শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উচ্চ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বয়ান ‘ভুয়া’ ছিল-রয়টার্সকে ড. ইউনূস

newsdesk
newsdesk newsdesk
প্রকাশিত: ১১:১২ অপরাহ্ন, ২৪ জানুয়ারী ২০২৫ | আপডেট: ১০:২৫ পূর্বাহ্ন, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে দেশের যে উচ্চ প্রবৃদ্ধি দেখানো হয়েছিল, তা ‘ভুয়া’।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সুইজারল্যান্ডে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এসব মন্তব্য করেছেন ড. ইউনূস। শেখ হাসিনার দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন না করায় বিশ্ব সম্প্রদায়েরও সমালোচনা করেন তিনি। 

১৫ বছরের শাসনকালে দেশের অর্থনীতি এবং বিশাল গার্মেন্টস শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য শেখ হাসিনা কৃতিত্ব নিয়েছিলেন। তবে সমালোচকরা তার বিরুদ্ধে বাকস্বাধীনতা ও ভিন্নমত দমনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন।

রয়টার্সকে ড. ইউনূস বলেন, তিনি (হাসিনা) দাভোসে সবাইকে দেশের শাসনব্যবস্থা কীভাবে চলাতে হয় তা বলেছিলেন। কেউ সেটিকে প্রশ্ন করেনি। এটি একেবারেই ভালো বিশ্বব্যবস্থা নয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এটি ঘটানোর জন্য সম্পূর্ণ বিশ্বই দায়ী। সুতরাং এটি বিশ্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তিনি বলেছিলেন, আমরা প্রবৃদ্ধির দিক থেকে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছি– এটি একেবারে মিথ্যা।

তিনি কেন ওই প্রবৃদ্ধিকে ভুয়া মনে করেন, সে বিষয়ে রয়টার্সকে বিস্তারিত কিছু না বললেও সকলের জন্য সমতাভিত্তিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ওপর জোড় দিয়েছেন ড. ইউনূস। পাশাপাশি, সম্পদে অসমতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে কোভিড মহামারি এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের আগে ১৭ কোটি জনসংখ্যার বাংলাদেশের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি প্রায় ৮ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে, ২০০৯ সালে হাসিনা ক্ষমতায় আসার সময় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ৫ শতাংশ।

২০২৩ সালে বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছিল, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ থেকে ২০১৫ সালে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।

বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনটি সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদের মাধ্যমে শুরু হলেও, জুলাই মাসে সেটি সহিংস হয়ে ওঠে এবং ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তবে হাসিনার সরকার আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহারের কথা অস্বীকার করেছিল।

হাসিনার পতনের পর আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা ইউনূসের নাম অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে প্রস্তাব করেছিলেন। এই সরকারের কাজ ছিল, নতুন নির্বাচন আয়োজন করা।

২০২৫ সালের শেষে বা ২০২৬ সালের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয়া ইউনূস জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী নন।

‘গরিবদের ব্যাংকার’ হিসেবে পরিচিত ইউনূস এবং তার প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংক নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। তারা গ্রামের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে ১০০ ডলারের কম ঋণ দেয়ার মাধ্যমে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনেন। সাধারণত, এই দরিদ্র জনগোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারত না।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শক্তিশালী বাণিজ্যিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকলেও শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় নেয়ার কারণে সম্পর্ক কিছুটা টানাপড়েন দেখা দিয়েছে।

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দিতে ভারত সরকারকে চিঠি দিয়েছে ইউনূস সরকার। হাসিনার শাসনামলে করা অপরাধ এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের জন্য বিচারের সম্মুখীন করতে চায় সরকার।

এই কঠিন সময়ে ভারতের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনকে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি বন্ধু উল্লেখ করে ইউনূস রয়টার্সকে বলেন, দিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েন ব্যক্তিগতভাবে আমাকে অনেক কষ্ট দেয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক অবশ্যই সবচেয়ে শক্তিশালী হওয়া উচিত, কারণ বাংলাদেশের অংশ বাদ দিয়ে ভারতের মানচিত্র আঁকা যায় না।