ব্লগার অভিজিৎ হত্যা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ফারাবীর জামিন
ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত শফিউর রহমান ফারাবী অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন। এ মামলায় ২০১৫ সালের ৩ মার্চ থেকে কারাগারে আছেন তিনি। ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ফারাবীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও আরও পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড সাজা দিয়েছিলেন।
বুধবার (৩০ জুলাই) বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ফারাবীকে জামিনের আদেশ দেন।
বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে ২০২১ সালে হাইকোর্টে আপিল করেন ফারাবী। ২০২২ সালের ৪ আগস্ট হাইকোর্ট আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন। বিচারাধীন আপিলে জামিন চেয়ে আবেদন করেন ফারাবী, যা বুধবার আদালতের কার্যতালিকায় ১৭৯ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।
আদালতে ফারাবীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. এমরান খান।
আইনজীবী মুহাম্মদ হুজ্জাতুল ইসলাম খান বলেন, এ মামলায় ফারাবী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। বাকি যে চারজন স্বীকারোক্তি দিয়েছেন তারাও কেউ এ ঘটনায় ফারাবীর জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেননি। তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়া আর কোনো সাক্ষীর বক্তব্যেও তার নাম আসেনি। এসব যুক্তিতে জামিন আবেদন করা হয়েছিল। উচ্চ আদালত শুনানি নিয়ে জামিন দিয়েছেন।
অমর একুশে বইমেলা চলাকালে ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় অভিজিৎকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। হামলায় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় রাজধানীর শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে ২০১৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে ওই বছরের ৬ আগস্ট ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির করা হয়। সাক্ষ্য নেওয়া শেষে ২০২১ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও এক আসামিকে (শফিউর রহমান ফারাবী) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।