মেজর মুহাম্মদ আব্দুল গণির ৬৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৬:২৭ অপরাহ্ন, ১২ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৯:৪৮ অপরাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 


১২ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সকাল ১১০০ ঘটিকায় রাওয়ার হেলমেট হলে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা মেজর মুহাম্মদ আব্দুল গণির ৬৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনাসভার আয়োজন করে।

উক্ত আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমেদ, বীরবিক্রম (অব:), এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল হক, পিএসসি (অব:), রাওয়ার সম্মানিত সদস্যবৃন্দ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাওয়ার সেক্রেটারি জেনারেল লে. কর্নেল মো. ইরশাদ সাঈদ, পিএসসি (অব:)। পিএসসি অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্য প্রদান করেন রাওয়া চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল হক, (অব:)। এই মহতি অনুষ্ঠানে ‘মেজর মুহাম্মদ আবদুল গণি : একটি জীবন - একটি ইতিহাস বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয় এবং মেজর গণির বর্ণাঢ্য জীবনের উপরে একটি ভিডিওচিত্র প্রদর্শন করা হয়। মেজর মুহাম্মদ আব্দুল গণির বর্ণিল জীবনের উপর বিশেষ আলোচনা করেন উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. কর্নেল অলি আহমেদ, বীরবিক্রম (অব:) এর বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

ধন্যবাদান্তে

লে. কর্নেল মো. ইরশাদ সাঈদ, পিএসসি (অব.)

সেক্রেটারি জেনারেল, রাওয়া।

স্বাধীনতার বীজ বপণকারী জাতীয় বীর মেজর মুহাম্মদ আবদুল গণি


এখন আমি সেই ক্ষণজন্মা বীর পুরুষের কথাই বলছি, যার অসম সাহসিকতা, নিখাঁদ দেশপ্রেম, দূরদর্শীতা ও অদম্য চেষ্টার ফসল হলো আমাদের এ দেশপ্রেমিক বাংলাদেশ সেনাবাহিনী । তিনিই বীজ বপণ করেছিলেন সেনাবাহিনীর। যে সেনাবাহিনী এখন পৃথিবীর ব্যাপী বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকাকে উড্ডীন করছে এবং বয়ে এনেছে আমাদের জন্য সম্মান, মর্যাদা ও গৌরবের অনন্য সব বীরত্বগাথা। তিনি হলেন, মেজর মোহাম্মদ আবদুল গণি; যিনি ছাত্রাবস্থায়ই এলাকার কিশোর-যুবকদের নিয়ে গঠন করেছিলেন ‘সবুজ কোর্তা” নামক এক সমাজ কল্যাণমূলক স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। এর মাধ্যমে তিনি কিশোর-যুবকদের সামরিক প্রশিক্ষণও দিয়েছিলেন, প্রয়োজনে দেশরক্ষার জন্য। তাঁর কৈশোর জীবনের সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছিলেন ব্রিটিশ-ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যোগদান করার পর থেকেই। ধূমকেতুর মতো বাংলার ভাগ্যাকাশে উদিত হয়ে তিনি এমন এক রেজিমেন্টের বীজ বপণ করেছিলেন যার সম্পর্কে ভারতীয় তৎকালীন পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার জেনারেল জ্যাকব বলেছিলেন: “Had there not been East Bengal Regiment, Bangladesh would not have been Independent.” মাত্র ৪২ বছরের নাতিদীর্ঘ জীবনের দশ বছরের অতি সংক্ষিপ্ত সামরিক চাকরিতে এবং চার বছরের রাজনৈতিক পরিসরে তিনি দেশ ও জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে ইতিহাসের পাতাকে রাঙিয়েছেন। তাঁর সংগ্রামী জীবনের শুরু হয়েছিল ‘সবুজ কোর্তা'-র মতো স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক কল্যাণমূলক সংগঠন দিয়ে এবং শেষ হয়েছিল জার্মানিতে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিশ্বমানবতার সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে জ্বালাময়ী বক্তৃতা প্রদানের মধ্য দিয়ে। তিনি ছিলেন মহান আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা কর্তৃক

/ মেজর মুহাম্মদ আবদুল গণি

রহমতপ্রাপ্ত জন্মগত ভাবে নেতা ।

এক নজরে মেজর মুহাম্মদ আবদুল গণি (১৯১৫-১৯৫৭)

১। পুরো নাম

২।

সংক্ষিপ্ত নাম

৩। ডাক নাম 

৪। পদবী

৫।

জন্ম তারিখ

৬। বাবা

,মা

৮।

মামা

৯। জন্মস্থান

১০। প্রাথমিক শিক্ষা 

১১। হাই মাদ্রাসা 

১২। সবুজ কোর্তা

১৩। ক্রীড়া প্রতিযোগিতা 

১৪। পৃষ্ঠপোষক 

১৫। হাই স্কুল শিক্ষা

১৬। প্রবেশিকা পরীক্ষা

১৭। কলেজ জীবন

১৮। ইন্টারমিডিয়েট

: মুহাম্মদ আবদুল গণি

: মেজর

: বুধবার, ১ ডিসেম্বর ১৯১৫, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৩২২, ২৩ মহররম ১৩৩৪ হিজরি

