বিভক্তি তৈরি করা ঐকমত্য কমিশনের কাজ হতে পারে না: সালাহউদ্দিন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ৩:২৬ অপরাহ্ন, ৩০ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৮ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের কাজ হলো ঐক্য সৃষ্টি করা, বিভক্তি তৈরি করা নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে, কমিশন জাতিকে বিভ্রান্ত করছে এবং রাজনৈতিক বিভক্তি তৈরি করছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এখানে দাবি পেশের কোনো বিষয় নেই। দীর্ঘ ১০-১১ মাস ধরে প্রথমে ছয়টি সংস্কার কমিশনের সঙ্গে আমাদের ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে এলডি হলে। সেই মতামতের ভিত্তিতেই রিপোর্ট তৈরি করে জাতীয় ঐক্যমঞ্চ কমিশন গঠিত হয়েছে, যার সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা। সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যানদের সদস্য করা হয়েছে এবং সহসভাপতি করা হয়েছে প্রফেসর আলী রিয়াজকে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে কোনো দাবি নিয়ে আলোচনা হয়নি। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে আমরা লিখিতভাবে জবাব দিয়েছিলাম। সেই জবাবের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর সেই প্রতিবেদনের ওপর মতামত আহ্বান করা হয় এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ তিন মাস ধরে ৩০ কার্যদিবসব্যাপী দ্বিতীয় দফার আলোচনা হয়, যা ৩১ জুলাই সমাপ্ত হয়।”

বিএনপির এই নেতা জানান, সেই আলোচনায় বিভিন্ন দল নোট অফ ডিসেন্ট দেয়। বিএনপিও কিছু ভিন্নমত দেয়, যা জুলাই জাতীয় সনদের ৮৪ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে। “প্রত্যেক প্রস্তাবের বিপরীতে রাজনৈতিক দলসমূহের ঐক্যমত্য এবং নোট অফ ডিসেন্ট উল্লেখ করা হয়েছে।

একই প্রসঙ্গে তিনি ৭০ অনুচ্ছেদের নোট অফ ডিসেন্ট তুলে ধরে বলেন, “আমরা বলেছি, কোনো রাজনৈতিক দল যদি নির্বাচনী ইশতেহারে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব রাখে এবং জনগণের ম্যান্ডেট পায়, তাহলে তারা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতি বা জাতীয় নিরাপত্তার মতো বিষয়েও এমপিরা দলের পক্ষেই ভোট দেবেন।”

সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করে বলেন, “জাতীয় ঐক্যমঞ্চ কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই ভিন্নমতগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। শুধু তাদের নিজস্ব প্রস্তাব রেখে ৪৮ দফার একটি তফসিল তৈরি করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে, এই দফাগুলোর ওপর গণভোট হবে। অথচ কারা কী মত দিয়েছে, কীভাবে ঐকমত্য হয়েছে—সেগুলো উল্লেখ করা হয়নি।”

তিনি বলেন, “বিল তো সংসদের এখতিয়ার। সংসদে ফার্স্ট, সেকেন্ড, থার্ড রিডিং শেষে জনমত যাচাই ও স্থায়ী কমিটিতে আলোচনার পরই কোনো বিল আইনে পরিণত হয়। এখন যদি বলা হয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিবেচনার জন্য বিল উপস্থাপন করা হবে—এমন ধারণা আমরা আগে কখনো শুনিনি।”