শহীদ জিয়া গণতন্ত্রের প্রথম মুক্তিদাতা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত

Tajuddin Ahmed
Tajuddin Ahmed Tajuddin Ahmed
প্রকাশিত: ৯:২৫ অপরাহ্ন, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬ | আপডেট: ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

আজ মুক্ত চিন্তা বাংলাদেশ কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে মুক্ত চিন্তা বাংলাদেশে আহবায়ক আবুল কাসেম হায়দারের সভাপতিত্বে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে “শহীদ জিয়া  গণতন্ত্রের প্রথম মুক্তিদাতা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় । উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব নজরুল ইসলাম খান বীর মুক্তিযোদ্ধা, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি, বিশেষ অতিথি: জনাব ইসমাইল জবিউল্লাহ, সাবেক সচিব, উপদেষ্টা, বিএনপি চেয়ারপারসন, অধ্যাপক ড. এ, এস, এম আমানুল্লাহ উপাচার্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান, উপাচার্য, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়,অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, কবি আবদুল হাই শিকদার, সম্পাদক, দৈনিক যুগান্তর, জনাব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী, সভাপতি, জাতীয় সাহিত্য- সংস্কৃতিক ঐক্য জোট, জনাব খুরশেদ আলী মোল্লা, সদস্য, বিএনপি, কেন্দ্রীয় কমিটি সাবেক পরিচালক, এফবিসিসিআই ও প্রবন্ধ পাঠ করবেন : ড. মাহবুব হাসান, কবি, লেখক । এইছাড়া দেশের খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক, শিক্ষক, কৃষিবিধ, প্রকৌশলী ও পেশাজীবী ও সাংবাদিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ড. মাহবুব হাসান

শহীদ জিয়াঃ গণতন্ত্রের প্রথম মুক্তিদাতা

শিরোনামের এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে নানামুনির নানা মত থাকতে পারে, কিন্তু এটা মানতে হবে যে বাকশাল কায়েম করে শেখ মুজিব দেশে যে শাসন চালু করেছিলেন, সেই শ্বাসরুদ্ধকর শাসন থেকে গণতন্ত্রকে উন্মুক্ত করেন জিয়াউর রহমান। স্বাধীনতার ঘোষক মেজর জিয়া, পরবর্তীকালে জেনারেল জিয়ার হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা এলে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচিমুখ খুলে দেন। তাই তাকে গণতন্ত্রের প্রথম মুক্তিদাতা বলেছি। ১৯ জানুয়ারি, ২০১৬, তাঁর ১০ তম জন্মদিন। তাকে জন্মদিনে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই জাতির পক্ষ থেকে | তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

দ্বিতীয়বার লগতন্ত্র মুক্তির আলোয় নিয়ে আসেন নির্বাচিত সরকারের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া | তিনি রাষ্ট্রপতি শাসিত গণতন্ত্রক ধারাকে সংসদীয় শাসিত গণতন্ত্রে পুনর্বাসিত করেন।

শেখ হাসিনার ১৬ বছরের ফ্যাসিজমের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করেছে জনগণ। সেই কাতারে ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রতিবাদ-প্রতিরোধের আন্দোলনের সিংহাসনে ছিলো বিএনপি | তাদেরই হাত ধরে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বিতাড়িত হন শেখ হাসিনা। হাসিনা-উত্তর বাংলাদেশের জনগণের আশা-আকাঙ্খা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদে যেন সত্যিকার অর্থেই গণতন্ত্র মুক্তি পায়। প্রতিষ্ঠা পায় জনগণের কাঙ্খিত গণতন্ত্র | আগামি ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ (পড়ুন তেরোতম) জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে যাচ্ছে। সেই নির্বাচনে বিএনপি যেন ক্ষমতায় গিয়ে সংবিধানের নাজুক অন্যায়গুলো গণতন্ত্রের শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে পারে, সেই রকম সংস্কার করে। আমরা চাই গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হোক ।

তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি আমরা পড়েছি । সেখানে গণতান্ত্রিক সরকারের মিডিয়া সম্পর্কে তেমন কোনো কথা না থাকলেও, বোঝা যায় তিনি ধারণ করেছেন শহীদ জিয়ার ১৯, খালেদা জিয়ার ২৭ এবং তাঁর ৩১ দফা মিলেমিশে একটি গণমনন চেতনার রূপরেখা অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ জিয়ার মননজাত ও কর্মজাত ধারাই ধারণ করছেন তারেক রহমান। একই বলে ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। এই ট্রাডিশনের বহন করে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে উত্তরাধিকার তৈরি করতে হয়। আমি বলতে চাই গণতন্ত্র রক্ষা ও অব্যাহত রাখতে হলে রাজনৈতিক ঐতিহ্যের সৈনিক সৃষ্টি খুবই জরুরি |

২. একটি প্রচলিত ধারণা আছে যে সপরিবারে শেখ মুজিবকে হত্যা করে জিয়া ক্ষমতায় এসেছেন। কিন্তু ইতিহাস তথ্য ও সাক্ষ্য দেয় যে, তিনি মুজিব হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না এবং সামরিক আইনও জারি করেননি। তিনি শেখ মুজিবের হত্যাকারী নন | জাতিকে এই সত্য জানতে হবে, বুঝাতে হবে। তিনি রাজনৈতিক ও সামরিক পরিবর্তিত পরিস্থিতির হাত ধরে ক্ষমতায় এসেছিলেন। একজন সামরিক নেতার হাতেই কাঙ্খিত গণতন্ত্রের বন্ধ দরোজা উন্মুক্ত হয়েছিলো | একজন সামরিক নেতার মনেও যে ন্যায় ও কল্যাণের রুপরেখা গণতন্ত্রের বীজ উপ্ত ছিলো, তা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? না, দেখি না। কারণ,

