ট্রেড ইউনিয়ন সিভিল সোসাইটি অ্যাকশন এর উদ্বোধন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৬:২৪ অপরাহ্ন, ১০ নভেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ১১:৪৩ অপরাহ্ন, ২১ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

বিশ্বব্যাপী অভিবাসন একটি বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের মতো বিশাল জনগোষ্ঠীর দেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের জন্য শ্রম অভিবাসন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কারণ বেশ কিছু বছর ধরে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ থেকে নারী-পুরুষের বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্যণীয়। তাই, সাম্প্রতিককালে জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি সচেতন মহলেও অভিবাসন বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাধান্য পাচ্ছে। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রমিক প্রেরণকারী একটি দেশ। ২০০৪ হতে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ১,৩৫,৩৬,৩৬৭ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশ গমন করেছেন (সূত্র: বিএমইটি) । কেবল ২০২৪ সালেই বাংলাদেশ থেকে প্রায় ১০,০৯,১৪৬ জন কর্মী বিদেশে গেছেন। বর্তমান শ্রম বাজারের চাহিদার উপর নির্ভর করে প্রতি বছর এই সংখ্যা পরিবর্তিত হচ্ছে। এ সকল অভিবাসী শ্রমিকের অধিকাংশই স্বল্প-দক্ষ ও স্বল্প-শিক্ষিত । পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকা, দেশে অভিবাসী অধিকার সংরক্ষণ ও অভিবাসী কল্যাণ আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাবে দেশে ও বিদেশে তারা নানাভাবে শোষিত, নির্যাতিত ও প্রতারিত হচ্ছে। বিপুল সংখ্যক বিদেশগামী কর্মী সিন্ডিকেট, দুর্নীতি, নানান ধরনের দালাল চক্র দ্বারা প্রতিনিয়তই প্রতারণার শিকার হচ্ছে ও মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়ছে।

অভিবাসন আর উন্নয়ন ওতপ্রতোভাবে জড়িত। বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো অভিবাসী শ্রমিকের পাঠানো রেমিটেন্স। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক অভিবাসী নারী-পুরুষের কঠোর পরিশ্রমে উপার্জিত কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশে আসছে, যা বাংলাদেশ সরকারের প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান খাত। বিগত ত্রৈমাসিক (জানু-মার্চ ২০২৫) হিসেবে জিডিপিতে রেমিটেন্সের অবদান ৬.৯৬ শতাংশ (সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক)।

প্রবাসি শ্রমিকেরা প্রায়ই নানা ধরনের শোষণ, নির্যাতন, প্রতারণা, অধিকারহীনতার পাশাপাশি কর্মস্থলে বৈষম্য, নিম্ন মজুরি, সহিংসতা, সামাজিক নিরাপত্তার অভাব এবং আইনি সহায়তার সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়ে থাকেন। নারী শ্রমিকের অবস্থা এক্ষেত্রে আরও ভয়াবহ। অভিবাসী শ্রমিকদের এসকল অধিকার রক্ষা একটি সমন্বিত প্রচেষ্টার বিষয়। নাগরিক সংগঠনগুলো ও ট্রেড ইউনিয়নগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, যা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়ন ও নাগরিক সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এ ধরনের সমন্বিত প্রচেষ্টা শ্রম অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শ্রমিকবান্ধব করতে সহায়তা করবে। ট্রেড ইউনিয়ন শ্রম অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখতে সক্ষম, অন্যদিকে নাগরিক সংগঠনগুলো মানবাধিকার, প্রয়োজনীয় সেবা এবং আইনি সহায়তার মাধ্যমে শ্রমিকদের পাশে থাকতে তৎপর। বৈদেশিক শ্রমবাজার যেহেতু বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম লাইফ লাইন, তাই ট্রেড ইউনিয়ন-সিভিল সোসাইটি একশন অ্যালায়েন্সটি (Trade Union - Civil Society Action Alliance, TUCSAA) শ্রম অধিকার এবং কল্যাণের ক্ষেত্রে যৌথ পদক্ষেপকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যাত্রা শুরু করলো। তৃণমূল স্তরের কন্ঠস্বরকে আরও জোরদার করতে এবং নীতি-নির্ধারকদের কাছে শ্রমিকদের কন্ঠস্বর পৌঁছে দিতে অ্যালায়েন্সটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। এই অ্যালায়েন্সটির লক্ষ্য হলো অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ জোরদার করা, শ্রম অভিবাসন প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে তোলা, এবং অভিবাসী শ্রমিকের মর্যাদা, আর্থ-সামাজিক নিরাপত্তা, কল্যাণ এবং পুনঃএকত্রীকরণকে নিশ্চিত করা।