সংসদের ২ কক্ষেই পিআরের দাবিতে আন্দোলন করবে জামায়াত

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, ১১ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৭ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ— উভয় কক্ষেই সংখ্যানুপাতিক বা পিআর পদ্ধতিতে ভোটের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

রোববার (১০ আগস্ট) বিকেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

সৈয়দ তাহের বলেন, সংসদে উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের ব্যাপারে আমরা একমত হয়েছি। কিন্তু আমাদের দাবি, পিআর হতে হবে উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ— উভয় কক্ষেই। সেই ইস্যুতে আমরা আন্দোলন করব।


পিআর বা সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে ভোট প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির চেয়ে ভিন্ন। এই পদ্ধতিতে নির্বাচনে সংসদীয় আসনভিত্তিক দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয় নির্ধারণ হয় না। বরং কোনো একটি দল নির্বাচনে সারা দেশে যে পরিমাণ ভোট পায়, সেই ভোটের অনুপাতে সংসদের আসনের পরিমাণ নির্ধারিত হয়।

পিআর পদ্ধতিতে আসনভিত্তিক প্রার্থীও দেওয়া হয় না। বরং নির্বাচন হয় কেবল দলীয় প্রতীকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ৩০০ সংসদীয় আসনের নির্বাচনে কোনো দল যদি সারা দেশে ১০ শতাংশ ভোট পায়, সেই দলের প্রতীক এককভাবে কোনো আসনেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও সংসদে ৩০টি আসন পাবে।

জামায়াতে ইসলামী মনে করছে, এই পদ্ধতিতে নির্বাচন হলেই কেবল সুষ্ঠু নির্বাচন ও সংসদে জনমতের প্রতিফলন নিশ্চিত করা যাবে।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, আমরা পিআর পদ্ধতিতে ভোট চাই। কারণ ৫৪ বছরের নির্বাচনের পদ্ধতিতে আমরা দেখেছি, এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন (ফেয়ার ইলেকশন) কখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেই এসেছে। একেক দল একেক পদ্ধতিতে পিআর প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে। কোনো দল কেবল সংসদের উচ্চকক্ষের জন্য পিআর চেয়েছে, কোনো কোনো দল দুই কক্ষের জন্যই পিআর চেয়েছে।

এখন পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে নিম্নকক্ষে প্রচলিত পদ্ধতিতে নির্বাচনের পাশাপাশি উচ্চকক্ষে পিআর পদ্ধতিতে ভোটের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি দল একমত হয়েছে। জামায়াতের নায়েবে আমিরের ভাষ্য, তারা দুই কক্ষেই পিআর পদ্ধতিতে ভোটের জন্য আন্দোলনে নামতে যাচ্ছে।