বাংলাদেশের পণ্যে ৪ মাসে চার বার বিধিনিষেধ ভারতের

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:১৪ পূর্বাহ্ন, ১২ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ৫:২৪ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ভারত নানা ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ অব্যাহত রেখেছে। এবার বাংলাদেশ থেকে বস্ত্র ও পাটজাত আরও চার ধরনের পণ্যে স্থলবন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে দেশটির ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক অধিদপ্তর ডিজিএফটি।

গত চার মাসের মধ্যে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করল ভারত। এর মধ্যে তিনবারই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশি পণ্য আমদানির জন্য দেশটির স্থলবন্দর ব্যবহারের ওপর।

সোমবার (১১ আগস্ট) ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যবিষয়ক অধিদপ্তর ডিজিএফটির অতিরিক্ত সচিব অজয় ভাদুর সই করা বিজ্ঞপ্তিতে সবশেষ এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল, ১৭ মে ও ২৭ জুন আরও তিন দফা বিধিনিষেধ আরোপ করে ভারত।

প্রথম ধাক্কায় ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিল

গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে অবনতি ঘটে। সীমান্ত, ভিসা ইত্যাদি ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকে। একপর্যায়ে দুই দেশই অন্য দেশের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথে হাঁটে।

বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ভারতের প্রথম বিধিনিষেধ আরোপ হয় গত ৮ এপ্রিল। ওই দিন কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুবিধা তথা ট্রান্সশিপমেন্ট প্রত্যাহার করে নেয় দেশটি।

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার আওতায় কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারতেন। ২০২০ সালের ২৯ জুন জারি করা এক পরিপত্র অনুযায়ী বাংলাদেশ ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পেয়ে আসছিল।

ওই সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, একটি বড় সময় ধরে বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধার কারণে ভারতের বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে ব্যাপক জট দেখা দিয়েছে। তাতে ভারতের নিজেদের রপ্তানি বিঘ্নিত হচ্ছে। এ কারণে ৮ এপ্রিল থেকে এ সুবিধাটি প্রত্যাহার করা হয়।

আমদানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিলের সময় ভারত জানায়, এ কারণে ভারতের সীমান্ত দিয়ে পরিবহন করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির ওপর প্রভাব পড়বে না। তবে এর মাসখানেক পর ভারত নিজেই বাংলাদেশ থেকে পণ্য আমদানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়।

প্রথম ধাক্কা আসে গত ১৭ মে। সে দিন বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক, কাঠের আসবাব, সুতা ও সুতার উপজাত, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় প্রভৃতি পণ্য আমদানিতে স্থলবন্দর ব্যবহারে বিধিনিষেধ দেয় ভারত।

ভারতের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ভারতের আমদানিকারকরা কেবল মহারাষ্ট্রের নবসেবা ও পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা সমুদ্রবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করতে পারবেন।