স্নায়ুর লড়াইয়ে জিতে সুপার ফোরে শুভ সূচনা বাংলাদেশের

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | আপডেট: ৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

সহজ হয়ে আসা ম্যাচকে স্নায়ুর লড়াইয়ে পরিণত করলেন টাইগার ব্যাটাররা। ৫ বলে ১ রানের সমীকরণে ভারতের সঙ্গে ৩ বলে ২ রান নিতে না পেরে হারের স্মৃতিও ফিরে আসছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ১ বল হাতে রেখেই এলো জয়সূচক রান। এশিয়া কাপের সুপার ফোরে শ্রীলংকাকে হারিয়ে শুভ সুচনা করল বাংলাদেশ।

এশিয়া কাপের সুপার ফোরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শ্রীলংকার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। টসে জিতে বোলিং বেছে নেন লিটন দাস। নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে শ্রীলংকাকে ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রানে বেঁধে রাখেন মুস্তাফিজুর রহমান, শেখে মেহেদি হাসানরা।

টি-টুয়েন্টিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স বিবেচনায় লক্ষ্যটা বড়ই ছিল বলা যায়। তবে সাইফ হাসান, তৌহিদ হৃদয় আর লিটন দাসের ব্যাটে ভর করে শেষ পর্যন্ত সে লক্ষ্য সহজ হয়ে আসে। শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৫ রান। প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ৫ বলে ১ রানের সমীকরণে নিয়ে আসেন জাকের আলী। পরের বলেই অবশ্য ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ২ বল খেলে আউট হয়ে যান শেখ মেহেদিও। শেষ পর্যন্ত নাসুম ওভারের পঞ্চম বল ব্যাটে ঠেকিয়েই ‘কুইক সিংগেল’ নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন।

বাংলাদেশের ব্যাটিং ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। পঞ্চম বলে ‘ডাক’ মেরে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আগের ম্যাচের হিরো তানজিদ হাসান। দ্বিতীয় উইকেটে লিটন দাস ও সাইফ হাসান ৩৪ বলে ৫৯ রান করে জয়ের ভিত গড়ে দেন। পাওয়ার প্লে শেষ হলে পরের ওভারেই সাজঘরে ফিরে যান লিটন দাস। ১৬ বলে ২৩ করেন তিনি।

তৃতীয় উইকেটে তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে ৪৫ বলে ৫৪ রানের জুটি গড়েন সাইফ হাসান। ১৪তম ওভারের শেষ বলে ৪৫ বলে ৬১ রান করে ফেরেন সাইফ। তার ইনিংসে ছিল দুটি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা। শেষ ৬ ওভারে তখন বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৫ রান, হাতে ৭ উইকেট।

চতুর্থ উইকেট জুটি সেই সমীকরণকে সহজ করে দেয়। হৃদয় আর শামীম হোসেন ২৭ বলে ৪৫ রানের জুটি গড়েন। হৃদয় আউট হয়ে যান ১৫৯ রানের মাথায়। ৪টি বাউন্ডারি আর দুটি ছক্কায় তার সংগ্রহ ছিল ৩৭ বলে ৫৮। দলের তখন প্রয়োজন ৯ বলে ১০ রান।

জাকের আলী নেমে প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকান। পরের বলে সিংগেল নিলে শেষ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৫। দাসুন শানাকার করা শেষ ওভারের প্রথম বলেও বাউন্ডারি হাঁকান জাকের। তাতে স্কোর শ্রীলংকাকে ছুঁয়ে ফেলে। কিন্তু জয়সূচক শেষ ১ রান করতেই ৩ বলের মধ্যে বিদায় নেন জাকের আলী আর শেখ মেহেদি।

শেষ ২ বলে তখন প্রয়োজন ১ রান। নাসুম নেমে আর ভুল করেননি। গুড লেন্থের বল গালিতে ঠেলেই দেন দৌড়। ফিল্ডার ডিরেক্ট থ্রোতে উইকেট ভেঙে দিতে পারলে অবশ্য শামীম হোসেন আউট হয়ে যেতেন। তবে সেটি না হওয়ায় শামীম নিরাপদে পৌঁছে যান ক্রিজে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বাংলাদেশ।

শামীম শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১২ বলে ১৪ রানে। মাঝে জাকের আলী করেছেন ৪ বলে ৯ রান। ৪৫ বলে ৬১ রান আর দুটি ক্যাচ নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন সাইফ।

শ্রীলংকার বোলারদের মধ্যে দুটি করে উইকেট নেন ওয়াইনিন্দু হাসারাঙ্গা ও দাসুন শানাকা। এর মধ্যে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে হাসারাঙ্গা বাংলাদেশি ব্যাটারদের বেঁধে রেখেছিলেন। একটি করে উইকেট নিয়েছেন নুয়ান থুসারা ও দুশ্মন্ত চামিরা।

এর আগে টসে জিতে বোলিং নিলেও টাইগার বোলাররা খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারেননি শুরুতে। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে শ্রীলংকার। পাথুম নিশাঙ্কা আউট হয়ে যান ১৫ বলে ২২ রান করে। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলংকার রান ছিল ৫৩।

এরপর ৫৮ রানে দ্বিতীয় ও ৬৫ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটে শ্রীলংকার। ৯৭ রানে গিয়ে পড়ে চতুর্থ উইকেট। এরপর দাসুন শানাকা ও চারিথা আসালঙ্কা ২৭ বলে ৫৭ রানের জুটি গড়ে বড় সংগ্রহের দিকে এগিয়ে দেন শ্রীলংকাকে। তাতে ১৮ ওভারে ৪ উইকেটে ১৫৩ রান সংগ্রহ করা শ্রীলংকার স্কোর ২০ ওভারে ১৮০ প্লাসের দিকেই ধাবিত হচ্ছিল।

১৯তম ওভারে বল করতে এসে সে চিত্র বদলে দেন ডেথ ওভারের মাস্টার মুস্তাফিজ। ওই ওভারে মাত্র ৫ দিয়ে ‍তুলে নেন দুটি উইকেট। একটি রানআউটও হয় ওই ওভারে। তাসকিনের করা শেষ ওভারে একটি বাউন্ডারি আর একটি ওভার বাউন্ডারিতে ১০ রান তুলে নেন শানাকা। তাতে শ্রীলংকার ইনিংস থামে ১৬৮ রানে।