বাংলাদেশের জন্য ট্রাম্পের শুল্ক ৩৫ থেকে কমে ২০

Newsdesk
Newsdesk Newsdesk
প্রকাশিত: ১০:২৩ পূর্বাহ্ন, ০১ অগাস্ট ২০২৫ | আপডেট: ২:০৬ পূর্বাহ্ন, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশি পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ৩৫ শতাংশ পাল্টা শুল্কহার কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের তৃতীয় দফা বৈঠকের পর এই সুফল আসে বলে শুক্রবার সকালে জানায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক হার অর্জন করেছে—যা শ্রীলঙ্কা, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো পোশাক খাতের প্রধান প্রতিযোগীদের ক্ষেত্রে ১৯ থেকে ২০ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা সফল না হওয়ায় ভারতকে ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করছে, এর ফলে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের আপেক্ষিক প্রতিযোগিতা প্রভাবিত হয়নি। যদিও এ বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

“আমরা সফলভাবে সম্ভাব্য ৩৫% পারস্পরিক শুল্ক এড়িয়েছি। এটি আমাদের পোশাক খাত এবং এর উপর নির্ভরশীল লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য সুসংবাদ,” বলেন বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান

“আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো জাতীয় স্বার্থ এবং সামর্থ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিনা তা নিশ্চিত করার জন্য আমরা সাবধানতার সাথে আলোচনা করেছি,” বলেন তিনি।

“ আমরা আমাদের বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতামূলকতাও সংরক্ষণ করেছি এবং বিশ্বের বৃহত্তম ভোক্তা বাজারে প্রবেশের জন্য নতুন সুযোগ খুলে দিয়েছি,” ড. রহমান আরও বলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৮ জুলাই প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে পাঠানো চিঠিতে আগামী ১ আগস্ট থেকে ৩৫ শতাংশ নতুন শুল্ক আরোপের কথা জানান। নতুন করে এই শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে গড় শুল্কহার দাঁড়াতো আগের ১৫ শতাংশসহ ৫০ শতাংশ। এখন তা কমে হবে মোট ৩৫ শতাংশ।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কবৃদ্ধির এই ধাক্কা বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে বড় প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। এর ঢেউ পুরো রপ্তানি খাত এবং সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর পড়তে পারে বলে মত দেন অর্থনীতিবিদেরা।

এই পরিস্থিতিতে শুল্ক নিয়ে টানাপোড়েন প্রশমনে বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয় এবং কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ কর। এই প্রক্রিয়ায় কৃষি, বিমান চলাচল ও জ্বালানি খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

আনুষ্ঠানিক বার্তা না পেলেও ট্রাম্প প্রশাসনের ৩৫ শতাংশ পালটা শুল্ক হার শেষ পর্যন্ত কিছুটা কমবে বলে আশা করেছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। উপদেষ্টা বলেন, আমরা আশা করছি হয়তো কিছু কমাবে। কারণ, আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি খুবই কম, ৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।