৩৬ জুলাই আজ— ছাত্র-জনতার বিজয়ের দিন

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১:৫৬ অপরাহ্ন, ০৫ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৬ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বর্ষপঞ্জির পাতায় আজ ৫ আগস্ট। ছাত্র-জনতার মনের পাতায় ৩৬ জুলাই। এক বছর আগে সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে এসেছিল এই দিন, যে দিন লাখো মানুষের ঢলের মুখে পতন ঘটেছিল ১৬ বছর ক্ষমতায় জেঁকে বসা আওয়ামী লীগ সরকারের। ছাত্র-জনতার স্রোতের মুখে সেদিন হেলিকপ্টারে করে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার মধ্য দিয়ে টানা ৩৬ দিনের এক অবিস্মরণীয় আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।

শেখ হাসিনার দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসানে তিন দিন পরই ছাত্র-জনতার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সেখানে স্থান পান রক্তক্ষয়ী জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া দুজন ছাত্র উপদেষ্টা। জুলাই গণহত্যার বিচারের পাশাপাশি ফ্যাসিবাদী শক্তির ক্ষমতায় আসার পথ রোধ করতে রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছে সে সরকার।

আওয়ামী লীগের পতনের পর দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকার ঐতিহাসিক এই দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী শক্তির পতন উদযাপনসহ এ দিনটি ঘিরে আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী নানা কর্মসূচিও নিয়েছে সরকার।

সকাল থেকেই দিবসটির উদযাপন শুরু হবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে সেখানে দিনভর থাকছে বিভিন্ন ব্যান্ড ও শিল্পগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশন। এর মধ্যেই বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের উপস্থিতিতে সবার অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করা হবে।

৩৬ জুলাই উদযাপনের আয়োজনে আরও থাকছে— ৬৪ জেলায় ‘জুলাই শহিদ স্মৃতিস্তম্ভে’ সকাল ৯টায় পুষ্পস্তবক অর্পণ। পাশাপাশি সারা দেশের প্রতিটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে মোনাজাত ও প্রার্থনা হবে। এ দিন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের সব সার্কেল অফিস নিজ নিজ অধিক্ষেত্রে রাস্তার পাশে বা নিজস্ব জায়গায়, ট্রাফিক ইন্টারসেকশনে বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করবে।

এ দিন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জুলাই নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র, ডকুমেন্টারি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করা হবে। এ ছাড়া এদিন ‘নোটস অন জুলাই’ শিরোনামে জুলাইয়ের কিছু নির্বাচিত ছবি দিয়ে পোস্টকার্ড ডিজাইন করা হবে, যা জনসমাগমের মধ্যে ভলান্টিয়াররা নিয়ে ঘুরবেন এবং জনগণ ইচ্ছামতো পোস্টকার্ড নিয়ে নিজেদের জুলাইয়ের অভিজ্ঞতা লিখতে পারবেন।

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের আহ্বান

ঐতিহাসিক এ দিবসটি উপলক্ষ্যে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বাণীতে তারা দুজনেই জুলাই আন্দোলনের শহিদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন, স্মরণ করেছেন আন্দোলনে আহতদের। সবাইকে ঐতিহাসিক এ অর্জনের বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনও জানিয়েছেন। জানিয়েছেন জুলাই আন্দোলনের চেতনা সবাই মিলে বাস্তবায়নের আহ্বান।

জুলাই অভ্যুত্থানের পটভূমি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন বলেন, এ গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, দুঃশাসন, দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, খুন, অপহরণ, ভোটাধিকার হরণসহ সব ধরনের অত্যাচার-নিপীড়নের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতার ক্ষোভের বিস্ফোরণ।

জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই বৈষম্যমূলক ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা বিলোপ করে গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠা, জনগণের ক্ষমতায়ন ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে সুনিশ্চিত করাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য। একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ফ্যাসিবাদের মূলোৎপাটন করে জুলাইয়ের চেতনার পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে।

বাণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, টানা ১৬ বছরের স্বৈরাচারী অপশাসনের বিরুদ্ধে সম্মিলিত বিস্ফোরণ ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থান। জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারমুক্ত নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করে রাষ্ট্রকে জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া।

ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে এক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাজারও শহিদের আত্মত্যাগ আমাদের রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ এনে দিয়েছে তা যেকোনো মূল্যে রক্ষা করতে হবে। পতিত স্বৈরাচার ও তার স্বার্থলোভী গোষ্ঠী এখনো দেশকে ব্যর্থ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। আসুন, সবাই মিলে আমরা এমন এক বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে আর কোনো স্বৈরাচারের ঠাঁই হবে না।