3. সামরিক নেতা সম্পর্কে একটি বিধিবদ্ধ ধারণা আমরা পোষণ করি, যা অর্ধসত্য। তারাও যে আমাদের সমাজেরই অংশ, আমাদেরই সন্তান, আমাদেরই ভাই-বন্ধু এটা ভুলে যাই ।

কি করে দেশের আপামর জনগণের মন জয় করেছিলেন শহীদ জিয়া সেটা জানা জরুরি। কেন না, সামরিক বাহিনীর মনে রাজনৈতিক গণতন্ত্রের রূপ ও রূপায়ন ক্ষুদিত ছিলো না। না, তিনি আপামর জনগণের মন জয় করেননি, জয় করেছিলেন দেশের উৎপাদক শ্রেণির মন। কি ভাবে তা আমরা জানি। তিনি ক্ষমতায় সিংহাসনে বসে থাকেননি। ছুটে গেছের দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম থেকে গ্রামান্তরের অগণন মানুষের কাছে,-- তাদের দুঃখ-দুদর্শার কথা জানতে, বুঝতে, শিখতে। তাদের সমস্যা আর সম্ভাবনার বিষয়গুলো সম্যক উপলব্ধি করতে। সেখানেই তিনি লাভবান হয়েছিলেন লোকজ্ঞান অর্জন করে। জনগণের মন-পাঠ করে তিনি বুঝেছিলেন কোথায় কোথায় ঘাটতি আছে আমাদের। সেই জ্ঞানই ছিলো তার গণতন্ত্রের প্রতি একচ্ছত্র ভালোবাসার নৈতিক সাহস ও বল| এভাবেই তিনি লাভ করেছিলেন উৎপাদক মানুষের ভালোবাসা | এই ভালোবাসাই তাকে মানুষের হৃদয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

তিনি যে চাষাবাদ ও চাষীদের জন্য ভরা বর্ষার নদীর পানি ধরে রেখে তা শুকনো মওসুমে সেচের ব্যবস্থা আইডিয়া দিয়েছিলেন তা আগে কেউ ভাবেননি। শুকনো মওসুমে খাল খনন করে, খরাকে না বলেছিলেন, তাই আজ আমাদের ফসল উৎপাদনের নতুন প্রগতির সৃষ্টি করেছে। কৃষকের ধারণাকে পাল্টে দিয়েছিলেন তিনি এই বলে যে, তোমার বাড়ির আশ-পাশের বা সামনের খাল খনন করো, বিল-ঝিল খনন করে পানি ধরে রাখো। পানির ফসল মাছ আর জমির ফসল ধানের উৎপাদন বাড়াও | আপকালে তাই কাজে দেবে।

আর কৃষকের ছেলেমেয়েদের জন্য সৃষ্টি করেছিলেন বিদ্যালয় ও যাতায়াতের পথ, হালট ও পাকা সড়ক। তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিশুদের বর্ণ পরিচয় শেখাতেন। যে সব গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিলো না, সে সব গ্রামের বালক-বালিকারা পেলো স্কুল, খেলার মাঠ আর নবজীবনের কল্লোল শুনতে পেলো তারা। পাঠ্যপুস্তকে তো তাঁর দেয়া স্বাধীনতার ঘোষণার কোনো বয়ান ছিলো না। কিন্তু তাঁর উপস্থিতি ছিলো গ্রামে-গঞ্জের স্কুলের ভেতরে, শিক্ষার্থীদের অন্তরে, অন্তরে। কারণ তারা দেখেছে সচক্ষে এই কাজ করেছেন রাষ্ট্রপতি জিয়া। তিনি চোখের আড়াল হয়েছিলেন ঘাতকের হাতে নিহত হয়ে, কিন্তু মানুষের মন থেকে আড়াল করতে পারেননি তাঁকে কেউ |

প্রতিবছরই তাঁর জন্মদিনে ও মৃত্যুদিনে তাঁকে নিয়ে মানুষ কথা বলে |

কেন বলে?

কারণ তিনি কিছু কাজ করে গেছেন যার দরুণ তাঁকে নিয়ে আমরা আলোচনা করি, করতে বাধ্য হই। গর্বিত হই। এই বাধ্য ও গর্বিত হওয়ার পেছনে আছে আরো কিছু কারণ |

তিনি আমাদের আত্মপরিচয়কে এমন এক দৃঢ় ও আত্মমর্যাদাপূর্ণ ভিত্তির ওপর দাঁড় করিয়েছেন, যা প্রকৃত সত্যকে উদ্ভাসিত করে। আমাদের নৃগোষ্ঠীগত পরিচয় বাঙালি বলে বহুকাল থেকেই চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু আমরা ভুলে গিয়েছিলাম যে আরো বহু নৃ-গোষ্ঠী এই বাংলাদেশে বাস করছে। তারা তো জাতিগত পরিচয়ে বাঙালি নয়, তারা চাকমা, মারমা, হাজং বম,