ইসলাম দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে ইমাম সমাজের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা

Himel
Himel Himel
প্রকাশিত: ৩:০৩ অপরাহ্ন, ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২২ অপরাহ্ন, ২৬ অগাস্ট ২০২৬


রিপোর্ট : তাজউদ্দিন আহমেদ 

ইসলাম দেশ ও জাতির ক্রান্তিলগ্নে ইমাম সমাজের করণীয়” শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


 জাতীয় ইমাম সমাজ বাংলাদেশ হক্কানী-রব্বানী ইমাম খতীব ও উলামায়ে কেরামদের কে নিয়ে সকল শ্রেণীর লোকদের সেবার কাজে নিয়েজিত বৃহত্তর একটি নিবন্ধিত সংগঠন । যা ১৯৯৮ ঈসায়ী সনের ১৬ জুলাই বাদ ফজর, ঢাকার যাত্রাবাড়ীর, কাজলার পাড়, কেন্দ্রীয় মসজিদে বন্যা কবলিত পানিবন্দি অসহায় মানুষের পাশে ত্রাণ নিয়ে দাঁড়ানোর এক মহাপরিকল্পনার মাধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে । দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর যাবৎ সংগঠনটি বিভিন্ন খেদমত আঞ্জাম দিয়ে আসছে। সংগঠনটির ইমাম সমাজ ও সাধারন মানুষকে দেওয়া এই খেদমদকে আল্লাহ তায়ালা কবুল করুন! আমীন।


ইমামগণ সমাজের সর্বোচ্চ সম্মানীপদে অধিষ্টিত থাকা সত্বেও আজকে তারা বিভিন্ন অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পরে সমাজের সকল পেশার মানুষ নিজেদের অধিকার নিয়ে নতুন ভাবে সপ্ন দেখা শুরু করেছে এবং অনেকের দাবি-দাওয়া পূরণও হচ্ছে । তাই জাতির ক্রান্তিলগ্নে ইমাম সমাজকে যদি তাদের ন্যায্য অধিকার দেওয়া হয়, ইমাম সমাজ যদি তাদের স্থানে স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পারেন, সরকার যদি এই সুযোগ 1 করে দিতে পারেন, তাহলে সমাজ, দেশ ও জাতীর অনেক কল্যাণ হবে। ইমাম সমাজ ও সুন্দর সমাজ, দেশ ও জাতি বিনির্মানে ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাই সাংবাদিক বন্ধুদের মাধ্যমে আমাদের দাবি সমূহ প্রস্তাবনা আকারে পেশ করছি।

অবহেলিত ইমাম সমাজকে একটি সুসংহত এবং মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে ফিরিয়ে নিতে হলে আবেগের পাশাপাশি বাস্তব সম্মত ও কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন। নিচে কিছু কার্যকর পদক্ষেপের প্রস্তাবনা দেওয়া হলো ।


১.ইমামদের জন্য বেতন স্কেল নিশ্চিত করা,

ইমামদের অবহেলার প্রধান কারন হলো আর্থিক দৈন্য । অধিকাংশ মসজিদের ইমামগণ এখনো যৎ সামান্য সম্মানী

পান ।

পদক্ষেপ:- একটি বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা । ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মডেল মসজিদের মতো দেশের সকল মসজিদের ইমামদের জন্য জীবনযাত্রার মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ বেতন স্কেল তৈরি করা ।

২.প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি সুরক্ষা ।

ইমামদের নিয়োগ ও অব্যাহতির কোনো নির্দিষ্ট নীতিমালা নেই । কমিটি চাইলে যে কোনো সময় কোনো কারন ছাড়াই একজন ইমামকে বিদায় করে দেন ।

পদক্ষেপ :- একটি ইমাম সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা, যেখানে ইমামদের নিয়োগ পত্র প্রদান, চাকরির স্থায়িত্ব এবং অন্যায্য বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকবে।

৩.সমাজে অবস্থান দৃঢ় করণ,

পদক্ষেপ :- বিভিন্ন সামাজিক প্রজেক্ট কার্যক্রমে ইমামদের সংশ্লিষ্টতা বাড়ানো।

৪.বহুমুখী দক্ষতা উন্নয়ন :- অনেক সময় আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা বা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা না থাকায় ইমামদের মতামত গুরুত্বহীন মনে করা হয়।

পদক্ষেপ :- সমাজ বিজ্ঞান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতির মৌলিক বিষয়ের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা, পাশাপাশি অনলাইনে বেসিক ইংলিশ স্পোকেন কোর্স এর আয়োজন করা। যাতে ইমামগণ বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো সাহসের সাথে মোকাবেলা করতে পারেন।

৫.কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ ও নিবন্ধন : ইমামদের কোনো শক্তিশালী কেন্দ্রীয় তালিকা না থাকায় তাদের দাবিসমূহ পেশ করা কঠিন হয়।

পদক্ষেপ:- জাতীয় ইমাম সমাজের মাধ্যমে প্রতিটি জেলা ও উপজেলার ইমামদের একটি ডিজিটাল ডাটাবেজ তৈরি করা ।

৬.গণমাধ্যম ও জনমত গঠন: ইমামদের ইতিবাচক ভূমিকা মিডিয়াতে খুব কম আসে।

পদক্ষেপ:- ইমামদের সামাজিক অবদান জাতীয় মিডিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালোভাবে প্রচার করা, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করা যে, ইমাম সাহেব কর্মচারী নন, বরং সমাজের সর্বোচ্চ রাহবার ও নেতা।


৭.মিম্বরের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা:- বাংলাদেশের মতো একটি বাক স্বাধীন দেশে মসজিদ কমিটি বা সমাজের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে ইমামদের কথা বলার বিষয়বস্তুকে সীমাবদ্ধ করে

দেওয়া হয়।

পদক্ষেপ :- মিম্বরের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ফোরাম গড়ে তোলা, যারা কোন ইমামের উপর অন্যায্য চাপ সৃষ্টি হলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করবে, পাশাপাশি ইমামদের বাক স্বাধীনতা নিয়ে মিডিয়ায় ধারাবাহিক প্রচারণা চালাবে।

৮.মসজিদ কমিটিতে পদ দেওয়া:- অনেক সময় ইমামগণ কমিটিতে না থাকায় তার অবর্তমানে ভুল বুঝা-বুঝির সৃষ্টি হয়।

পদক্ষেপ:- কমিটির মধ্যে ইমাম সাহেবকে সম্মানজক পদে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

১.পেনশন ও ভাতা :-

একজন ইমাম দীর্ঘদিন মসজিদে খেদমত করে বিদায় নেওয়ার সময় খালি হাতে বিদায় নিতে হয়, ফলে তার পরিবার পরিজন বিপদের মুখে পরে যায়।

পদক্ষেপ:- ইমাম সাহেবকে বিদায় দেওয়ার সময় সম্মানজনক পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। এবং বিভিন্ন উৎসবে ভাতা প্রদান করতে হবে।