: মোহাম্মদ শরাফত আলী

: জোবেদা খাতুন

: ডা. আবদুল সোবহান

: কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার নাগাইশ গ্রামে

: শিদলাই জুনিয়র মাদ্রাসা

: ইসলামিয়া হাই মাদ্রাসা, চট্টগ্রাম

: ১৯৩৩ সালে তরুণদের সংগঠন গড়ে তোলেন

: ব্যক্তিগত চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন-১৯৩৩ সাল

: হাসান হামিদ নোমানী, ম্যাজিস্ট্রেট-অবাঙালি : চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুল

: খুলনা জেলা স্কুল, ১৯৩৫ সাল

: কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজ-১৯৩৬ সাল

: ১৯৩৮ সাল

১৯। ১৯৩৬ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৩৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও বাৎসরিক অনুশীলন শিবিরে অংশগ্রহণ করেন। কলকাতার বেনিয়াপুকুরস্থ সিভিক গার্ডের গ্রুপ কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০। মামা ড. আবদুস সোবহানের মৃত্যু : ৫ এপ্রিল, ১৯৩৯

২১। স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন

: ১৯৪০ সাল

২২। ১৯৪০ সালের ২০ মে বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিসে ফায়ার প্রথম বাঙালি অফিসার হিসেবে যোগ দেন এবং কলকাতা ফায়ার ব্রিগেডে বদলী

হয়ে আসেন।

২৩। ১৯৪১ সালের ৮ আগস্ট সামরিক বাহিনীতে যোগদানের জন্য আবেদন করেন এবং বোর্ড অব ইন্টার সার্ভিস দ্বারা নির্বাচিত হয়ে নভেম্বর মাসে অফিসার ট্রেনিং স্কুলে প্রশিক্ষণ অংশগ্রহণের জন্য ব্যাঙ্গালুরু গমন করেন।

২৪। ১৯৪২ সালের ৮ আগস্ট তিনি মহাযুদ্ধ পরিবেশে সামরিক বাহিনীতে ইমারজেন্সি কমিশন পান এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে ইন্ডিয়ান পাইওনিয়ার কোরে বদলী হন।


২৫। ১৯৪২ সালের ১০ ডিসেম্বর লেফটেন্যান্ট, ১৯৪৩ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যাপ্টেন পদে পদোন্নতি পান । এ ব্যাটালিয়নে তিনি এ্যডজুটেন্ট, কোয়ার্টার মাস্টার ও কোম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।

২৬। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশ : বার্মা ও আরাকান ফ্রন্টে যুদ্ধে অংশ নেন ৷

২৭। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালে সৃষ্ট ১২৫৬ ও ১৪০৭ পাইওনিয়ার কোম্পানি দুজন বাঙালি মুসলমান দ্বারা গঠিত ছিল। ১৯৪৬ সালের জুলাই মাসে ঝালনা বদলি করা হয় কোম্পানি অধিনায়ক হিসেবে। দেশভাগের অনতিপূর্বে মেজর গণি পাকিস্তানের সেনা প্রধান জেনারেল স্যার ফ্রাঙ্ক মেসার্ভিকে বাঙালি দ্বারা গঠিত দুইটি পাইওনিয়ার কোম্পানির সৈনিকদের নিয়ে একটি বাঙালি পদাতিক পল্টন প্রতিষ্ঠার অনুরোধ করেন। জেনারেল মেসার্ভি ১৭ আগস্ট এ বিষয়ে সম্মতিসূচক বক্তব্য রাখেন ৷


২৮। দেশ ভাগের পর ১৯৪৭ সালে বাঙালি পাইওনিয়ার কোম্পানি ২টি (১২৫৬ ও ১৪০৭) পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । 

২৯। ১৯৪৭ সালে ১৪ আগস্ট বৃটিশ জেনারেল স্যার মেসারভিকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। 

৩০। ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে দু'টি পাইওনিয়ার কোম্পানি নিয়ে ক্যাপ্টেন গণি ও ক্যাপ্টেন এস ইউ খান ঢাকা সেনানিবাসে আগমন করেন । ৩১। মেজর গণি মেসারভির নিকট বাঙালিদের নিয়ে একটি রেজিমেন্ট গঠন করার অনুরোধ জানিয়ে ২০ পৃষ্ঠার একটি পত্র লিখেন । ৩২। দু'টি বাঙালি পাইওনিয়ার প্লাটুনকে নিয়ে ব্যাটালিয়নের মুল কাঠামো সংগঠিত করার জন্য তিনি মেসার্ভিকে জানান ।

