শিক্ষার সর্বস্তরে আরবী ভাষা পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্তকরণ”করার দাবী

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১০:৫৩ অপরাহ্ন, ১১ অক্টোবর ২০২৫ | আপডেট: ১০:০৩ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

রিপোর্ট : তাজউদ্দীন আহমদ 

ড. মোহাম্মদ আবুল হাসান অতিরিক্ত সচিব (অব:), প্রাক্তন ইকোনমিক মিনিস্টার বাংলাদেশ দূতাবাস, রিয়াদ, সৌদি আরব

বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা, মায়ের ভাষা শুদ্ধভাবে শেখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তবে ভিন্ন ভাষা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে অবহেলা করার গুরুতর ভুল আমরা অতীতে করেছি, যার ফল আজ স্পষ্ট। ইংরেজি শিক্ষকের অভাব দীর্ঘদিন ধরে অনুভূত হয়েছে। ৮৫% মুসলমানের এই দেশে নীতি-নির্ধারকরা আরবী ভাষাকে কখনোই অর্থনৈতিক প্রয়োজন, ধর্মীয় প্রয়োজন কিংবা নৈতিক প্রয়োজনের কারণে সার্বজনীন করেননি। তারা আরবী ভাষার জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক তৈরি করেননি, কিংবা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স বৃদ্ধির লক্ষ্যে এটি শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্তও করেননি।

কিন্তু আজ বাস্তবতার তাগিদে আমরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশি আরবভাষী দেশে কর্মরত থেকে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাচ্ছেন, যা জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ জোগান দিচ্ছে। তবে এ শ্রমশক্তির বড় অংশ আরবী ভাষা ও সংস্কৃতিতে দক্ষ নয়। ফলে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগ সমস্যার কারণে তারা প্রায়ই সুযোগ হারান, এমনকি দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও প্রাপ্য মর্যাদা ও সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন।

অন্যদিকে, কেবল ভাষাগত দক্ষতাই যথেষ্ট নয়। বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা মূলকভাবে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ, সততা ও পরিশ্রমের মূল্যবোধে গড়ে ওঠা সুনাগরিক। শিশুকাল থেকেই ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক নৈতিক শিক্ষা প্রদান করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একজন দক্ষ, বিশ্বস্ত ও নীতিবান কর্মী হিসেবে গড়ে উঠতে পারবে।

এই প্রেক্ষাপটে, প্রাথমিকসহ �

প্রকৌশলী মোঃ তামজিদুর রহমান

বাংলাদেশে আরবি ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিতে হবে

বিশ্বের প্রায় সব দেশে নিজেদের ভাষার পর দ্বিতীয়, তৃতীয় এমনকি প্রয়াজনবোধে চতুর্থ ভাষাও রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে । অনেক দেশ ইংরেজীকে তাদের দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে গ্রহণ করেছে। এটা ইংরেজ জাতির কৃতিত্ব। ইংরেজরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বের হয়ে গেলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের টিভি চ্যানেল 'ইউরো নিউজ' এখনো ইংরেজীতেই প্রচারিত হচ্ছে। কারণ সকল ইউরোপীয়দের কাছে গ্রহণযোগ্য আর কোন ভাষা নেই । তারপর গুরুত্বের দিক থেকে বিবেচনা করে ফরাসি ও জার্মান ভাষাকে রেখেছে । এটা নির্ভর করছে দেশগুলির সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, আর্থিক এবং সামরিক প্রভাবের উপর। এ ধারা চলে আসছে এশিয়া, আফ্রিকা তথা সারা বিশ্বে

সিওরা লিওন একমাত্র দেশ যার অধিবাসীরা শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সৈনিকদের ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করেছে।

