রদানের পদ্ধতি উপস্থাপন করা হয়।
কার্যক্রমটির ওপর আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।