৩৩। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সাথে মেজর গণি বাঙালি মুসলমানদের জন্য একটি রেজিমেন্ট গঠন করার জন্য অনুরোধ করেন।

৩৪। জেনারেল স্যার মেসারভি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল কায়েদে আযম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট গঠন করার জন্য অনুরোধ করলে তিনি এতে সম্মতি দান করেন।

৩৫ । মেজর গণি জালনায় অবস্থিত ইন্ডিয়ান পাইওনিয়ার কোর সেন্টারে ১৪০৭ পাইওনিয়ার কোম্পানি গঠনকালে সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা অংশ হিসেবে পদাতিক বাহিনীর যোগ্য বাঙালি সৈনিকদের তাঁর কোম্পানির জন্য নির্বাচন করেন। এ ব্যাপারে কর্নেল আর.আর মরিয়ারটি তাঁকে সহযোগিতা করেন।

৩৬ । ১৯৪৮ সালের জানুয়ারি মাসে লে. কর্নেল ভি.জে.ই পিটারসন পাইওনিয়ার কোম্পানিদ্বয় থেকে নির্বাচিত বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে পদাতিক ব্যাটালিয়ন (ইস্ট বেঙ্গল রেজিমন্টে) গঠনের কাজ শুরু করেন ৷

৩৭। অবশেষে ১৯৪৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকার কুর্মিটোলার দারোগা বাড়ি এলাকায় পূর্ব বাংলার বাঙালি মুসলমানদের বহুকালের স্বপ্ন বাস্তবে রূপলাভ করে এবং ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট প্রতিষ্ঠিত হয়।

৩৮। এদিনে ক্যাপ্টেন গণি ও মেজর এম আই হোসেন মাতৃভাষা বাংলার দাবি উত্থাপন করেন ।

৩৯। সেনাসদর থেকে মেজর গণিকে ইস্টবেঙ্গল রেজিমন্টে ট্রেনিং কোম্পানির এ্যডজুটেন্ট/কোয়ার্টার মাস্টার নিযুক্তি দিয়ে বাঙালি পল্টন সৈনিক ভর্তির দায়িত্ব দেয়া হয় ।

৪০। তাঁর প্রচেষ্টায় ১৯৪৯ সালে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের দ্বিতীয় ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৪৯ সালের জুলাই মাসে মেজর গণি ইস্ট পাকিস্তান রিক্রটিং অফিসে সহকারী রিক্রটিং অফিসার এবং ১৯৫১ সালে রিক্রটিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। রিক্রটিং দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সারাদেশ ভ্রমণ করেন এবং ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার জন্য বাঙালি তরুণদের উদ্বুদ্ধ করেন।

৪১। ১৯৫২ সালের মার্চ মাসে তিনি পাকিস্তান ন্যাশনাল গার্ড ব্যাটালিয়নে ফেরৎ যান এবং ১৯৫৩ সালের জুলাই পর্যন্ত সেখানে কর্মরত

থাকেন।

৪২। ১৯৫৩ সালের ৩ ডিসেম্বর অনারারী মেজর পদে পদোন্নতি পান। ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর তিনি সেনাবাহিনীর চাকরি হতে অবসর গ্রহণ করেন।

৪৩। সামরিক বাহিনীতে চাকরিকালে মেজর গণি ফুটবল, হকি, ক্রিকেট, সাতার ও বিলিয়ার্ড খেলতেন। বাংলাদেশে ক্যাডেট কলেজ চালু করার বিষয়েও মেজর গণি বিশেষ অবদান রাখেন ।

৪৪। অবসর গ্রহণের পর মেজর গণি রাজনীনিতে যোগ দেন এবং ১৯৫৪ সালে প্রাদেশিক আইন সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নির্বাচিত হন।

৪৫। ১৯৫৭ সালের নভেম্বর মাসে তিনি পশ্চিম জার্মানির ফ্রাঙ্কফ্রুটে বিশ্ব প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার অধিবেশনে (World Veteran Soldiers' Conference) যোগ দেন এবং সেখানেই ১২ নভেম্বর আকস্মিক হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে বার্লিনের এক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন । ৪৬। কুমিল্লার ময়নামতি সেনানিবাসে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় তাঁর মৃতদেহ দাফন করা হয়।

ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রতীকটি একটি চাঁদ-তারা খচিত অর্ধচন্দ্রের মাঝখানে হুঙ্কার দিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গির একটি রয়েল বেঙ্গল টাইগারের প্রতিচ্ছবি, যা রেজিমেন্টের শক্তিমত্তার পরিচয় ও চেতনার প্রতীক। অর্ধচন্দ্রের বামপাশে সোনালি আঁশ পাটপাতা ও ডান পাশে ধানের শীষ খচিত । এতে রেজিমেন্টের নীতিবাক্য রয়েছে, যা “সবার উপরে দেশ”, যার অর্থ “সকলের উপরে দেশ” ।