জাদুশিল্পীদের এগিয়ে আসতে হবে দেশীয় সাংস্কৃতিক বিকাশে: আবদুস সালাম
নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে জাদুশিল্পীদের উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান
নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরতে জাদুশিল্পসহ দেশীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকাশে শিল্পীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
তিনি বলেন, একটি জাতির স্বতন্ত্র পরিচয় বহন করে তার সংস্কৃতি, শিল্প ও শিক্ষা। এসবের চর্চা হারিয়ে গেলে বিশ্বদরবারে জাতির নিজস্ব পরিচয় ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদ আয়োজিত ‘শাহমনি স্টেজ গালা গোল্ড মেডেল’ ও ‘মাইনুল খান ক্লোজ-আপ গোল্ড মেডেল ম্যাজিক কম্পিটিশন ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, বিদেশি ও আকাশসংস্কৃতির প্রভাবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের নিজস্ব সংস্কৃতি অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতি, জাদুশিল্প ও খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে হবে। সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা তরুণদের সৃজনশীল বিকাশের পাশাপাশি মাদক থেকেও দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, একসময় স্কুল, মহল্লা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত জাদুর অনুষ্ঠান আয়োজন করা হতো। এসব আয়োজনে জাদুশিল্পীদের ব্যস্ততা ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু বর্তমানে সেই চিত্র অনেকটাই বদলে গেছে। একইভাবে দেশের অনেক সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে, সংকুচিত হয়েছে সাংস্কৃতিক চর্চার বিভিন্ন ক্ষেত্র। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দেশীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে নতুন করে গতিশীল করতে হবে।
জাদুশিল্পী জুয়েল আইচের অবদানের কথা উল্লেখ করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, তিনি বাংলাদেশের জাদুশিল্পকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করেছেন। তাঁর মতো গুণী শিল্পীদের কর্ম ও অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদেরও উত্তরসূরি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁদের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে পারে।
জাদুশিল্পের বিকাশে শিল্পীদের নিজস্ব উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে আবদুস সালাম বলেন, কোনো শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে সংশ্লিষ্ট শিল্পীদের নিজেদের যোগ্যতা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি এবং তাঁদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি ও জাদুশিল্পী মো. ছফির উল্লাহ শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে পদক বিতরণ করেন আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্বনন্দিত জাদুশিল্পী ও প্রতিযোগিতার প্রধান বিচারক জুয়েল আইচ। এ ছাড়া বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক জোটের মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী লেখক ফোরামের সভাপতি কবি শাহীন রেজা এবং এসপিবিএনের ডিআইজি ড. শোয়েব রিয়াজ আলম।
অনুষ্ঠানে থাইল্যান্ডের বিশ্বখ্যাত জাদুশিল্পী ডা. ম্যান (পিটাক)সহ দেশি-বিদেশি জাদুশিল্পী, বিচারক, সংগঠক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক বাংলাদেশ যাদুকর পরিষদের সভাপতি মো. ছফির উল্লাহ শিকদার বলেন, দেশের জাদুশিল্পের বিকাশ, প্রতিভাবান জাদুশিল্পীদের খুঁজে বের করা এবং তাঁদের দক্ষতা ও সৃজনশীলতার স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে জাদুশিল্পীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জাদুশিল্পকে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ প্রতিযোগিতা দেশের জাদুশিল্পের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং নতুন প্রজন্মকে জাদুশিল্প চর্চায় উৎসাহিত করবে।