ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্সের (ইডব্লিউএ) আত্মপ্রকাশ ও গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৬:৩৬ অপরাহ্ন, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (EWA)-এর আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ এবং “জাতীয় নির্বাচন ২০২৬: চ্যালেঞ্জ ও করণীয়” শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত। এজন্য নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পর্যবেক্ষক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

গোলটেবিল আলোচনায় বাংলাদেশ সরকারের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মো. শরিফুল আলমের সভাপতিত্বে অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. শাফিউল ইসলাম এবং প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাষ্ট্র বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী, ডাকসু নির্বাচন -২০২৫ এর চিফ রিটার্নিং অফিসার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সরকারের সাবেক সচিব জনাব মো. আবদুল কাইয়ূম, সাবেক জেলা ও সেশন জজ ও কলামিস্ট জনাব ইকতেদার আহমেদ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ার পার্সনের উপদেষ্টা জনাব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক চাকসু ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, “এবি পার্টির প্রধান সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, আমার বাংলাদেশ পাটি, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র  শরিফ ওসমান হাদি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ূম, খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক প্রফেসর কাজী মিনহাজুল আলম, আপ বাংলাদেশের প্রধান সংগঠক  নাঈম আহমাদ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এর সভাপতি আবু সালেহ আকন, বিশিষ্ট সাংবাদিক , একরামুল হক সায়েম, ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক মিজ মিলি রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ প্রমূখ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কো-চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, জুলাই–আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলন ও ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের ন্যায়ভিত্তিক শাসনের প্রত্যাশা আরও বেড়েছে, যার একমাত্র পথ একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। দীর্ঘ স্বৈরশাসনে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়েছে, নির্বাচন কমিশনও এর বাইরে নয়—তাই টেকসই ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা জরুরি। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু নির্বাচন কমিশনের পক্ষে সম্ভব নয়; প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, পর্যবেক্ষক সংগঠন ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। এ দায়িত্ববোধ থেকেই নিবন্ধিত পর্যবেক্ষক সংগঠন, উন্নয়ন সংস্থা, পেশাজীবী ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে ইলেকশন ওয়ার্কিং অ্যালায়েন্স (EWA)। এর লক্ষ্য অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সংস্কৃতি গড়ে তোলা এবং আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করা।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বর্তমান নির্বাচনী পরিবেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন—নির্বাচনী দুর্বৃত্তায়ন, টাকার প্রভাব, প্রশাসনিক পক্ষপাত, নির্বাচন কমিশনের অকার্যকারিতা, সহিংসতার ঝুঁকি, অবৈধ অস্ত্র, এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবনতি। তারা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত, সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ও বডিক্যামের ব্যবহার, অবৈধ অর্থ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ, এবং প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

EWA Election Working Alliance (EWA)

আলোচকরা বলেন, জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের গণতান্ত্রিক শাসনের প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। প্রস্তাবিত গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন বাংলাদেশে রাজনৈতিক-প্রাতিষ্ঠানিক রূপান্তরের সুযোগ তৈরি করেছে। তারা নির্বাচন কমিশনের দক্ষতা বৃদ্ধি, এআই–এর অপব্যবহার রোধে প্রস্তুতি, এবং আইনি ও কাঠামোগত

সংস্কারের ওপর জোর দেন।

অবস্থানপত্র উপস্থাপক প্রফেসর ড. মো. শাফিউল ইসলাম বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়, যেখানে অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন রাষ্ট্র পুনর্গঠনের পূর্বশর্ত। জুলাই ২০২৪- এর গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, ২০২৬ সালের নির্বাচন ও প্রস্তাবিত গণভোট— সব মিলিয়ে এ নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা হস্তান্তর নয়, বরং গণতান্ত্রিক শাসন, সাংবিধানিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনর্নির্মাণের বৃহত্তর প্রক্রিয়ায় রূপান্তরিত করেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই চার্টার’ ও বিভিন্ন কমিশনের মাধ্যমে গৃহীত আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ২০২৬ সালের নির্বাচনকে কাঠামোগতভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। একই সঙ্গে গণভোট নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার নীতি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

বক্তারা নতুন অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশকে স্বাগত জানিয়ে দলনিরপেক্ষভাবে স্বচ্ছ নির্বাচন নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান এবং অ্যালায়েন্সকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।