একসময় পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য ছিল যুক্তরাজ্য যেখানে সূর্য কখনো অস্ত যেতো না । অর্থাৎ সাম্রাজ্যের কোন না কোন জায়গায় আকাশে সূর্য থাকতই। সে সম্রাজ্য ছোট হতে হতে এখন যুক্তরাজ্যের মূল ভূখন্ডে থাকা স্কটল্যান্ডও বের হয়ে যাওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া। আমাদের প্রথম রাষ্ট্রভাষা রক্ত দিয়ে অর্জিত বাংলা ভাষা। ভাষার জন্য বোধহয় পৃথিবীর আর কোন জাতীকে এতটা ত্যাগ স্বীকার করতে হয় নাই। এর মধ্যে দিয়েই মূলতঃ বীজ বপন করা হয়েছিল চূড়ান্ত স্বাধীনতার

ইংরেজরা ২০০ বছর শাসন করেছে বলে উত্তরাধীকার সূত্রে ইংরেজী আমাদের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্থান করে নিয়েছে । এখন প্রশ্ন হচ্ছে-আমাদের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা কী হবে এবং এর প্রয়োজনীয়তা কতটুকু?

ওমান থেকে মরক্কো, সুদান থেকে সিরিয়া পর্যন্ত বিশাল ভূখন্ডে সবাই আরবী ভাষাভাষী । 

এসব কর্মজীবি বাংলাদেশিরা আরবী ভাষা শিখার কোন সুযোগ পায়নি। ভাষা জ্ঞানের অভাবে তাদের নিত্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তারা মনিবের আদেশ-নিষেধ সঠিকভাবে বুঝতে পারছে না। নিজের সীমাবদ্ধতার কথা মনিবকে বুঝাতে পারছে না। এমনকি নিজের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো নিয়েও দরকষাকষি করতে পারছে না। ফলে একতরফাভাবে নির্যাতন সহ্য করতে হচ্ছে তাদের। Skilled unskilled শ্রমিকের একটা বিভাজন আছে। ভাষাজ্ঞান সম্পন্ন একজন শ্রমিককে Skilled ধরা হয় এবং তাদের বেতনও হয় বেশি। আরবী ভাষা জ্ঞানের অভাবে বাংলাদেশি শ্রমিকেরা মধ্যপ্রাচ্যের দাপ্তরিক সেক্টরে প্রবেশ করতে পারে না । ফলে তা দখল করে আছে ফিলিপাইন, ভারত এবং শ্রিলংকার লোকেরা । অন্যদিকে আরবী ভাষায় যথেষ্ঠ দক্ষতা না থাকার কারনে উত্তপ্ত মরুভূমিতে বাংলােেশর শ্রমিকেরা Outdoor duty করতে বাধ্য হচ্ছে। বাংলােেশর অনেক অমুসলিম কর্মজীবিও মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত আছে। সুতরাং আরবী ভাষায় যদি আমাদের দেশের শ্রমিকেরা যথেষ্ট দক্ষতা অর্জন করতে পারে তাহলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন দাপ্তরিক সেক্টরে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং আর্থিকভাবে হবে স্বচ্ছল ও তাদের চাকুরী হবে টেকসই।

অন্যদিকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মানব জাতির মুক্তির জন্য - পবিত্র কুরআন নাযিল করেছেন। মহান রবের সন্তুষ্টি এবং পরকালে বেহেশ্ত লাভের জন্য কুরআন বুঝে পড়া এবং সেই মোতাবেক আমল করার কোন বিকল্প নেই। অথচ পবিত্র কুরআন না বুঝে পড়ার কারনে ৯০ শতাংশ মুসলমান অধ্যুষিত বাংলােেশর বেশিরভাগ মানুষকুআনের প্রদর্শিত পথ খুঁজে না পেয়ে অজ্ঞতার সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে জাহান্নামের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর একমাত্র কারণ আরবি ভাষা জ্ঞানের অভাব ৷

আমরা আনেকে জুম'আর নামাজ পড়ি, খতীব যখন আরবিতে খুৎবা পড়েন তখন আমরা আসহায় বোকার মত চেয়ে থাকি । নামাজে আমরা যা পড়ি অর্থ না বুঝার কারণে মন অন্যদিকে চলে যায়। এই অভি